‘আন্তরিক’-এর আঙিনায় আগস্টের মহাকাব্যিক আড্ডা
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
২২শে শ্রাবণের দীর্ঘশ্বাস তখনও বাতাসে ভাসছিল, তার পরেই মিশে গেল ১৫ই আগস্টের রক্তস্নাত স্বাধীন তেরঙা পতাকা। বর্ষার মেঘভরা আকাশ আর ভাদ্রের আগমনী ছোঁয়া- সব মিলিয়ে দুর্গাপুরের আপনজন সভাগৃহ সম্প্রতি সাক্ষী রইল এক অলোকসামান্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলার।
দুর্গাপুরের সুপরিচিত সাহিত্যিক সংগঠন ‘আন্তরিক’ সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এই আগস্ট আড্ডা নিছক কোনো অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল বাঙালির মনন, আবেগ ও দেশপ্রেমের এক নিখাদ অর্ঘ্য।
আবহমান বাংলার দুই ধ্রুবতারা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি-বিজড়িত সুর ও বাণীর মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে সভাগৃহ। ২২শে শ্রাবণের অন্তিম শ্রদ্ধা থেকে শুরু করে নজরুলের বিদ্রোহী প্রয়াণ দিবসের বিষণ্ণ সুষমা, শহিদ দিবসের নিস্তব্ধ তর্পণ- প্রতিটি পঙ্ক্তিতে জীবন্ত হয়ে ওঠে ইতিহাসের অমর অধ্যায়। এর মাঝেই রক্তিম পতাকার ছায়ায় স্মরণ করা হয় সেই বীর শহিদদের, যাঁদের সর্বত্যাগী রক্তে আজ আমরা স্বাধীন আকাশের নিচে নিঃশ্বাস নিই।
এই উদযাপনের পরিধি কেবল অতীতে আটকে থাকেনি। বন্ধুত্বের উষ্ণতা আর রাখীবন্ধনের পবিত্র সুতোয় রচিত হয় এক অবিচ্ছেদ্য সম্প্রীতির সেতু। মঞ্চে যখন একে অপরকে রাখী পরিয়ে দিচ্ছেন, তখন যেন মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছিল- মানুষে মানুষে বিভেদের দেয়াল ভেঙে ভালোবাসাই একমাত্র শাশ্বত ধর্ম। নৃত্য, গান, কবিতা ও তাত্ত্বিক আলোচনায় শিল্পী ও সাহিত্যপ্রেমীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক অন্য উচ্চতা ছুঁয়ে যায়।
আহ্বায়ক সোমা সরকার ও সম্পাদক অন্তরা সিংহরায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই সাহিত্য সভা প্রমাণ করল, হৃদয়ের গভীরে যদি দেশপ্রেম আর সংস্কৃতির টান থাকে, তবে প্রতিটি ঋতুই হয়ে ওঠে উৎসব। কবিদের প্রতি ভালোবাসা, শহিদদের প্রতি বিনম্র কৃতজ্ঞতা আর মানুষের হাতের ছোঁয়া- এই চার সুরের মূর্ছনায় সার্থক হয়ে উঠল ‘আন্তরিক’-এর আগস্ট আড্ডা।
Comments
Post a Comment