Posts

পার্কস্ট্রিটের পিচে সভ্যতার কঙ্কাল: দুধের কড়া নামিয়ে বড়াইয়ের মন্ত্রী ও ভেকধারী নগর-উন্নয়ন

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ​চকচকে অ্যাসফল্টে মোড়া পার্কস্ট্রিটের ফুটপাত- যেখানে বুটজুতার অভিজাত মটমট শব্দ আর কর্পোরেট সুগন্ধির ভিড়ে গরিবের অস্তিত্ব এক আস্ত কলঙ্ক। কিন্তু সেই কংক্রিটের ওমে যখন এক অসহায় মা তাঁর শীর্ণ শিশুর জন্য স্টোভে দুধ গরম করছিলেন, তখন তা সভ্যতার চোখে ‘শৃঙ্খলার পরিপন্থী’ হয়ে ওঠে। মন্ত্রীর পবিত্র নজর এড়াল না ফুটপাতের সেই ‘অপরাধ’! হুকুম হলো, অবিলম্বে বন্ধ হোক রান্না। মায়ের কাতর আর্জি, দুধটা নিজের নয়, অবুঝ বাচ্চার ক্ষুধার জ্বালা মেটানোর- কিন্তু কে শোনে কার কথা? আইনের অন্ধ খড়্গ নেমে এল, আর নিভে গেল দুধের কড়া।       ​প্রশ্ন ওঠে, ফুটপাত খালি করার আইনি দায়িত্ব কি তবে মানবতা বিসর্জনের লাইসেন্স? আইন বলতেই পারে ফুটপাথে উনুন চলবে না, কিন্তু সেই মুহূর্তে কি একটুও মায়া দেখানো যেত না? দুধটুকু গরম হতে দিয়ে শিশুটিকে খাইয়ে নেওয়ার সামান্য সময়টুকু দিলে রাষ্ট্র বা প্রশাসন কি রসাতলে যেত? না কি তাতে মন্ত্রীর ক্যামেরাবন্দি ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ ইমেজে একটু ধুলো লাগত?        ​আজকের দিনে প্রশাসন মানেই লাইভ টেলিক...

রাজনীতির অলিন্দে ফুটপাত দখল বনাম উন্নয়নের ডঙ্কা!

Image
​ রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ​পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জে এমএলএ কাপের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে রাজ্যের নীতি ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে ফের একবার সুর চড়ালেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রবিবারের বিকেলে যুব সমিতি ফুটবল গ্রাউন্ডে আয়োজিত সেই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মঞ্চ হয়ে ওঠে রাজনীতির উত্তপ্ত তরজার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও ফুটপাত উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা, আর অন্যদিকে সিপিএম ও তৃণমূল জমানার কড়া সমালোচনা—সব মিলিয়ে এক হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক আবহের সৃষ্টি হয়।       ​মন্ত্রীর স্পষ্ট অভিযোগ, বর্তমান সরকার বাংলার সার্বিক উন্নয়নে ব্রতী হলেও বিরোধীরা প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা সৃষ্টি করছে। ফুটপাত জবরদখল মুক্ত করে পথচারীদের চলাচলের রাস্তা সুগম করতে গেলে বা অবৈধ পার্কিং হঠাতে গেলে সরকারকে 'অমানবিক' তকমা দেওয়া হচ্ছে।       অথচ ফুটপাতের অভাবে পথচলতি মানুষের প্রাণসংশয় ও দুর্ঘটনার চিত্রটা বিরোধীদের চোখে পড়ে না! দীর্ঘ অর্ধ-শতাব্দীতে বাংলাকে যে জায়গায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা থেকে টেনে তুলতে কিছুটা সময় লাগলে...

রাজনীতিই সম্বল: কীর্তনের আসরে ইটের পুজো!

Image
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:      ​চতুর্দিকে ভক্তির রোল, খোল-করতালের সুর, হরিনামের মহিমায় মুখরিত ধেমোমেন শিবমন্দির প্রাঙ্গণ। সেই পবিত্র ধর্মীয় মঞ্চকেই নিমেষে রাজনৈতিক রণক্ষেত্র বানিয়ে ছাড়ল অন্ধ আক্রোশ। অষ্টপ্রহর কীর্তনের পুণ্যলগ্নে অতিথি হয়ে আসা প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় নোনিয়াকে দেখেই ফুঁসে উঠল পরিস্থিতি। তার রেশ গড়াল উন্মত্ত ইটবৃষ্টিতে। আহত হলেন চালক থেকে শুরু করে খোদ আয়োজকরাই।       ​তিন দশক ধরে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার পুরনো পারিবারিক ধারা বজায় রাখাই যেন কাল হলো। আয়োজকদের দীর্ঘশ্বাসে আজ এক গভীর প্রশ্ন—ধর্মের পরিসরেও কি তবে রাজনীতির বিষাক্ত নাগিনির বাসা বাঁধল?        ঘটনার পর রাজনৈতিক দলগুলির পালটা অভিযোগের কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝে পুলিশের বিতর্কিত মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে। প্রশাসনের মতে, বাবা ও ছেলেকে ঘিরে নাকি এলাকায় বারবার অশান্তি দানা বাঁধে। আয়োজনের আগে পুলিশকে জানানো উচিত ছিল! অপরাধীরা নয়,  অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের জন্যই যেন কাঠগড়ায় আয়োজকরা।     ​শেষমেশ প...

সহানুভূতির ছাতা, সরকারি জমির মাথায় কার ঘর?

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       গরিবের মাথায় ছাদ চাই—কথাটি মানবিক। কিন্তু সেই ছাদের খুঁটি যদি সরকারি জমির বুকে গেঁথে যায়, আর প্রশাসনের চোখে ততদিনে যেন কুয়াশা নামে, তবে প্রশ্নও মাথা তোলে। রূপনারায়ণপুরের পিঠাকিয়ারি মৌজায় এনটিপিসি সংলগ্ন ৩.৪৮ একর সরকারি জমি দখলের অভিযোগে পঞ্চায়েত প্রধান অপর্ণা দাস-সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে।      অভিযোগ, জমির বৈধ ডিড বা পাট্টা নেই, অথচ সেখানে উঠেছে একাধিক বাড়ি। আরও চমক—পঞ্চায়েত সেই বাড়িতে কর নিয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ‘নো অবজেকশন’-ও দিয়েছে বলে অভিযোগ। অর্থাৎ জমি ছিল সরকারের, ঘর উঠল মানুষের, প্রশাসন যেন কাগজে-কলমে বলল—“বাড়ি যখন হয়েছে, করটাও দিয়ে যান!”      পঞ্চায়েতের যুক্তি, অভাবী মানুষের কথা ভেবেই সহানুভূতি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু সহানুভূতির কি সরকারি জমিতে দলিল লেখার ক্ষমতা আছে?        গরিবের ঘর ভাঙা সমাধান নয়, আবার গরিবের দারিদ্র্যকে ঢাল করে নিয়ম ভাঙাও মানবিকতা নয়। তদন্তে সত্য প্রকাশ পাক—কারণ সরকারি জমির মালিক জনগণ, পাহারাদারের...

ন্যূনতম মজুরির দাবিতে অগ্নিগর্ভ সালানপুর

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:      কারখানার চিমনি থেকে ধোঁয়া উঠছে, অথচ সেই আগুনের নিচেই যেন পুড়ছে শ্রমিকের স্বপ্ন।পেটের টানে ঘাম ঝরানো মানুষগুলোর পাতে আজ শুকনো বালি আর দীর্ঘশ্বাসের নুন। রাজ্য সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৩৮৬ টাকার পরিবর্তে মাত্র ৩২৩ টাকা ধরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সালানপুরের দেন্দুয়া এলাকায় ফুঁসে উঠেছে শ্রমিককুল।  এলকুইন্ট স্টিল প্লান্টের সামনে অনশনরত অভুক্ত শ্রমিকদের বিক্ষোভ যেন এক জীবন্ত নরককুণ্ড।        নায্য অধিকারের দাবিতে চলা এই লড়াইয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব, কিন্তু মিলছে না কোনো সদুত্তর। কারখানা কর্তৃপক্ষের নির্বিকার ঔদ্ধত্যে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে আশঙ্কার মেঘ।      ​শ্রমিক নেতা অমর মাহাতোর ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে প্রশ্ন—কার সাহসে সরকারি নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে কর্তৃপক্ষ?        তিন মাস ধরে নিরাপত্তা ও হাজিরার দাবিতে চলা এই প্রতিবাদের জল গড়িয়েছে বহুদূর। পার্শ্ববর্তী রামদূত কারখানার কর্মীরাও কাজ বন্ধ করে এই বিদ্রোহে সামিল হওয়...

নিশীথের নীরবতা ভেঙে সুকান্ত ময়দানে ফের সংঘর্ষের ছায়া

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        রাত যত গভীর হয়, শহরের কোলাহল ততই স্তব্ধ হয়ে আসে। অথচ সেই নীরব রাতেই ফের অশান্তির আগুন জ্বলে উঠল আসানসোল দক্ষিণ থানার সুকান্ত ময়দানে। দুই গোষ্ঠীর বচসা থেকে শুরু, মুহূর্তেই তা গড়াল হাতাহাতি ও মারপিটে। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাতের অন্ধকারে আতঙ্কের ছায়া নামে এলাকায়।    খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনাস্থলে পৌঁছন ডিসিপি সেন্ট্রাল সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, রাতের সেই উত্তেজনার রেশ রয়ে গিয়েছে স্থানীয়দের মনে।      সুকান্ত ময়দানে রাতের অশান্তি অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও একইভাবে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে, এমনকি নির্বাচনের আগেও গভীর রাতে ঘটেছিল অশান্তি। তাই ফের একই ছবি সামনে আসতেই উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন।      কেন বারবার রাতের আঁধারে অশান্তির আগুন জ্বলে ওঠে? পুলিশি তৎপরতায় মুহূর্তের উত্তাপ থামলেও, স্থায়ী শান্তির পথ কি এখনও অধরা? উত্তর খুঁজছে তদন...

আজকের দিনপঞ্জি

Image
প্রাত্যহিক প্রভাতী শুভেচ্ছা আজ: ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রবিবার, ইংরেজী: ২৩ আগষ্ট ২০২৬। সূর্য উদয়: সকাল ০৫:১৮:৫৪ এবং সূর্য অস্ত: বিকাল ০৬:০২:২৮। চন্দ্র উদয়: দুপুর ০২:৪৭:৩৫ এবং চন্দ্র অস্ত: শেষ রাত্রি ০১:৩০:০৪। শুক্ল পক্ষ  তিথি: একাদশী (নন্দা) সকাল ঘ ০৩:২০:২১ দং ৫৫/২/৩৫ পর্যন্ত। নক্ষত্র: মূলা  কালরাত্রি: ০১:০৩:৫০ থেকে - ০২:২৮:৫৩ পর্যন্ত। জন্মের সময়ে ধনু রাশি, ক্ষত্রিয় বর্ন, রাক্ষস গন, অষ্টোত্তরী শনির দশা এবং বিংশোত্তরী কেতুর দশা। শুভ দিন: হলপ্রবাহ ও বীজ বপন, ধান্যচ্ছেদন, নবান্ন, ক্রয় শুভ, বিক্রি অশুভ, বিদ্যারম্ভ, ধান্যরোপন। পুত্রদা একাদশী শ্রীশ্রীরাধা-কৃষ্ণের ঝুলন যাত্রা শুরু দিনটি সফল ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক।