Posts

নিয়ামতপুর নিউ রোডে পুলিশের স্পেশাল ড্রাইভ

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        আসানসোলের নিয়ামতপুর নিউ রোড যেন আচমকাই এক চলমান ট্রাফিক পাঠশালায় পরিণত হলো! কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ি ও সাব-ট্রাফিক বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ট্রাফিক আধিকারিক মৃণাল কান্তি মুর্মুর নেতৃত্বে চলল এমন এক সাঁড়াশি অভিযান, যা দেখে মদ্যপ বাইকচালকদের চোলাই নেশা এক নিমেষে উবে যাওয়ার জোগাড়!     ​এদিনের এই মহাযজ্ঞের মূল লক্ষ্য ছিল দুটি- মাথায় হেলমেট ছাড়াই ঝড়ের বেগে ছুটে চলা হাওয়া-সওয়ারিরা এবং পেটে মদের সমুদ্র সেঁচে স্টিয়ারিং সামলানো ‘খোদ বাহাদুর’রা। নিউ রোডের বুকে গাড়ি থামিয়ে চালকদের যখন ব্রেথ অ্যানালাইজারে ফুঁ দিতে বলা হলো, তখন অনেকেরই ভক্তিভরে হাত জোড় করার দশা! হেলমেটহীন বীরপুরুষদের কপালে জুটল কঠোর আইনি থাপ্পড় আর মিষ্টি কথায় পুলিশি মোলাকাত।     ​পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জীবনটা কোনো সিনেমার রিল নয় যে রিটেক হবে! মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো মানে যমে হাত বাড়ানো। আগামী দিনেও খাকি উর্দিধারীদের এই কড়া নজরদারি জারি থাকবে। সুতরাং, বালি বা মদের নেশা যা-ই থাক না কেন, নিয়ামতপুরে নামলে ট্রাফিক আইন মা...

আসানসোলে বিদাইগড় খালে পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় জোরালো দাবি

Image
​ রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:      পবিত্র শ্রাবণ মাসের পবিত্র হাওয়ায় ভক্তির জোয়ারে ভাসছে শিল্পাঞ্চল। চিনাকুড়ি রামঘাট থেকে জল তুলে নিয়ামতপুর হয়ে বাবা চন্দ্রচূড় মন্দিরে জলাভিষেক করতে নামছেন হাজার হাজার শিবভক্ত। কিন্তু এই পুণ্যযাত্রার পথে আসানসোল পুরনিগমের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিদাইগড় শ্মশান কালী মন্দির সংলগ্ন ৩০ ফুট চওড়া জলনিকাশি চ্যানেলটি যেন এক মারণ ফাঁদ! ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী পাটাতন পেরিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে হাঁটছেন পুণ্যার্থীরা।       ​গত দুই সপ্তাহে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক কেশব পোদ্দারের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রায় দশ হাজার ভক্তের যাতায়াতের অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে এই ক্ষণস্থায়ী পদক্ষেপে বিপদের আশঙ্কা কাটেনি।        তাই আগামী রবি ও সোমবারের বিশাল জনস্রোতের কথা মাথায় রেখে, কুলটির বিধায়কের প্রতিনিধি সন্তোষ কুমার বর্মা (টিঙ্কু বর্মা) পুরনিগম কমিশনারের কাছে কড়া ভাষায় লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। হাইড্রা বা জেসিবি দিয়ে পাইপ বসিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী বা মজ...

বিহারি চালানে ঝাড়খণ্ডের বালির ‘অলৌকিক’ রূপান্তর! কোথায় হারাল বৈধতার বালাই?

Image
 সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:          বালি নিয়ে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে এখন শুধু এক অদ্ভুত ‘ভুতুড়ে’ মায়া! ঝাড়খণ্ডের বালি, বিহারের রাজকীয় চালান- আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছে রাজকীয় বালি-অভিযান। নথির ঠিকানাটাই নাকি ‘ভুতুড়ে’! ফলে বালির সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ঢুকছে রহস্যও।       ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, বৈধ পথে ব্যবসা করা কঠিন, অথচ ‘সহজ পথে’ আসা বালি কম দামে বাজার মাত করছে। তাঁদের প্রশ্ন, একদিকে বৈধ ব্যবসায়ীর কাগজের বোঝা, অন্যদিকে ভুয়ো পরিচয়ের হালকা চালান- এই প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত জিতবে কে? উত্তরটি যেন আগেই লেখা- যার ঘাড়ে নিয়মের বোঝা বেশি, তার পিঠেই ক্ষতির ভার বেশি! রাজনৈতিক মদতের অভিযোগও সামনে এসেছে, যদিও এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই হয়নি।         এদিকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালি আন্তঃরাজ্য পথে আসার দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘বিহারের চালান, ঝাড়খণ্ডের বালি’ এবং ‘ভুতুড়ে ঠিকানা’র গল্প। সত্যিই যদি এমন হয়, তবে প্রশ্ন শুধু বালির নয়- রাজস্ব, জিএসটি, রয়্যালটি ও প্রশাসনিক নজরদারিরও।        বালি শেষ পর্যন্...

আজকের দিনপঞ্জি

Image
প্রাত্যহিক প্রভাতী শুভেচ্ছা আজ: ২৬ শ্রাবন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বুধবার, ইংরেজী: ১২ আগষ্ট ২০২৬। সূর্য উদয়: সকাল ০৫:১৫:০৪ এবং সূর্য অস্ত: বিকাল ০৬:১০:১৭। চন্দ্র উদয়: সকাল ০৫:৩২:৪৬ এবং চন্দ্র অস্ত: বিকাল ০৬:৪০:৩৪। কৃষ্ণ পক্ষ  তিথি: অমাবস্যা (পূর্ণা) রাত্রি: ১১:২৬:৩৬ দং ৪৫/২৮/৩৫ পর্যন্ত। নক্ষত্র: অশ্লেষা  কালরাত্রি: ০২:২৮:১৩ থেকে - ০৩:৫১:৪১ পর্যন্ত। জন্মের সময়ে কর্কট রাশি, বিপ্র বর্ন, দেব গন, অষ্টোত্তরী চন্দ্রর দশা এবং বিংশোত্তরী শনির দশা। শুভ দিন: নব বস্ত্র পরিধান, হলপ্রবাহ ও বীজ বপন, ক্রয় শুভ, বিক্রি অশুভ, দোকান আরম্ভ। অমাবস্যার ব্রতোপবাস ও নিশিপালন। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতবর্ষে অদৃশ্য)। দিনটি সফল ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক।

শ্রেণিকক্ষে ভাঙল বিশ্বাসের দাঁত: নিরাপত্তার কঙ্কালসার চিত্র

Image
চিত্তরঞ্জন প্রসাদ, চিত্তরঞ্জন -:      ​বিদ্যালয় কি কেবল পুঁথিগত বিদ্যার পাঠশালা, নাকি শিশুর দ্বিতীয় সুরক্ষিত ঘর? চিত্তরঞ্জনের ডিভি বয়েজ স্কুলের (হিন্দি মাধ্যম) তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রৌশন কুমারের ওপর নেমে আসা একের পর এক খড়্গ আজ এই মৌলিক প্রশ্নটিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাল। সহপাঠীদের মারধরের অভিযোগ থেকে শুরু করে ছুটির সময়ে অভিভাবক কর্তৃক হাত মুচড়ে দেওয়া- সব ছাপিয়ে চরম সীমা ছাড়ায় যখন রেলের এই স্কুলেরই শিক্ষক নিগম রায়ের মারধরে ভেঙে যায় শিশুটির একটি দাঁত।       ​তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা প্রমাণের অপেক্ষা থাকলেও, ঘটনার ধারাবাহিকতা ও নজরদারির ফাঁকফোকর আজ এক ভয়ানক অব্যবস্থার ছবি ফুটিয়ে তুলেছে। প্রধান শিক্ষকের উদাসীন মন্তব্য বা রেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা প্রমাণ করে, শিক্ষালয়ের চত্বরে শিশুদের সুরক্ষার বর্ম আজ কতটা ঠুনকো।         জ্ঞানের আলো দেওয়ার জায়গায় যদি শিশুদের শরীরে নেমে আসে হিংসার আঘাত, তবে অভিভাবকের প্রশ্ন- এই নিরাপত্তাহীনতার দায় কার?

বুলডোজারের আওয়াজে ভাসছে মানুষের অধিকার: সরব মানবাধিকার কমিশন

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ​পশ্চিম বর্ধমানের মাইথনের ডিভিসি লেফট ব্যাঙ্ক কলোনি এবং কল্যাণেশ্বরীর মাটিতে এখন কেবলই ভাঙচুরের কর্কশ শব্দ। আবাসন ভাঙার মহোৎসব চলছে, অথচ কার ইশারায় বা কোন জাদুমন্ত্রে এই ধ্বংসলীলা শুরু হলো- তার কোনো সদুত্তর নেই সাধারণ মানুষের কাছে। বিনা নোটিসে একের পর এক কোয়ার্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনায় এবার সরাসরি আসরে নেমেছে জাতীয় মানবাধিকার ও মহিলা-বাল উন্নয়ন কমিশন।      ​কমিশনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি অনুজ সিংহের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট হয়েছে গভীর এক উদ্বেগের ছবি। কোয়ার্টারগুলো কি আদতেই বসবাসের অযোগ্য, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বাণিজ্যিক অভিসন্ধি- সেই প্রশ্ন তুলে ডিভিসির কাছে জবাব তলব করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভবন ভাঙার নামে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে শতবর্ষী ফলদ ও ছায়াদায়ী গাছ। বন দফতর বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কোনো তোয়াক্কা না করেই কি চলছে এই ধ্বংসযজ্ঞ? প্রশ্ন উঠেছে কাজের ঠিকাদার সংস্থার ভূমিকা নিয়ে।        ​ইতিমধ্যে চিঠির অনুলিপি পৌঁছে গেছে জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে স্থানীয় বিডিও...

‘আন্তরিক’-এর আঙিনায় আগস্টের মহাকাব্যিক আড্ডা

Image
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:      ​২২শে শ্রাবণের দীর্ঘশ্বাস তখনও বাতাসে ভাসছিল, তার পরেই মিশে গেল ১৫ই আগস্টের রক্তস্নাত স্বাধীন তেরঙা পতাকা। বর্ষার মেঘভরা আকাশ আর ভাদ্রের আগমনী ছোঁয়া- সব মিলিয়ে দুর্গাপুরের আপনজন সভাগৃহ সম্প্রতি সাক্ষী রইল এক অলোকসামান্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলার।        দুর্গাপুরের সুপরিচিত সাহিত্যিক সংগঠন  ‘আন্তরিক’ সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এই আগস্ট আড্ডা নিছক কোনো অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল বাঙালির মনন, আবেগ ও দেশপ্রেমের এক নিখাদ অর্ঘ্য।       ​আবহমান বাংলার দুই ধ্রুবতারা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি-বিজড়িত সুর ও বাণীর মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে সভাগৃহ। ২২শে শ্রাবণের অন্তিম শ্রদ্ধা থেকে শুরু করে নজরুলের বিদ্রোহী প্রয়াণ দিবসের বিষণ্ণ সুষমা, শহিদ দিবসের নিস্তব্ধ তর্পণ- প্রতিটি পঙ্‌ক্তিতে জীবন্ত হয়ে ওঠে ইতিহাসের অমর অধ্যায়। এর মাঝেই রক্তিম পতাকার ছায়ায় স্মরণ করা হয় সেই বীর শহিদদের, যাঁদের সর্বত্যাগী রক্তে আজ আমরা স্বাধীন আকাশের নিচে নিঃশ্বাস নিই।        এই উ...