Posts

পিচঢালা পথে নদীর বিভ্রম: জমা জলে বাঁশকোপায় নিত্যদুর্ভোগের করুণ সুর

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        ​রাস্তা না কি নদী- তফাত করাই যেন দায়! পিচের কালচে বুক চিরে বয়ে চলেছে ঘোলা জলের তোড়, আর সেই স্রোতেই চাকা ডুবিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ভেসে চলেছে চেনা শহরের সারি সারি গাড়ি। দুর্গাপুরের কাঁকসার বাঁশকোপায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোড আজ শুধু জলমগ্ন এক পথ নয়, বরং এক আতঙ্কের প্রতিচ্ছবি।         সামান্য বৃষ্টিতেই বেপরোয়া নির্মাণ আর বন্ধ নিকাশি নালার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। ​বছরের পর বছর এই জলছবির বদল হয়নি। পলি জমে রুদ্ধ হওয়া নিকাশিনালার অলিগলিতে থমকে আছে নগর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বজ্ঞান।       অবশেষে খবরের শিরোনামে আলোড়ণ উঠতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন; জেসিবি-র শক্ত হাত খুঁজছে বন্ধ নালীর হারানো মুখ। নিকাশির রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির মাঝে সাধারণ মানুষ আজও প্রহর গুনছে এক স্থায়ী সমাধানের- যেদিন পিচঢালা সড়ক আবার ফিরে পাবে তার চিরচেনা রূপ, আর জলচ্ছাসের বদলে নিরাপদ পথের আশ্রয়ে শান্ত হবে প্রতিদিনের পথচলা।

ঐতিহ্যের আলোয় আনন্দের কোলাহল: বার্ণপুরে তিথির মিলনমেলা

Image
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:      ​ভাদ্রের পুণ্যলগ্নে বাঁশির সুর আর ঢাকের বোলে মেতে উঠেছে বার্ণপুর। প্রান্তিক ক্লাবের উদ্যোগে আভিজাত্যের ৫৩তম বর্ষে পা দিল চিরাচরিত জন্মাষ্টমীর মেলা। আগামী পনেরো দিন ধরে এই প্রাঞ্জল মেলার আঙিনায় প্রদীপ হয়ে জ্বলবে সম্প্রীতি ও মিলনের উৎসব আলো।     ​শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলন ও ফিতা কেটে মেলার শুভ সূচনা করেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বহু মানুষের বাঁধভাঙা উপস্থিতি আর বাঁধভাঙা উল্লাসে চারপাশ যেন এক আনন্দপুরীতে পরিণত হয়েছিল।       ​এ কেবল পণ্য কেনাকাটার সাধারণ মেলা নয়, এ যেন বহু বছরের পুরোনো স্মৃতির কোলাজ আর ভালোবাসার বাঁধন। নাগরদোলার ঘূর্ণি, রঙিন পসরা আর পরিচিত মুখের মিষ্টতা মিলেমিশে আগামী দিনগুলোতে বার্নপুরকে ভাসিয়ে রাখবে এক মায়াবী উৎসবে, যেখানে প্রতিটি বাঙালি হৃদয় আবার খুঁজে পাবে তার আপন শিকড়ের টান।

ভক্তির আলোয় বিশ্বাসের সুর: মহিশিলার আশ্রমে সম্প্রীতির আবাহন

Image
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:      ​ভাদ্রের স্নিগ্ধ প্রহরে বাঁশির মধুর সুরে মেতে উঠেছে আসানসোলের মহিশিলা গ্রাম। জন্মাষ্টমীর এই পুণ্যলগ্নে ঐতিহ্যবাহী দয়ালবাবা আশ্রমে পুজো নিবেদন করে নিবিড় প্রার্থনায় শামিল হলেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শ্রীকৃষ্ণের চরণে ভক্তিপুষ্পাঞ্জলি দিয়ে তিনি কামনাসূত্র বাঁধেন- বাংলার ঘরে ঘরে ফিরে আসুক শাশ্বত শান্তি, সম্প্রীতি ও অগ্রগতির আলো।       ​উৎসবের আনন্দ কোনো গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়; এ যে আবালবৃদ্ধবনিতার এক মিলনক্ষেত্র। আশঙ্কার কালো মেঘ সরিয়ে আজ তাই চারিদিকে বিশ্বাসের দীপ্তি। জন্মাষ্টমীর এই পবিত্র সূচনা থেকেই যেন বেজে উঠল আসন্ন বিশ্বকর্মা ও দুর্গাপুজোর আগমনী সুর।      ​দাদাগিরি আর আতঙ্কের ছায়াকে দূরে সরিয়ে সবাই যেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিরাপদে মাততে পারে আনন্দের জোয়ারে- ধ্বনিত হলো সেই কল্যাণ বার্তা। ধূপের ধোঁয়া আর মন্ত্রোচ্চারণের আবহে দয়ালবাবা আশ্রম প্রাঙ্গণ আজ রূপ নিল ঐক্যের এক পুণ্যতীর্থে, যেখানে ভক্তির ছোঁয়ায় ফিকে হয়ে গেছে পুরোনো ভয়, জে...

অন্নপূর্ণার টাকার আশায় জনতার দরবারে মহিলারা

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        তিন হাজার টাকার আশায় কতদিনের অপেক্ষা! সেই অপেক্ষার ভার নিয়েই শুক্রবার বার্ণপুরের ৮ নম্বর বস্তি এলাকার একাধিক মহিলা হাজির হলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ‘জনতার দরবারে’।       তাঁদের অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেও এখনও মেলেনি প্রতিশ্রুত টাকা। হাতে আবেদন, চোখে প্রত্যাশা- কিন্তু কর্মসূচি চলাকালীন মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়নি বলে দাবি তাঁদের।        তবে দরবার শেষ হতেই বদলাল দৃশ্যপট। মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের কথা শোনেন মন্ত্রী। অভিযোগ লিখিতভাবে জানাতে বলেন তিনি। পাশাপাশি এলাকায় দলের হয়ে কাজ করা কর্মীদের ফোন নম্বরও দিতে বলেন, যাতে সমস্যার সূত্র ধরে দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজা যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন অগ্নিমিত্রা পাল।       এদিন সকালে আসানসোলে এক খুঁটিপুজোর পর তিনি জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার বিষয়টি বর্তমানে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নারী ও শিশু কল্যাণ মন্...

ভাঙা রাস্তায় ক্ষোভের সুর - অতীতের দিকে অভিযোগের আঙুল অগ্নিমিত্রার

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       টানা বৃষ্টিতে যখন রাজ্যের রাস্তা-ঘাট ক্ষতবিক্ষত, জলমগ্ন জনপদে বাড়ছে দুর্ভোগ, তখনই আসানসোলে দাঁড়িয়ে পুরনো সরকারের দিকে অভিযোগের তির ছুড়লেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুক্রবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর দাবি, আগের তৃণমূল সরকার রাস্তার মান নিয়ে যথেষ্ট ভাবেনি। একের পর এক টেন্ডার হলেও কাজের গুণমানে আপস করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।          অগ্নিমিত্রার কথায়, রাস্তা তৈরি হয়েছে মানুষের টাকায়, তাই সেই রাস্তায় নিম্নমানের কাজ মেনে নেওয়া যায় না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ১০ অক্টোবরের মধ্যে রাস্তা মেরামতির কাজ শেষ করার লক্ষ্যের কথাও জানান তিনি। নদীভাঙনের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানের আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।        বর্ষার জলে যেমন ভাঙনের ভয়, তেমনই জমা জলে ডেঙ্গুর আশঙ্কা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে আসানসোলে মেগা ড্রাইভ ও সচেতনতা মিছিলের কথা জানিয়ে সাধারণ মানুষকে জল জমতে না দেওয়ার আবেদন করেন তিনি। তাঁর দাবি, গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গু ১৫-১৮ শ...

১৪ দাবিতে ঠিকা শ্রমিকের বজ্রকণ্ঠ - শ্রমিক ক্ষোভে উত্তাল জামুড়িয়া

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       কারখানার চাকা ঘোরে শ্রমিকের ঘামে, অথচ সেই শ্রমিকের অধিকারই যখন অনিশ্চিত—তখন গেটের সামনে জমে ওঠে ক্ষোভের মিছিল। শুক্রবার সকাল থেকে জামুড়িয়ার গগন এসটিপিএল কারখানার প্রধান ফটকে এমনই ছবি দেখা গেল। ১৪ দফা দাবি সামনে রেখে ঠিকা শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কারখানা চত্বর।       ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের নেতৃত্বে বিক্ষোভে শামিল হন অসংখ্য ঠিকা শ্রমিক। তাঁদের দাবির মধ্যে ছিল ন্যূনতম মজুরি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কিট, আট ঘণ্টা ডিউটি, মাসে চারটি বেতন-সহ ছুটি এবং প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে মজুরি প্রদান। একইসঙ্গে স্পঞ্জ আয়রন কারখানার সমহারে বেতনের দাবিও ওঠে।      সংগঠনের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি শিবদাস বাউরি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঠিকা শ্রমিকরা বঞ্চিত। ঠিকাদারদের সঙ্গে ‘সেটিং’ করে দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর বক্তব্যে হেমন্ত সিংকে ঘিরেও ওঠে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযোগ।        অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে ছিল জামুড়িয়া থানার ...

জেলা হাসপাতাল- ঢাকনা সরিয়ে প্রশ্ন, থালা হাতে জবাব- রোগীর খাবার নিজেই খেলেন বিজেপি বিধায়ক

Image
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:     রোগীর পাতে যে খাবার পৌঁছয়, তার স্বাদ-গুণ নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবার সরাসরি রোগীর থালাতেই হাত দিলেন আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই আসানসোল জেলা হাসপাতালে হাজির হয়ে তাঁর এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ যেন খাবারের মান যাচাইয়ের চেনা পদ্ধতিকেই একটু অন্যরকম করে দিল।       প্রথমেই হাসপাতালের রোগীদের খাবার তৈরির রান্নাঘর বা ক্যান্টিন ঘুরে দেখেন বিধায়ক। কথা বলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সির কর্মীদের সঙ্গে। সকাল, দুপুর ও রাতে রোগীদের কী কী খাবার দেওয়া হয়, কীভাবে তা তৈরি হয়- জানতে চান সবিস্তারে। তারপর শুধু চোখে দেখা নয়, রোগীদের জন্য রান্না হওয়া খাবার নিজেই খান তিনি।        তাঁর কথায়, খাবারের মান ঠিকই রয়েছে। এরপর রোগীর পরিজনদের ক্যান্টিনেও পৌঁছন বিধায়ক। সেখানে আঢাকা অবস্থায় রাখা খাবার দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দ্রুত খাবার ঢেকে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।        বিধায়কের কথায়, হাসপাতালের পরিবেশে জ...