Posts

রাস্তা কেটে কেবল বসানোর ‘খেলা’, প্রশাসনিক কড়াকড়িতে আপাতত থমকে অবৈধ কাজ

Image
​রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান-:                  সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুনাফা লোটার নেশায় বুঁদ বেসরকারি সংস্থা! সালানপুর ব্লকের আমডাঙা মোড়ে অপটিক্যাল ফাইবার কেবেল (OFC) বসানোর নাম করে সদ্য নির্মিত পিচের রাস্তা খুঁড়ে একাকার করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রাস্তা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার কথা থাকলেও, কোনো তোয়াক্কা না করে একেবারে রাস্তার গা ঘেঁষেই ড্রিল মেশিন চালিয়ে চলছিল খোঁড়াখুঁড়ি।       ​স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র কয়েক মাস আগে তৈরি এই রাস্তাটির স্থায়িত্ব নিয়ে এমনিতেই প্রশ্ন রয়েছে, তার ওপর বর্ষাকালে এভাবে রাস্তার পাশ খুঁড়ে রাখায় মাটি নরম হয়ে ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচল করলে যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার হাতছানি রয়েছে সেখানে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করে সংস্থাটি যেভাবে নিজেদের আধিপত্য চালাচ্ছে, তা অকল্পনীয়।       ​জনরোষ বাড়তেই নড়েচড়ে বসে ব্লক প্রশাসন। বিডিও-র হস্তক্ষেপে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। প্রশ্ন উ...

পাইপ ফেটে জল অপচয়, তীব্র জলকষ্টে নাজেহাল সিদাবাড়ি গ্রাম

Image
​ রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        একদিকে পানীয় জলের জন্য হাহাকার, অন্যদিকে রাস্তার ওপর দিয়ে অকাতরে বয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার লিটার পরিশোধিত জল। সিদাবাড়ি গ্রামের এমন চরম বৈপরীত্য ও উদাসীনতার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। পিএইচই (PHE)-র প্রধান পাইপলাইন ফেটে জল অপচয়ের এই ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতায় বিরক্ত গ্রামবাসীরা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।       ​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে গ্রামের মোড়ে প্রধান পাইপলাইনটি ফেটে প্রবল জল অপচয় হচ্ছে। এর ফলে গ্রামের রাস্তা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি জল সংকট প্রকট হচ্ছে আশেপাশের এলাকায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকায় ওভারহেড ট্যাঙ্ক থাকা সত্ত্বেও ৩-৪ দিন অন্তর জল পাওয়া যায়। তার ওপর এই অপচয় মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।          ঠিকাদার সংস্থার শ্রমিকদের সামনে এই দৃশ্য ঘটলেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। গ্রামবাসীদের আক্ষেপ, চোখের সামনে জল অপচয় হতে দেখলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা ঠিকাদার কারোরই হেলদোল নেই। দ্রুত মেরামতি না হলে গ্...

মৃত্যুফাঁদ সামডি পোস্ট অফিস: আতঙ্কে কর্মী ও এলাকাবাসী

Image
​ অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       পরিষেবা দেওয়ার বদলে এখন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সালানপুর ব্লকের সামডি পোস্ট অফিসের। ইসিএল (ECL)-এর মালিকানাধীন এই আবাসনটি বর্তমানে আক্ষরিক অর্থেই এক ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। ছাদ থেকে খসে পড়ছে কংক্রিটের চাঙড়, দরজা-জানলার কঙ্কালসার দশা, চারপাশ ঘন জঙ্গলে ঢাকা- এমনই রূঢ় বাস্তবতায় প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মীরা।      ​দীর্ঘদিন ধরে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি চললেও নির্বিকার কর্তৃপক্ষ। পোস্ট অফিস কর্মীরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত ও ইসিএল-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। কিন্তু বারবার দরবার করেও মেলেনি কোনো সুরাহা।          চোর-ডাকাত বা বিষাক্ত সরীসৃপের অবাধ বিচরণক্ষেত্র হয়ে ওঠা এই ভবনে যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের প্রশ্ন, "কারোর প্রাণ গেলে কি তবে প্রশাসনের টনক নড়বে?" অবিলম্বে এই বিপজ্জনক ভবনটি সংস্কারের দাবিতে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে সামডি এলাকায়।

পথসভা কুলটিতে, তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ ২০ পরিবারের

Image
​ রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        একুশে জুলাই শহিদ দিবসকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে কুলটিতে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কুলটি ব্লক কংগ্রেসের উদ্যোগে পাতিয়ানামহল্লা এলাকায় এক পথসভার আয়োজন করা হয়। আসন্ন শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে দলের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতেই এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল স্থানীয় নেতৃত্ব।    ​ এই পথসভাকে ছাপিয়ে এদিন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে যোগদান। ওই অনুষ্ঠানে ৬৩ ও ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ২০টি পরিবার তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দেন। নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তাদের স্বাগত জানান কুলটি ব্লক কংগ্রেস সভাপতি সুকান্ত দাস সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।       ​এই যোগদান প্রসঙ্গে ব্লক সভাপতি সুকান্ত দাস বলেন, "তৃণমূল থেকে আসা পরিবারগুলির যোগদানে আমাদের সংগঠন তৃণমূল স্তরে আরও মজবুত হলো। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ক্রমশ কংগ্রেসের দিকেই ঝুঁকছে।" এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে।

জামুড়িয়ায় ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ২০, নিখোঁজ বহু

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:         শুক্রবার সন্ধ্যায় জামুড়িয়ার ইকরা শিল্পতালুকের শেখপুর এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ‘ক্যালেস্টার স্পঞ্জ আয়রন অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড’ কারখানা। কারখানার বয়লার আচমকা ব্লাস্ট হওয়ার ঘটনায় অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে খবর। পাশাপাশি, ১০ জনেরও বেশি শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।       ​বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তার বিকট শব্দে আশেপাশের গ্রামের ঘরবাড়িতেও ফাটল ধরেছে। বিস্ফোরণের পরেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীরাই প্রথম উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।        ​খবর পেয়েই জামুড়িয়া থানার পুলিশ ও রানীগঞ্জ থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ।         এদিকে, কারখানায় শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তার অভাব রয়েছে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষের কাউকে খুঁজ...

​বর্ষায় মাথার ছাদ নেই, ডিভিসির উচ্ছেদ অভিযানে দিশেহারা কয়েকশো পরিবার

Image
​ অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবের ফারাক যেন আজ আরও একবার প্রকট হলো। এক মাসের সময়সীমা শেষ হতেই ফের স্বমূর্তিতে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC)। ভরা বর্ষার মরশুমে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বুলডোজার নামিয়ে ডিভিসির লেফ্ট ব্যাংক এলাকায় শুরু হলো চূড়ান্ত উচ্ছেদ অভিযান। প্রায় ২২ বছর ধরে মাথা গোঁজা এই বাসিন্দারা এখন দুর্যোগের দিনে খোলা আকাশের নিচে।        ​গত ১৫ জুন প্রথম দফার উচ্ছেদের পর বিধায়কের মধ্যস্থতায় সাময়িক বিরতি মিললেও, এদিন ফের তোড়জোড় শুরু করে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। এলাকাটি কার্যত পুলিশি ও ডিভিসি সুরক্ষাবাহিনীর দুর্গে পরিণত হয়। ডিভিসির ডিজিএম-এর ঘোষণা অনুযায়ী, লেফ্ট ব্যাংকের মোট ১১০টি আবাসন ভাঙার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বুলডোজারের তাণ্ডবে এলাকাটি আজ জনশূন্য।       ​ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ, "সাড়ে চারশো পরিবারের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। বর্ষার দিনে এই অমানবিক উচ্ছেদ আমাদের কোথায় ঠেলে দিল?" প্রশাসনের সদুত্তর নেই, কেবল ঘর হারানোর হাহাকারেই ভারী হচ্ছে লেফ্ট ব্যাংকের আকাশ।

পরিবর্তনের নামাবলি, লুঠের কারবার: বিজেপির অন্দরেই ‘তৃণমূলি’ দর্পণে আয়না দেখালেন জিতেন্দ্র

Image
​ রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:      ‘বদল বদল’ শ্লোগান তুলে যে গেরুয়া ঝড়ের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, ক্ষমতায় আসার নেশায় সেই দলের একাংশই এখন তৃণমূলের পুরনো নথির ‘কপি-পেস্ট’ ভার্সন! পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারির সাম্প্রতিক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি যেন সেই তিক্ত বাস্তবকেই খোলা মঞ্চে তুলে আনল।       ​তৃণমূলের গত ১৫ বছরের ‘অপশাসন’কে মাত্র দু’মাসে টেক্কা দেওয়ার দাবি খোদ নিজের দলের কর্মীদের বিরুদ্ধেই তুলেছেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, বিজেপির পতাকার আড়ালে এখন রমরমিয়ে চলছে তোলাবাজি, আবাসন দখল আর জুলুমবাজি। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি রঙের বদল হলেও ‘সংস্কৃতি’ একই রয়ে গেল? বিধায়কের আক্ষেপ, ক্ষমতার স্বাদ পেতেই যদি কর্মীদের একাংশ তৃণমূলের পথেই হাঁটে, তবে বিজেপি আর তৃণমূলের মধ্যে নৈতিকতার ফারাক রইল কোথায়?       ​ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শ্লেষের সুর। বিরোধীরা বলছে, ‘ঠাকুর ঘরে কে? আমি তো কলা খাইনি’- এই চিত্রনাট্যের যবনিকা পতন ঘটালেন খোদ বিধায়কই। নেটিজেনদের একাংশের মতে, পরিবর্তন নয়, বরং তৃণমূলের ‘সফটওয়্যার’ এখন বিজেপির ‘হার্ডওয়...