Posts

উৎসবের রাঙা আলোয় মেতে উঠল আইটিআই মোড় ও রাঙ্গামাটিয়া

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:          ​ভাদ্রের শেষ বিকেলের নরম সোনাঝরা আলোয় সেজে উঠল পশ্চিম বর্ধমানের রূপনারায়ণপুর। ভক্তি, শ্রদ্ধা আর রাজকীয় জমকালো আয়োজনের কোলাহলে উদযাপিত হলো ‘ফ্রেন্ডস জোন’-এর দ্বিতীয় বর্ষের গণেশ পূজা। হিন্দুস্তান কেবেলসের আইটিআই মোড়ের কাছে আয়োজিত এই পূজামণ্ডপে যেন উপচে পড়েছিল ভক্তি ও আনন্দের অশেষ জোয়ার।      শিল্পীদের নিখুঁত কারুকাজে গড়া ১২ ফুটের চোখ ধাঁধানো গণেশ প্রতিমা ও নান্দনিক আলোকসজ্জা সন্ধ্যে নামতেই রূপ নিয়েছিল এক মায়াবী রূপকথায়। বসে আঁকো, মিউজিক্যাল চেয়ার, লোকসংগীতের মেলা আর দরদী নরনারায়ন সেবায় পূর্ণতা পেল এই আনন্দ উৎসব।      ​অন্যদিকে, উৎসবের ঠিক এই পরম স্পর্শেই দুর্গাপূজার মহিমময় আগমনী সুর বেজে উঠল পশ্চিম রাঙ্গামাটিয়ার নিউ স্টার ক্লাবে। সোমবার শুভ মুহূর্তে ফিতে কেটে এবং ভক্তিভরে অঞ্জলি প্রদান করে এই পুজোমণ্ডপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায়।       অনুষ্ঠানে স্থানীয় খুদে পড়ুয়া ও ক্লাব সদস্যদের আন্তরিক সংবর্ধনায় আপ্...

পাতায়ার আকাশে বার্ণপুরের জয়কেতন, যোগাসনে স্বর্ণালী ছোঁয়ায় স্বস্তির স্বপ্নপূরণ

Image
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:      ​সংসারের নিত্যনৈমিত্তিক টানাপোড়েন, ভোর চারটের নিঝুম আলোয় জেগে ওঠার সংগ্রাম আর হেঁশেলের প্রতিদিনের ব্যস্ততা- সবটুকু পার করেই এক গৃহবধূ রূপ নিলেন বিশ্বজয়ের নায়িকায়। থাইল্যান্ডের পাতায়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক যোগাসন প্রতিযোগিতায় ৪২ থেকে ৫০ বছর বয়সী বিভাগে স্বর্ণপদক জিতে ভারতের নাম উজ্জ্বল করলেন পশ্চিম বর্ধমানের বার্ণপুর বৈষ্ণববাঁধের মেয়ে পম্পা পাল।       কেবল তিনি একা নন, প্রতিযোগিতা থেকে মোট ৪৯ জন বঙ্গসন্তানের ঝুলিতে এসেছে ১৯টি সোনা, ১৭টি রূপো ও ৯টি ব্রোঞ্জ। বিশ্বের নয়টি দেশের সাথে হাড্ডাহাড্ডি টক্করে তিন আবশ্যিক ও দুই ঐচ্ছিক আসনের সূক্ষ্ম ভারসাম্যে ধরা দিল বাঙালির এই অমলিন বিশ্বজয়।       ​তবে এই জয়ের আনন্দের নিচে লুকিয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। প্রাইভেট টিউশন, বিকেল-সকালের যোগাসন প্রশিক্ষণ আর ঘরের দায়িত্ব সামলে তৈরি হওয়া সেই সোনায় মোড়া পদকের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। জাতীয় স্তরের বিচারিক জটিলতা ও পরিকাঠামোগত অজুহাতে জেলা ও রাজ্য পর্যায়ে আটকে যাওয়...

জলের বুকে কর্পোরেট ছায়া- কালীপাথরে প্রতিবাদের দাবানল

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:     মাইথনের শান্ত নীল জলরাশির বুকে আজ এক গভীর সংকটের বিষাদচ্ছায়া। উন্নয়নের নামে ডিভিসি-র প্রস্তাবিত 'ভাসমান সোলার প্রজেক্ট '-এর বিরুদ্ধে সোমবার গর্জে উঠল ২২টি মৌজার ৪০টি গ্রামের প্রস্ফুটিত জনরোষ। ‘জল, জঙ্গল, জমি আমাদের অধিকার’—এই রক্তগরম করা হুঙ্কারে কেঁপে উঠল কালীপাথর ময়দানের আকাশ-বাতাস। ‘দামোদর ভ্যালি বাস্তুহারা সংগ্রাম সমিতি’ এবং ‘ল মহল ও খেরওয়াল মহল’-এর যৌথ আহ্বানে আয়োজিত জনসভায় সমবেত হয়েছিলেন হাজার হাজার ক্ষুব্ধ আদিবাসী ও মূলবাসী মানুষ।     ​যে জলাধারের ইতিহাস গড়ে উঠেছিল অতীতের হাজারও পরিবারের ভিটেমাটি হারানোর অশ্রু দিয়ে, আজ সেই অবশিষ্টাংশেও বসাচ্ছে কর্পোরেট থাবা। বাস্তুহারাদের না মিলল উপযুক্ত পুনর্বাসন, না মিলল স্থায়ী কাজের আশ্বাস; উল্টে এবার ড্যামের বুকে সোলার প্যানেল বসিয়ে জলজ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস ও মৎস্যজীবীদের পেটে লাথি মারার চক্রান্ত শুরু হয়েছে।         সুরেশ সরেন, পরেশ মারান্ডি ও সভাপতি বাসুদেব মাহাতোর মতো আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে তাই ঝরে পড়ল আপসহীন সুর- "প্রাণ দেব, তবু...

বুকের ভেতরে নদীর রক্তক্ষরণ, সিঙ্গারন বাঁচানোর আকুল আর্তনাদে গর্জে উঠল কুনুস্তোড়িয়া

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ​উন্নয়নের ঝাঁ-চকচকে ছদ্মবেশে আজ নিঃশব্দে এক জনপদের প্রাণস্পন্দন কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র। ইসিএল -এর এমডিও প্রকল্পের অশুভ থাবায় বেলবাদ-পরাসিয়া এলাকায় গতিপথ বদলাতে চলেছে শতাব্দী প্রাচীন সিঙ্গারন নদীর। কিন্তু মাটির টানে, নদীর ভালোবাসায় গর্জে উঠল গৃহহারা মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। সোমবার কুনুস্তোড়িয়া এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার অফিসের সামনে প্রতিবাদের ঝড় তুলে স্মারকলিপি জমা দিল ‘সিঙ্গারন নদী বাঁচাও কমিটি’।        ​নদী তো কেবল পলি-জলের ধারা নয়, সে যে এ অঞ্চলের অস্তিত্ব, জীবিকার এক অমলিন মহাকাব্য! কৃত্রিমভাবে তার গতি রোধ করলে শুকিয়ে যাবে শস্যশ্যামল জমি, নামবে পাতাল জলের স্তর, নির্বিচারে জঙ্গল কাটার ফলে দেখা দেবে ভয়ঙ্কর ভূমিধস। নেপালের সাম্প্রতিক হড়পা বান আর ধ্বংসলীলার ভয়াবহ ক্ষত আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়- প্রকৃতির শিরা কাটার মাশুল কতটা বিষাক্ত হতে পারে।      ​"নদী ও জঙ্গল আমাদের জীবন, পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন মানবো না"- বিক্ষোভকারীদের এই ক্ষুব্ধ হুঙ্কারে কেঁপে উঠল আসানস...

উৎসবের আলোয় আঁধার বুনছে বকেয়া: প্রতিবাদে ঠিকাদাররা

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ​সামনেই আলোর উৎসব দুর্গাপুজো। ঢাকের কাঠি পড়ার অপেক্ষায় যখন চারপাশ মুখরিত, ঠিক তখনই আসানসোল ইসমাইলের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সামনে ঘনিয়ে এসেছে এক বিষণ্ণতার মেঘ। ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে 'জল জীবন মিশন'-এর প্রদীপে যাঁরা শ্রমের তেল জুগিয়েছিলেন, আজ সেই ঠিকাদারদের ঘরেই শুধুই অনিশ্চয়তার অন্ধকার। কাজ শেষ করেও বকেয়া বিল না পাওয়ায় শেষমেশ রাজপথে অবস্থান বিক্ষোভে বসতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।      বারবার দুয়ারে কড়া নেড়েও মেলেনি কোনো সুরাহা। উৎসবের মুখে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন এই মেহনতি মানুষগুলো।       আধিকারিকদের আশ্বাসের বাণীতে আর মিটছে না উদরের ক্ষুধা কিংবা পাওনাদারের দাবি। ঠিকাদারদের স্পষ্ট বার্তা- তাঁদের হকের পাওনা অবিলম্বে মেটাতে হবে, যাতে আলোর উৎসবে তাঁদের পরিবারকেও অন্ধকারে ডুবে যেতে না হয়।       ​দপ্তরের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সান্ত্বনা হয়তো এসেছে, কিন্তু আজ কেবলই দ্রুত ফয়সালার দাবি। ন্যায়সংগত অধিকারের এই ল...

আজকের দিনপঞ্জি

Image
প্রাত্যহিক প্রভাতী শুভেচ্ছা আজ: ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সোমবার, ইংরেজী: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সূর্য উদয়: সকাল ০৫:২৬:২৯ এবং সূর্য অস্ত: বিকাল ০৫:৪১:৩৫। চন্দ্র উদয়: সকাল ০৮:০৬:২৪ এবং চন্দ্র অস্ত: সন্ধ্যা ০৭:৩১:৫৬। শুক্ল পক্ষ  তিথি: চতুর্থী (রিক্তা) সকাল ঘ ০৭:৩২:৩৩ দং ৫/১৬/৪২.৫ পর্যন্ত। নক্ষত্র: চিত্রা  কালরাত্রি: ১০:০৩:০৯ থেকে - ১১:৩১:৩৮ পর্যন্ত। জন্মের সময়ে তুলা রাশি, শুদ্র বর্ন, রাক্ষস গন, অষ্টোত্তরী বুধের দশা এবং বিংশোত্তরী মঙ্গলের দশা। শুভ দিন: অন্নপ্রাশন, গৃহপ্রবেশ, হলপ্রবাহ ও বীজ বপন, নবান্ন, ক্রয় শুভ, বিক্রি অশুভ, দোকান আরম্ভ, ধান্যচ্ছেদন। সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস। দিনটি সফল ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক।

চাকার নিচে প্রতিবাদের আগুন: তোলাবাজির ছায়ায় স্তব্ধ মিনিবাসের চাকা

Image
ফাইনাল এক্সপোজার চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:     ​যন্ত্রের চাকা স্তব্ধ করে রাজপথে যখন হাহাকার নেমে আসে, তখন বুঝতে হবে জমানো ক্ষোভের বাঁধ ভেঙে গেছে। আসানসোল স্টেশন পার্কিংয়ে মিনিবাস দাঁড় করানোকে কেন্দ্র করে জোরজুলুম ও তোলাবাজির কালো থাবায় অতিষ্ঠ হয়ে রবিবার বার্ণপুর বাসস্ট্যান্ডে মিনিবাস চালানো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলেন আসানসোল-বার্ণপুর রুটের বাসচালকেরা। ক্ষুব্ধ কর্মীদের অভিযোগ, প্রতিটি ট্রিপে বলপূর্বক ৫০ টাকা দাবি করা হচ্ছে; রাজি না হলেই মিলছে অকথ্য গালিগালাজ ও শারীরিক নিগ্রহ।    ​অটো ও টোটোর দাপটে এমনিতেই রুজিরুটিতে টান পড়েছে চালকদের, তার ওপর প্রতিটি ফেরিতে পার্কিংয়ের নামে এমন স্বেচ্ছাচারী তোলা আদায় মালিকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। ১৩ নম্বর মোড়ে দাঁড়ালে মিলছে আরপিএফ-এর ধাওয়া, অথচ স্টেশনের চেনা বাসস্ট্যান্ডে নেই কোনো দাঁড়ানোর আইনি ঠাঁই।      প্রতিকারহীন এই ব্যবস্থার প্রতিবাদে বার্ণপুর বাসস্ট্যান্ডে গর্জে উঠেছেন ক্ষুব্ধ পরিবহণ কর্মীরা। চালকদের সাফ বার্তা- ন্যায়সঙ্গত সমাধান না মেলা পর্যন্ত রাজপথে ঘুরবে না বাস। পার্কিংয়ের নাম...