Posts

বিষাক্ত বাণিজ্যে রক্তের টান: আসানসোলে গোয়েন্দাজালে বাবা

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:      ​কালো টাকার অন্ধ মোহে রক্তের সম্পর্কও যেন আজ ধাবমান একই বিনাশের পথে। তিন দিন আগে মাদক পাচারের অপরাধে পুলিশি জালে ধরা পড়েছিল ছেলে। সেই ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই এবার একই পৈশাচিক কারবারে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে ধরা পড়লেন অপরাধী যুবকের বাবাও।       ​বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে আসানসোল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ওল্ড ডুরান্ড সিনেমা হল এলাকায় এক চিরুনি অভিযান চালায় গোয়েন্দা দল। সেখান থেকেই ওই প্রবীণ ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে বিষের পসরা- প্রায় ৩০০ গ্রাম মারাত্মক ব্রাউন সুগার। ঘটনার সঙ্গেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।     ​শিল্পাঞ্চলের বুকে ছড়িয়ে পড়া এই মাদকের বিষাক্ত সাপ্লাই চেইন বা মূল উৎস কোথায় এবং এই কারবারের নেপথ্যে আর কোন কোন রাঘববোয়াল লুকিয়ে রয়েছে, তার সন্ধানে জোরকদম তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দারা।        একের পর এক বাবা ও ছেলের এই পরিণতি বার্তা দিচ্ছে যে, মাদকের মরণফাঁদে পা দিলে কেবল পরিবারই ধ্বংস হয় না, আইন...

কালো হিরের গর্ভে কান্নার সুর: আড়াই শতকের ঐতিহ্য আজ লোকসানের অন্ধকারে

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ​১৭৭৪ সালের এক ইতিহাসচুম্বিত ক্ষণে যে রানিগঞ্জ কোলফিল্ডের বুক চিরে ভারতের কয়লা খননের প্রথম সূচনা হয়েছিল, আড়াই শতক পেরিয়ে সেই গর্বের আঙিনায় আজ শুধুই হতাশা ও আর্থিক সংকটের কালো ছায়া। ইসিএল -এর সিএমডি সতীশ ঝার বক্তব্যে উঠে এল এক উদ্বেগময় বাস্তবতা- দীর্ঘ ঐতিহ্য ও আবেগে মোড়ানো এই রানীগঞ্জ কয়লাক্ষেত্র আজ দাঁড়িয়ে আছে এক গভীর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে।      ​প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত সুবিধার্থে একাধিক খনি একত্রিত বা ‘অ্যামালগামেট’ করার পর বর্তমানে রানিগঞ্জের খনির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৭টিতে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, এই ৭৭টি খনির মধ্যে মাত্র ২০টি লাভজনক হলেও বাকি ৫৭টি খনিই মারাত্মক লোকসানে চলছে।         ১৭৭৪ সালের ঐতিহাসিক সূচনালগ্ন থেকে যে মাটির তলার কালো হিরে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছিল, আজ সেই কয়লাক্ষেত্রের সিংহভাগ খনি লোকসানের অতলে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষুণ্ণ হচ্ছে ঐতিহ্য এবং ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদনশীলতা।      ​ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, পুরনো খনিগুলির কার্যক্ষ...

জলাধারের গেট খুলতেই বাড়ছে শঙ্কা, ফুলছে দামোদর, মাইথন-পাঞ্চেতে জলের স্রোতে আতঙ্ক

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:     আকাশজুড়ে বর্ষার কালো ভ্রুকুটি, আর তারই মধ্যে জলাধারের গেট খুলে বাড়ছে জলের স্রোত। মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বৃদ্ধিতে দামোদর অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।      ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে মাইথন জলাধার থেকে ৭৮,২৩৪ একর-ফিট জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে পাঞ্চেত জলাধার থেকেও বেড়েছে জল ছাড়ার পরিমাণ। বর্তমানে সেখানে ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৪০২ একর-ফিট জল ছাড়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।      টানা বৃষ্টির জেরে নদী-নালা ও জলাশয়গুলির জলস্তর এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী। তার উপর জলাধার থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার ঘটনায় নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হয়েছে। কোথাও জল বাড়ার আশঙ্কা, কোথাও আবার প্লাবনের ভয়- প্রকৃতির এই জলরোষে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।     প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। তবে জলাধারের গেট দিয়ে অবিরাম ছুটে চলা জল যেন নিঃশব্দেই বলে দিচ্ছে- বর্ষা এখনও থামেনি, বিপদের আশঙ্কাও নয়।

বৃষ্টির আঘাতে ভাঙল পথ, প্রশাসনের তৎপরতায় ফিরছে যাত্রার স্বস্তি

Image
 চিত্তরঞ্জন প্রসাদ, নিউজ হিন্দুস্থান -:      টানা বর্ষণের অভিঘাতে যখন মাটি হারাচ্ছে তার শক্তি, তখনই বারাবনির ভস্কাজুড়ি মোড় থেকে নুনি যাওয়ার প্রধান সড়কে নেমে এল বিপর্যয়। গত বুধবার ভোরে মদনমোহনপুর গ্রামের কাছে আচমকাই প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ফুট রাস্তা ধসে নিচে নেমে যায়। মুহূর্তে থমকে যায় যান চলাচল, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত।       তবে বিপর্যয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন ও WB-SRDA-এর তৎপরতায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শুরু হয় যুদ্ধকালীন মেরামতির কাজ। আপাতত মাটি ও বোল্ডার ফেলে ধসের বিশাল ক্ষতস্থান ভরাট করে সমতল করার কাজ চলছে। লক্ষ্য, দ্রুত মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক করা। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর পর স্থায়ীভাবে পিচের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।       ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডলও প্রশাসনের তৎপরতার প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, খবর পাওয়ার পরই বিধায়ক ও বিডিওকে জানানো হয় এবং দ্রুত আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।     উল্লেখযোগ্য, ভস্কাজুড়ি মোড় থেকে পঞ্চগাছিয়া SBI পর্যন্ত রাস্তাট...

নোংরা অভ্যাসে লাগাম, রানীগঞ্জে পরিচ্ছন্নতার রণধ্বনি

Image
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        শহর শুধু ইট-পাথরের দেওয়াল নয়, শহর তার মানুষের অভ্যাস, দায়িত্ববোধ আর সচেতনতার প্রতিচ্ছবি। সেই শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, প্লাস্টিকমুক্ত ও ডেঙ্গুমুক্ত রাখার বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার পথে নামল আসানসোল পুরনিগমের রানীগঞ্জ বোরো-২।      বোরো-২ কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া সচেতনতা র‍্যালি রানীগঞ্জ বাজার ও সিআর রোডের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে ফের বোরো কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে প্রকাশ্যে থুতু ফেলা, মূত্রত্যাগ, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়। নিয়ম ভাঙলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে- সেই সতর্কবার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয় পথচারী ও শহরবাসীর কাছে।       ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মগুলি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই ছিল কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।     পুরসভার নির্মল সাথী ও নির্মল বন্ধুদের নিরন্তর পরিশ্রমের পাশাপাশি নাগরিকের সচেতনতাই পারে শহ...

ধ্বংসস্তূপে আট কোয়ার্টার, বিপদের আগে সতর্কতার হাতুড়ি

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        বিপদ কখনও দরজায় কড়া নাড়ার সময় দেয় না। কখনও একটি ফাটল, কখনও ভেঙে পড়া ছাদ- নীরবে জানান দেয় আসন্ন বিপর্যয়ের। সেই আশঙ্কাকেই সামনে রেখে বৃহস্পতিবার জামুড়িয়ার ইসিএলের শ্রীপুর-সাতগ্রাম অঞ্চলের গিরমিট ১০ নম্বর এলাকায় শুরু হল বড়সড় অভিযান। বুলডোজারের আঘাতে মাটিতে মিশে গেল দীর্ঘদিনের ঝুঁকিতে থাকা আটটি জরাজীর্ণ সি-টাইপ কোয়ার্টার।        ইসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাসনগুলি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল যে সেখানে বসবাস করা কার্যত বিপদকে ঘরে ডেকে আনার সমান। তবু জীবিকার টানে কয়েকটি পরিবার সেখানে বসবাস করছিল। দুর্ঘটনার আশঙ্কা বুঝে আগেই কোয়ার্টার খালি করার লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালেই বাসিন্দারা ঘর ছাড়েন। এরপর পুলিশি নিরাপত্তায় শুরু হয় ভাঙার কাজ।      অভিযান ঘিরে মোতায়েন ছিল জামুড়িয়া থানার পুলিশ, সিআইএসএফ এবং ইসিএলের এরিয়া সিকিউরিটি টিম। এইচআর বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার জয়শ্রী যাদব জানান, জনসুরক্ষা ও দুর্ঘটনা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত।      জরাজীর্ণ ভবন শুধু ইট-পাথরের কাঠ...

চার্জের তারে ছিঁড়ে গেল সংসারের আলো, অনাথ ১২ বছরের সন্তান

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        এক মুহূর্তের অসতর্কতা যে একটি গোটা সংসারের আলো নিভিয়ে দিতে পারে, উখড়ার শুড়িপাড়ার মর্মান্তিক ঘটনা যেন তারই নির্মম সাক্ষী। টোটোতে চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ৩৯ বছরের চন্দন গড়াইয়ের। তাঁর মৃত্যুতে মাত্র ১২ বছর বয়সেই বাবাকেও হারিয়ে সম্পূর্ণ অনাথ হয়ে গেল এক শিশু।      পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন চন্দন। প্রতিদিনের মতো সংসারের চাকা সচল রাখতে টোটো নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু টোটোতে চার্জ দেওয়ার সময় আচমকাই বিদ্যুতের ছোবল। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তড়িঘড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।         বহু বছর আগেই মাকে হারিয়েছিল শিশুটি। এবার বাবার হাতটিও চিরতরে সরে গেল মাথার উপর থেকে। যে বয়সে বাবার হাত ধরে পথ চলার কথা, সেই বয়সেই তার সামনে শুধুই অনিশ্চয়তার অন্ধকার। খবর পেয়ে রানিগঞ্জের বিধায়ক পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।     একটি অসতর্ক মুহূর্ত থামিয়ে দিল একটি জীবন- আর রেখে গেল এক শিশুর সারাজীবনের শূন্যতা।