Posts

পদ্মকুঁড়ির খোজে গিয়ে শাপলার কান্না: পুকুরের জলে মিলল নিখোঁজ মধুর প্রাণহীন দেহ

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ​পদ্ম ফুলের সুবাস আর আলোকের প্রত্যাশা নিয়ে যে মানুষটি ঘর ছেড়েছিল, সে আর ঘরে ফেরেনি। জীবন আর মৃত্যুর নির্জন সীমান্তে গিয়ে থমকে দাঁড়াল একটি সাধারণ জীবন। জামুড়িয়া থানার শান্ত বেনালি গ্রামের ‘ঘাসুরিয়া’ পুকুরটি আজ নীরব অশ্রুতে ভেজা। যে জলে ফুটত রূপসী পদ্ম, আজ সেই জল থেকেই ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হলো টুইলা পাড়ার বাসিন্দা মধু হেমরমের নিথর দেহ।       ​গ্রামের পথ-ঘাট, স্বজনদের ব্যাকুল আঁখি- অপেক্ষার করুণ অবসান ঘটল  বিভীষিকাময় সকালে। গত ১৮ তারিখের এক মায়াবী ভোরে ফুল তোলার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছিলেন মধু। তারপর থেকে সময় বয়ে গেছে, ব্যাকুল পরিজনেরা পথ চেয়ে থেকেছেন, গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরেছেন, কিন্তু তার কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে কোলিয়ারির কাছের ওই নিঝুম পুকুরে ভেসে উঠল তার নিস্পন্দ শরীর।       ​খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শ্রীপুর ফাঁড়ির পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় জল থেকে উদ্ধার করে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।       এ...

আজকের দিনপঞ্জি

Image
প্রাত্যহিক প্রভাতী শুভেচ্ছা আজ: ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রবিবার, ইংরেজী: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সূর্য উদয়: সকাল ০৫:২৮:১৩ এবং সূর্য অস্ত: বিকাল ০৫:৩৪:৩৫। চন্দ্র উদয়: দুপুর ০১:২৭:৩৩ এবং চন্দ্র অস্ত: রাত্রি ১২:১৪:৫১। শুক্ল পক্ষ  তিথি: নবমী (রিক্তা) বিকাল ঘ ০৩:৫১:২১ দং ২৬/০/৭.৫ পর্যন্ত। নক্ষত্র: পূর্বাষাঢ়া  কালরাত্রি: ১২:৫৮:৫৭ থেকে - ০২:২৮:২৪ পর্যন্ত। জন্মের সময়ে ধনু রাশি, ক্ষত্রিয় বর্ন, নর গন, অষ্টোত্তরী বৃহস্পতির দশা এবং বিংশোত্তরী শুক্রর দশা। শুভ দিন: ধান্যরোপন, নবান্ন, ক্রয় শুভ, বিক্রি অশুভ, বিদ্যারম্ভ,  অন্নপ্রাশন। দিনটি সফল ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক।

ভূঁইয়া ঘটয়াল সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে কর্মা উৎসবের আয়োজন

Image
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান:- সালানপুর ব্লকের অন্তর্গত দেন্দুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নকড়াজোড়িয়ায় শনিবার ভূঁইয়া ঘটয়াল সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে অত্যন্ত ধুমধাম ও আনন্দের মধ্য দিয়ে কর্মা উৎসব পালিত হলো। ভাই-বোনের অটুট প্রেম এবং প্রকৃতির উপাসনার এই মহাপর্বে পশ্চিম বর্ধমান, জামতাড়া, পুরুলিয়া এবং ধানবাদ জেলা থেকে প্রায় তিন হাজার মানুষ অংশ নিয়ে অভূতপূর্ব একতার পরিচয় দেন।অনুষ্ঠান চলাকালীন ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি মেনে যৌথভাবে পুজো-অর্চনা করা হয়। এর পাশাপাশি মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের পরিবেশনা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। উৎসবের শেষে সকলের জন্য একটি সুবিশাল মহাতালিক মহোভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের সভাপতি সহদেব রায় বলেন, "প্রকৃতি, পরিশ্রম এবং ভাই-বোনের অটুট স্নেহের প্রতীক 'কর্মা পর্ব' আমাদের সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। কারাম গাছের ডালের পুজো আমাদের শেখায় যে মানব জীবনের অস্তিত্ব প্রকৃতির ভারসাম্য ও নিরন্তর কর্মঠতার মধ্যেই নিহিত। এই পবিত্র উপলক্ষে আমাদের ঐতিহ্যবাহী...

মহাযজ্ঞের সূচনায় দীপ্ত তেরঙ্গা: নাগোয়ার আঙিনায় ভারতের স্বপ্নযাত্রার প্রারম্ভ

Image
স্পোর্টস ডেস্ক, নিউজ হিন্দুস্থান -:        ​আলো ঝলমলে স্টেডিয়ামের বুক চিরে ছড়িয়ে পড়ছিল হাজারো আলোর রশ্মি, গ্যালারিতে তখন উচ্ছ্বাসের উত্তাল তরঙ্গ। জাপানের নাগোয়ায় ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় যখন ২০২৬ এশিয়ান গেমসের ঢাক বাজল, তখন কেবল একটি ক্রীড়ানুষ্ঠানের সূচনাই ঘটল না; বরং এশিয়ার মানচিত্রে শুরু হল শতকোটি হৃদস্পন্দনের এক নতুন উপাখ্যান।     ​বর্ণাঢ্য এই অলৌকিক সন্ধ্যায় সকলের দৃষ্টি স্থির ছিল একটি মুহূর্তের দিকে- যখন ভারতের গর্বিত তেরঙ্গা হাতে সামনে এগিয়ে এলেন জোড়া অলিম্পিক পদকজয়ী তরুণী মনু ভাকের এবং বীরদর্পী কাবাডি তারকা পবন সেহরাওয়াত।       প্যারিসের অলিম্পিক মঞ্চ কাঁপানো মনুর চোখে তখন নতুন ইতিহাস গড়ার দীপ্তি, আর পবনের কাঁধে এশিয়ার বুকে ভারতীয় শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করার অদম্য অঙ্গীকার।     ​অবশ্য এই মাহেন্দ্রক্ষণের নেপথ্যে রয়ে গেল এক নিঃশব্দ আক্ষেপের ছায়াও। তিন-তিনটি স্বর্ণপদকের স্বপ্ন চোখে নিয়ে নামা শট-পুটার তাজিন্দরপাল সিং তুর প্রথম পছন্দ হলেও, সময়মতো অফিসিয়াল কিট হাতে না পাওয়ায় অলক্ষ্যেই সরে ...

শিল্পের ক্যানভাসে স্বপ্নের কুয়াশা: ধোঁয়াশার চাদরে দুর্গাপুরের মায়াবী রূপ

Image
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ​কারখানার চিমনি আর ইট-কাঠের যান্ত্রিক ব্যস্ততায় মোড়া শিল্পনগরী দুর্গাপুর শনিবারের ভোরে ঘুম ভাঙতেই এক অন্য জগতে জেগে উঠল। ভোরের প্রথম আলো ফোটার আগেই এক রূপালী, রহস্যময় কুয়াশার চাদর ঢেকে দিল পুরো শহরকে।        সিটি সেন্টার থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের অলিগলি- সব যেন নিমেষে মুছে গিয়ে রূপ নিল এক ধোঁয়াটে মায়ানগরীতে। যান্ত্রিকতার রুক্ষ রূপ ভুলে এক অদেখা জাদুকরের স্পর্শে দুর্গাপুর যেন পরে নিল রূপকথা নদীর এক শীতল পরশ।      ​সবচেয়ে বিস্ময়কর দৃশ্য ভেসে উঠল ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে। মসৃণ রাজপথের বুক চিরে ছুটে চলা গতিময় যানবাহনগুলো হঠাৎ করেই যেন ধীর ও শ্লথ হয়ে এল। ঘন কুয়াশার ধূসর দেয়ালে দৃশ্যমানতা কমে আসায় চালকরা বাধ্য হলেন হেডলাইটের হলুদ আলো জ্বালিয়ে সতর্ক পায়ে এগোতে। কুয়াশার বুক চিরে জ্বলে ওঠা সেই আলোর সারি যেন ধূসর ক্যানভাসে এক অপূর্ব আলো-ছায়ার খেলা ফুটিয়ে তুলল।      ​মেগাসিটির এই হঠাৎ রূপবদলে ব্যস্ত জীবনের গতি কিছুটা থমকে গেলেও, ধোঁয়াজালের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গা ছমছমে শীতের আমেজ নগরবাসীকে উ...

স্পন্দনের নয়া সোপান: বিজপুরের মাঠে সেবার হাত ও আলোর উদ্ভাস

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ​শরতের মিষ্টি রোদে বিজপুর হাইস্কুলের সবুজ মাঠটি আজ যেন সেবার এক নতুন প্রত্যয়ে সেজে উঠেছিল। শ্যাম সেল-এর উদ্যোগে ও প্রশাসনের ভালোবাসার বাঁধনে জামুড়িয়ার মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ঝুলি ভরিয়ে দিতে উদযাপিত হলো এক আনন্দঘন মুহূর্ত। বিপদের দিনে দ্রুত ডানা মেলার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এলাকার মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হলো পাঁচটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স।        জামুড়িয়া থানা, শ্রীপুর, কেন্ডা, চুরুলিয়া ফাঁড়ি এবং ট্রাফিক গার্ডের প্রতিনিধিদের হাতে সেই চাবি তুলে দেওয়ার দৃশ্যটি যেন পুরো অঞ্চলের বুকে এক গভীর আশ্বাসের প্রদীপ জ্বেলে দিল।        ​জরুরি সময়ে প্রতিটি সেকেন্ড কতটা অমূল্য, তা ভুক্তভোগীমাত্রই জানেন। দুর্ঘটনার কালো ছায়া কিংবা সহসা অসুস্থতার আঁধারে এই জলজ্যান্ত যানগুলোই এবার হয়ে উঠবে প্রাণ বাঁচানোর দূত। রাজপথের বুকে এদের সাইরেনের শব্দ যেন শোনাবে জীবনের জয়গান, রোগীকে দ্রুত পৌঁছে দেবে নিরাময়ের ঠিকানায়।       ​জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে চেম্বার অফ কমার...

ভক্তির স্রোতে প্রচ্ছায়ার আবাহন: দাসকিয়ারিতে জগন্নাথ ধামের পুণ্য পথচলা

Image
শুক্লা ব্যানার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        ​শ্রীশ্রী রাধাষ্টমীর পুণ্যপ্রভাতে ভক্তি আর আধ্যাত্মিকতার এক অনাবিল স্বর্গীয় সুবাসে স্নাত হলো আসানসোলের দাসকিয়ারির ধূলিকণা। অজয় নদের তীর থেকে উঠে আসা বাসপাহাড়ির পুণ্যতোয়া ধারা আজ যেন বয়ে নিয়ে এল নিখিল ভক্তহৃদয়ের আকুল ব্যাকুলতা। জগন্নাথদেবের এক ভব্য মন্দির নির্মাণের শুভ সূচনা উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহাসিক ১০০৮ কলশযাত্রা- যে যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরল শঙ্খধ্বনি, হরিণাম সংকীর্তন আর ঈশ্বরের প্রতি মানবের চিরন্তন আকুতি।       ​পবিত্র জলভরা মঙ্গলঘট মাথায় তুলে হাজারো নারীদের সারি যখন গ্রামের ধূলিধূসরিত পথ বেয়ে এগিয়ে চলল, তখন দাসকিয়ারির অলিগলি যেন মর্ত্যের কোনো এক মায়াপুরীতে রূপান্তরিত হয়েছিল। পথের দু’পাশে করজোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রবীণ-নবীনদের চোখে অশ্ৰু আর মুখে শুধুই জয়ধ্বনি।       এক হাজার আটটি কলশের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই পদযাত্রা শত সহস্র ভক্তের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুহূর্তেই রূপ নিল এক বিশাল মানব-সমুদ্রে, যেখানে ধনী-দরিদ্রের সমস্ত ভেদাভেদ মুছে ...