Posts

আসানসোল গ্রামের নয় দুর্গা, ঐতিহ্যের আলোয় আজও অমলিন সাবেকিয়ানা

Image
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:          আধুনিকতার ঝলমলে আলোর মাঝেও কোথাও কোথাও সময় যেন থমকে দাঁড়ায় ঐতিহ্যের উঠোনে। রাঢ়বাংলার বুক চিরে বয়ে চলা ইতিহাসের পথ ধরে, আসানসোল শহরের অন্দরেই অবস্থিত এক প্রাচীন জনপদ- আসানসোল গ্রাম। যেখানে দুর্গাপুজো নিছক প্রতিমা প্রদর্শনী নয়; এ হলো বিশ্বাস, ইতিহাস, রক্তের টান এবং আধ্যাত্মিক পরম্পরার এক জীবন্ত মহাকাব্য।        ​প্রায় ২৯৩ বছর আগের কথা। তখন ঘনায়মান অন্ধকারে বর্গীর হানায় রক্তাক্ত রাঢ়বাংলা। পঞ্চকোট রাজার দুই বীর সেনানী- নকড়ি রায় ও রামকৃষ্ণ রায়- অসিহাতে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন সেই জবরদখল। জনশ্রুতি বলে, তাঁদের হাত ধরেই এই জনপদে সূচিত হয়েছিল দুর্গোৎসবের। সময়ের রথে চড়ে পরিবারের শাখা-প্রশাখা ছড়ালেও সেই মূল স্রোত আজও বহমান। বড় দুর্গা, মেজ দুর্গা, ছোট দুর্গা- এমন নানা নামে বিভক্ত হয়ে আজ সেখানে নয়টি পুজো প্রবহমান, কিন্তু তাদের নাড়ির যোগ এক ও অভিন্ন।      ​এই পুজোর প্রতিটি পরতে রয়েছে রূপকথার আবেশ। মহাসপ্তমীর প্রত্যুষে যখন চারদিক ঘুমিয়ে, তখন গ্রামের ...

কয়লার কালো কারবারে ফের ইডির কোপ, ১৩৬ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

Image
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:       কয়লার কালো ধোঁয়ায় ঢাকা এক দীর্ঘ তদন্তের পর ফের বড়সড় পদক্ষেপ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি)। পশ্চিমবঙ্গের বহুচর্চিত অবৈধ কয়লা খনন ও পাচার মামলায় মূল অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে ‘লালা’ এবং তাঁর কথিত সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তির বিরুদ্ধে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ) ২০০২-এর অধীনে ১৩৬.৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। এর ফলে এই মামলায় এখনও পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মোট মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১৫.০৮ কোটি টাকা।         ইডির দাবি, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ইসিএল) লিজ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন ও চুরির অভিযোগ রয়েছে। সেই কয়লা বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়েছে বলেও তদন্তকারীদের অভিযোগ। ওই অর্থের উৎস আড়াল করতে একাধিক সংস্থা ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে।       সাম্প্রতিক পদক্ষেপে পুরুলিয়ার গড় পাঞ্চকোট ইকো ট্যুরিজম এবং বাঁকুড়ার বিহারীনাথ ইকো ট্যু...

মহাসপ্তমীর ভোরে কলাবউ স্নান, ভক্তির ঢেউ নিয়ামতপুরের পুকুরঘাটে

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       মহাসপ্তমীর ভোর। শরতের নরম আলোয় যখন চারপাশ ধীরে ধীরে জেগে উঠছে, তখনই শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্যি আর মন্ত্রোচ্চারণে মুখর হয়ে উঠল কুলটির নিয়ামতপুর সরকার পুকুরঘাট। নবপত্রিকা স্নানকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই সেখানে ভক্তদের ঢল নামে।      এলাকার একাধিক মন্দির ও পুজো মণ্ডপের পুরোহিত ও ভক্তরা সাড়ম্বরে নবপত্রিকা, অর্থাৎ কলাবউকে নিয়ে হাজির হন পুকুরঘাটে। ঢাকের তালে, শঙ্খের ধ্বনিতে আর ভক্তির আবেশে সম্পন্ন হয় কলাবউ স্নানের পবিত্র আচার।      শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, নয়টি উদ্ভিদের সমন্বয়ে তৈরি নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে দেবী দুর্গার পাশে স্থাপন করা হয়। এই আচারকে ঘিরে প্রতিবছরই ভক্তদের মধ্যে দেখা যায় গভীর আবেগ ও উৎসাহ।     মহাসপ্তমীর সূর্য ওঠার আগেই তাই নিয়ামতপুর সরকার পুকুরঘাটে যেন নেমে আসে উৎসবের এক অন্য আলো- ভক্তি, ঐতিহ্য আর শারদীয় আবেগে নতুন করে শুরু হয় দেবী আরাধনার পর্ব।

কলাবউয়ের আড়ালে মহাশক্তি!

Image
বাসুদেব চ্যাটার্জ্জী, আসানসোল-:       শিউলির সুবাস, ঢাকের বোল আর উলুধ্বনির আবহে সপ্তমীর ভোরে নদীজলে স্নাত হন প্রকৃতির নয় রূপ। লালপাড় সাদা শাড়িতে আবৃত নবপত্রিকা যেন স্মরণ করিয়ে দেয়- মাটির বুকেই লুকিয়ে রয়েছে মহাশক্তির চিরন্তন প্রকাশ।        দুর্গাপুজোর অন্যতম প্রাচীন ও তাৎপর্যপূর্ণ আচার- নবপত্রিকা স্নান। নদী কিংবা পুকুরের জলে শাস্ত্রবিধি মেনে স্নান করিয়ে, নতুন লালপাড় সাদা শাড়িতে আবৃত করে মণ্ডপে নিয়ে আসা হয় একগুচ্ছ সবুজ উদ্ভিদকে। সিঁদুরের রাঙা স্পর্শে, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ঢাকের বোলে প্রকৃতির এই সমাহার হয়ে ওঠে দেবীবন্দনার জীবন্ত প্রতীক।       গণেশের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শাড়ি পরানো কলাগাছটি কি সত্যিই ‘কলাবউ’, গণেশের স্ত্রী? শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় নবপত্রিকা গণেশের পত্নী নন। গণেশের দুই পত্নী হিসেবে রিদ্ধি ও সিদ্ধির নাম প্রচলিত। নবপত্রিকা আসলে দুর্গাপুজোর এক বিশেষ পূজ্যরূপ, যার মধ্যে নিহিত রয়েছে প্রকৃতি, কৃষিজীবন এবং দেবীশক্তির আরাধনা।       ‘নবপত্রিকা’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ন'টি পাতা। ন'টি পৃথক উদ্ভিদ একত...

আজকের দিনপঞ্জি

Image
প্রাত্যহিক প্রভাতী শুভেচ্ছা আজ: ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ইংরেজী: ১৭ অক্টোবর ২০২৬। সূর্য উদয়: সকাল ০৫:৩৮:১৬ এবং সূর্য অস্ত: বিকাল ০৫:০৮:০০। চন্দ্র উদয়: শেষ রাত্রি ০৩:০৬:৩৩ এবং চন্দ্র অস্ত: বিকাল ০৩:৪৩:৪১। শুক্ল পক্ষ  তিথি: মহাসপ্তমী নক্ষত্র: মূলা সকাল ঘ ৮:২৬:৩৫ দং ৭/৩/১.৯৯ পর্যন্ত পরে পূর্বাষাঢ়া। কালরাত্রি: ০৫:০৬:০৭ থেকে - ০৬:৪০:০৫ পর্যন্ত, তারপর ০৪:০৩:৫০ থেকে - ০৫:৩৭:৪৮ পর্যন্ত। জন্মের সময়ে ধনু রাশি, ক্ষত্রিয় বর্ণ, রাক্ষস গণ, অষ্টোত্তরী শনির দশা, বিংশোত্তরী কেতুর দশা। শুভ দিন: কারবার: ক্রয় শুভ, বিক্রি অশুভ। শ্রীশ্রীশারদীয়া দূর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ,স্থাপন ও সপ্তমী পূজা। দেবীর ঘটকে আগমন।ফল ছত্রভঙ্গ। দেবীর নবরাত্রিক আজ দেবী কালরাত্রি রূপে পুজিত। দিনটি সফল ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক।

উৎসবের আলোয় মিলনের বার্তা, হনিধরা মিলন শক্তির দুর্গাপুজোর শুভ উদ্বোধন

Image
রিমা ঘোষ, নিউজ হিন্দুস্থান -:        শারদোৎসবের আবহে আনন্দের রঙে সেজে উঠল আমতার হনিধরা। উৎসবের আলোয় মিলন ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে শুভ সূচনা হল হনিধরা মিলন শক্তির দুর্গাপুজোর। শুক্রবার পুজোর শুভ উদ্বোধন করেন আমতার জনপ্রিয় বিধায়ক অমিত সামন্ত।      উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রমথ নাথ কর, অভিজিৎ দাস, সুমিত দাস, ঝুনটু খাঁড়া-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উপস্থিত ছিলেন হনিধরা মিলন শক্তির সদস্যরাও। তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগে এদিনের অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জয়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকও।      পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনার সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপ চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের উচ্ছ্বাস। ঢাকের বাদ্যি, শারদীয় আবেগ আর মানুষের মিলন—সব মিলিয়ে যেন গ্রামবাংলার চিরচেনা উৎসবের ছবি ফুটে ওঠে। পুজোকে ঘিরে উদ্যোক্তাদের বার্তা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই উৎসব হোক মানুষের মিলনেরও উপলক্ষ্য।      হনিধরা মিলন শক্তির সদস্য পলাশ বেরা ও নাড়ু মাইতি সহ আয়োজকদের সক্রিয় উদ্যোগে পুজো ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈর...

সইয়ের অঙ্গীকারে নিরাপদ পথ, পুজোর আনন্দে আসানসোল-দুর্গাপুর-এ সচেতনতার বার্তা

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:            পুজোর আলোয় শহর যখন উৎসবের রঙে রঙিন, তখন সেই আলোর পথ যেন দুর্ঘটনার অন্ধকারে হারিয়ে না যায়- এই সচেতনতার বার্তাই উঠে এল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের উদ্যোগে। দুর্গাপূজার আবহে গ্যালাক্সি মলে শুরু হল ‘ট্র্যাফিক সেফটি সিগনেচার ক্যাম্পেইন’। লক্ষ্য একটাই- নিয়ম মেনে চলার অভ্যাসকে ব্যক্তিগত অঙ্গীকারে পরিণত করা।      এই প্রচারাভিযানে নাগরিকদের ট্র্যাফিক আইন মেনে চলা, দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার প্রসারে নিজেদের ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। শুধু পুলিশের নজরদারি নয়, পথের নিরাপত্তা যে প্রত্যেক মানুষের সচেতন সিদ্ধান্তের উপরও নির্ভরশীল- সেই কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে এই উদ্যোগ।        অভিযানের সূচনায় পুলিশ কমিশনার নিজে অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করে নাগরিকদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। পাশাপাশি বিশেষভাবে তৈরি ‘রোড সেফটি সেলফি পয়েন্ট’ দর্শনার্থীদের উৎসাহিত করছে নিরাপত্তার বার্তা নিজেদের মধ্যেই ছড়িয়ে দিতে।       পুজোর আনন্দে পথ...