Posts

আজকের দিনপঞ্জি

Image
প্রাত্যহিক প্রভাতী শুভেচ্ছা আজ: ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ইংরেজী: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সূর্য উদয়: সকাল ০৫:২৭:২১ এবং সূর্য অস্ত: বিকাল ০৫:৩৮:৩৫। চন্দ্র উদয়: সকাল ১০:৫৪:০৬ এবং চন্দ্র অস্ত: রাত্রি ০৯:৩৮:০২। শুক্ল পক্ষ  তিথি: ষষ্ঠী (নন্দা) সকাল ঘ ০৯:৫৮:৩৭ দং ১১/২০/২৭.৫ পর্যন্ত। নক্ষত্র: অনুরাধা  কালরাত্রি: ১১:৩০:৩৪ থেকে - ১২:৫৯:৩২ পর্যন্ত। জন্মের সময়ে বৃশ্চিক রাশি, বিপ্র বর্ন, দেব গন, অষ্টোত্তরী শনির দশা এবং বিংশোত্তরী শনির দশা। শুভ দিন: গৃহপ্রবেশ, বিদ্যারম্ভ, নব বস্ত্র পরিধান, হলপ্রবাহ ও বীজ বপন, নবান্ন, বিক্রি শুভ, ক্রয় অশুভ, দোকান আরম্ভ। চর্পটাষষ্ঠী (চাপড়াষষ্ঠী)। শ্রীশ্রীবিশ্বকর্মা পুজা দিনটি সফল ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক।

কয়লার কালো বুকে হঠাৎ আগুন, দমকলের তৎপরতায় রক্ষা

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:      পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ব্যস্ত ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক। রাতের অন্ধকার নামার আগেই বুধবার হঠাৎ সেই ব্যস্ত সড়কের বুকজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্কের কালো ধোঁয়া। ডুবুরডিহি চেকপোস্ট সংলগ্ন পার্কিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি কয়লাবোঝাই ট্রাকে আচমকাই আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা আর ধোঁয়ার কুণ্ডলী ঘিরে ধরে গোটা এলাকা। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায় পার্কিংয়ে থাকা চালক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে।      ট্রাকচালক এমডি সিরাজের দাবি, ঝাড়খণ্ডের নিরসা থেকে বৈধ কয়লা বোঝাই করে রানাঘাটের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তিনি। ডুবুরডিহিতে গাড়ি দাঁড় করানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের সূত্রপাত। কীভাবে আগুন লাগল, তা বুঝে ওঠার আগেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।    খবর পেয়ে ছুটে আসে চৌরাঙ্গী ফাঁড়ির পুলিশ। স্থানীয় চালক ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় শুরু হয় আগুন নেভানোর চেষ্টা। পরে পৌঁছয় দমকলের একটি ইঞ্জিন। দ্রুততার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা।       সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড়সড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। মেলে...

শ্বেতশুভ্র হিমালয়ের বুকে অদম্য স্পর্ধার নামগাথা: রূপতাপস ক্লাবের রোমাঞ্চকর পর্বত-অভিযান

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:      ​পাহাড় শুধু প্রস্তর আর বরফের স্তূপ নয়; আত্মোপলব্ধির এক উত্তাল নিসর্গ, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ পরীক্ষা নেয় মানুষের সুপ্ত মানসিক শক্তি ও সাহসিকতার। আসানসোলের গোপালপুর রূপতাপস অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের ১৬ জন স্বপ্নবাজ অভিযাত্রী সেই অদৃশ্য আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ২৯ আগস্ট পা বাড়িয়েছিলেন হিমালয়ের দুর্গম গভীরে। উদ্দেশ্য- প্রকৃতিপ্রেম, কঠোর শৃঙ্খলা আর দেশপ্রেমের অটুট সংকল্পকে বুকে জড়িয়ে মাউন্ট জগৎসুখ (৫,০৫০ মিটার) ও মাউন্ট দেওটিব্বা (৬,০০১ মিটার) জয় করা।      ​১ সেপ্টেম্বর ছিক্কা, সেরি ও টেষ্টার বন্ধুর পথ অতিক্রম করে শুরু হয় তাঁদের মূল আরোহণ। ৪ সেপ্টেম্বর রাতে হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা আর গা ছমছমে অন্ধকারের বুক চিরে চূড়ার উদ্দেশে রওনা দেয় সম্পূর্ণ দল। তীব্র বরফঝড় ও অক্সিজেনের ঘাটতিকে তুচ্ছ করে পরদিন সকাল ঠিক ৮টায় মাউন্ট জগৎসুখের শিখরে উড়েছিল ভারতের তেরঙা জাতীয় পতাকা ও ক্লাবের গৌরবোজ্জ্বল চিহ্ন। এক স্বর্গীয় নীরবতায় পুজো নিবেদন করে পাহাড়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধায় মাথা নত করেন অভিযাত্রীরা। ...

দুর্গাপুরের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে ক্ষোভের উত্তাল তরঙ্গ

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ​কারখানার চিমনি বেয়ে যখন রুটি-রুজির অনিশ্চিত ধোঁয়া ওড়ে, তখন শ্রমের ঘাম বদলে যায় অস্তিত্বের লড়াইয়ে। দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে ১৯৬ জন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকের গেট পাস বাতিল হওয়ার খবরে নেমে এল তীব্র ক্ষোভের কালো মেঘ। যে হাতে এতদিন শিল্পের চাকা সচল থেকেছে, সেই হাতগুলো থেকেই যেন এক নিমেষে ছিনিয়ে নেওয়া হলো বাঁচার অধিকার।      ​এই অবিচারের প্রতিবাদে রাজনীতির সীমানা ভুলে কাঁধে কাঁধ মেলালো CITU ও INTUC। কারখানার বুক চিরে গর্জে উঠল যৌথ বিক্ষোভের স্বর। বন্ধ হয়ে গেল SMS, ক্রেন, কন্ডিশনিং ও BBM বিভাগের চাকা।       শ্রমিকনেতা প্রদীপ দত্ত ও নবায়েন্দু সরকারের স্পষ্ট দাবি- ফিরিয়ে দিতে হবে গেট পাস, দিতে হবে কাজের স্থায়িত্ব। পরিস্থিতির জল গড়িয়েছে বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুই ও কারখানা কর্তৃপক্ষের বৈঠক অবধি।        ইট-কাঠ-লোহার এই কারখানায় অনশন ও প্রতিবাদের যে আগুন জ্বলেছে, তা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়- শ্রমিকের ঘামের দাম কোনো রঙিন চুক্তির কাগজ কাটছাঁট করে মেট...

উত্থান ও পতনের বিষাদময় আখ্যান: ক্ষমতার দম্ভ ভেঙে অবশেষে হাজতে 'প্রভাবশালী'

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        ​যে হাতের আঙুলে একদা লেগে থাকত কয়লার গুঁড়ো আর রুটি-রুজির চরম সংগ্রাম, সেই হাতেই একদিন উঠেছিল ক্ষমতার রাজদণ্ড। সেই রাজদণ্ডের দম্ভ যে কতটা বিধ্বংসী হতে পারে তার চাক্ষুষ সাক্ষী রইল সালানপুরের কল্যা গ্রাম।          রক্তক্ষয়ী ভোট-পরবর্তী হিংসা, ভাঙচুর ও আতঙ্কের অভিযোগে ১৫ই সেপ্টেম্বর রাতে চয়নপুরের নিজ গৃহ থেকে গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের প্রভাবশালী প্রধান শ্রীকান্ত পাতর।         ​চপ-সিঙাড়ার দোকানের দারিদ্র্য পেরিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার সিঁড়ি চড়ে তৈরি হয়েছিল এক অতিকায় বেনামি সাম্রাজ্য- বালি, পাথর, কয়লার অদৃশ্য কারবার আর কোলিয়ারির চাকরির ভাগবাঁটোয়ারা। রাজকীয় পুজোর চাকচিক্যে একদা যে জনপ্রিয়তার আলো জ্বলেছিল, ভোটের রাজনীতির নৃশংস হিংসায় তা নিমেষে কালিমালিপ্ত হয়ে গেল।          দীর্ঘদিনের পলাতক জীবনের পর ১৬ই সেপ্টেম্বর তাকে রিমান্ডের আবেদনে আসানসোল আদালতে তোলা হতেই সালানপুরের বাতাসে নামল এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া- কোথাও স্বস্তির নিঃশ্বাস, কোথাও ক্ষমতার দ্রুত প...

অজানার ঘূর্ণাবর্তে হারানো শৈশব: পাটনার গোপন ঘরে আলোর সন্ধান

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        ​হঠাৎই এক অজানা আঁধার এসে গ্রাস করেছিল তিনটি নিষ্পাপ জীবনকে। খেলার মাঠের চেনা হাসি, ঘরের চেনা গন্ধ- সবকিছু ভেঙে আসানসোলের ট্রেন ধরে হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল আট, দশ ও বারো বছরের তিন নাবালিকা। দুই সহোদরা আর তাদের এক ছোট্ট প্রতিবেশী। কোথা থেকে এলো এই অলক্ষ্য টানের বিষাক্ত হাতানি? আকস্মিক এই অন্তর্ধানে রূপনারায়ণপুরের বাতাসে নেমে এসেছিল এক হিমশীতল আতঙ্ক ও তীব্র উৎকণ্ঠা।     ​তবে এই বিষাদের দিনে আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠলেন তদন্তকারীরা। সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ সিসিটিভির অন্ধ গলির সূত্র ধরে পৌঁছাল দূর পাটনার অচেনা শহরের বুকে। একটানা তিন দিন তিন রাত ধরে চলল রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা, নিখুঁত অনুসন্ধান আর অজানার মুখোমুখি দাঁড়ানো। অবশেষে পাটনার এক নিভৃত ঘরের গোপন দেয়াল ভেঙে উদ্ধার হলো তিনটি ত্রস্ত শৈশব।      এক মহিলার কব্জা থেকে মুক্ত হয়ে তারা ফেরে চেনা কোলে। ১৬ই সেপ্টেম্বর আসানসোল চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির মাধ্যমে তাদের তুলে দেওয়া হয় স্বজনদের হাতে।         কিন্তু...

সবুজ শৈশব আর কাগজের লড়াই: খেলার মাঠ রক্ষায় খয়রাশোলে কান্নার সুর

Image
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:      ​আইনের নথি আর সরকারি দলিলে খোদাই করা মালিকানার নাম, অন্যদিকে বছরের পর বছর ধরে এক চিলতে সবুজ বুকে আগলে রাখা অসংখ্য শৈশবের চঞ্চল স্মৃতি! দুর্গাপুরের খয়রাশোলে আজ সেই চেনা খেলার মাঠটি দাঁড়িয়ে এক করুণ দ্বিমুখী রাস্তার মোড়ে।         একদিকে মালিকপক্ষ তরুণ দাসদের দাবি- কাগজপত্র ও রেকর্ড তাঁদেরই কথা বলে; আর অন্যদিকে স্থানীয়দের আকুল আবেদন- এই মাঠ যে তাঁদের জীবন ও স্বাসের জায়গা।     ​বুধবার মহকুমা শাসকের দপ্তরের বাইরে ফুটে উঠল সেই বিষণ্ণ ছবি। প্রবীণদের বিকেলের আড্ডা আর শিশুদের নিঃশব্দে দৌড়ে বেড়ানোর স্বাধীনতা কি তবে হারিয়ে যাবে ইট, কাঠ, সিমেণ্টের নিরেট দেয়ালে? সরকারি ফাইলের কঠিন বাস্তবতা আর এক টুকরো সবুজের বাঁচ মরার লড়াই আজ মুখোমুখি।      ​জমি দখলের টানাপোড়েনে ক্ষুব্ধ মানুষগুলো আজ প্রশাসনের দরবারে হাঁটু গেড়ে বসেছে কেবল একটিমাত্র মিনতি নিয়ে- শৈশবের খেলার ঘরটুকু যেন হারিয়ে না যায়। আইনের শুকনো পাতা আর মানুষের আবেগ- দুয়ের এই মহাবীরত্বে খয়রাশোলের আকাশে-বাতাসে এখন ভাসছে এক অনিশ্চিত...