Posts

বাবার লকেটে কুপোকাত হনুমানজী ও পুলিশের আজব খেলা

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ​রাজনীতির হাটে বসন্ত আসুক বা না আসুক, অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানার বর্ষা ঠিকই নেমেছে! বাগেশ্বর বাবার বিতর্কিত বাণী নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন প্রতিবাদের ঝড়, তখন থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে থমকে গেল বিরোধীদের ন্যায়বিচারের রথ।       ৯ সেপ্টেম্বর প্রদেশের নির্দেশে আসানসোল জেলা প্রদেশ কমিটির সদস্য প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডি বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গেলে অদৃশ্য ক্ষমতার ফুঁয়ে সেই এফআইআর হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। কিন্তু নাটকের আসল অঙ্ক শুরু হলো পরদিনই!        ​বিজেপির যুব মোর্চা এক অদ্ভুত তত্ত্ব হাজির করল- বাগেশ্বর বাবার গলায় নাকি হনুমানজীর লকেট ঝুলছিল, তাই বাবাকে কটু কথা বলা মানে সাক্ষাৎ পবনপুত্রকেই অপমান করা!        আর অমনি, 'বর্ষাকালের রচনা লিখতে গিয়ে গরুর রচনা' লিখে ফেলার মতো এক আজব যুক্তিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করল এক সাধারণ নাগরিককে! বর্তমান শাসকদলের আঙুলের ইশারায় পুলিশ প্রশাসনের এই ডিগবাজি দেখে হতবাক আইনজীবী শম্পা সরকার। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর অভিযোগ, রা...

নীরব জলে জমাট রহস্য: গামছা-সাইকেল পাহারায়, পুকুরপাড়ে নেই সন্দীপ

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:         ​সকালের সোনালি আলো যখন জামবাদের চেনা আকাশ ছুঁয়ে যাচ্ছিল, তখনও পুকুরপাড়ের হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছিল অজানা আতঙ্কের এক  শীতল স্রোত। একটি জং-ধরা সাইকেল, ভিজে যাওয়া চেনা গামছা- মাটিতে পড়ে থাকা এই দুটি নিঃসঙ্গ বস্তুই এখন এক অমীমাংসিত হাহাকারের প্রতীক। যার আসার কথা ছিল কাজ থেকে ফিরে চালের হাঁড়িতে ভাত চড়ানোর সংবাদ নিয়ে, সেই ৩৭ বছরের দিনমজুর সন্দীপ বাউরী আজ নিখোঁজ।       ​প্রতিদিনের অভ্যাসমতো শুক্রবার সকালে স্নান করতে পুকুরঘাটে গিয়েছিলেন সন্দীপ। ভেবেছিলেন স্নানটি সেরে সোজা চলে যাবেন দিনমজুরির কাজে। কিন্তু বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও ঘরে ফেরেনি সেই পরিশ্রমী মুখ।       প্রতীক্ষার প্রহর দীর্ঘ হতে হতে রূপ নেয় আশঙ্কায়। বিকেলে পুকুরপাড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁর নিত্যসঙ্গী সাইকেল ও গামছাটি। পরম মমতায় যেন তারা আঁকড়ে ধরে আছে সন্দীপের রেখে যাওয়া শেষ স্পর্শ।      ​কিন্তু মানুষটি কোথায়? শনিবার ভোরে শান্ত পুকুরের বুক চিরে উদ্ধারকারী দলের নৌকা যখন ...

আজকের দিনপঞ্জি

Image
প্রাত্যহিক প্রভাতী শুভেচ্ছা আজ: ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ইংরেজী: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সূর্য উদয়: সকাল ০৫:২৫:৫৫ এবং সূর্য অস্ত: বিকাল ০৫:৪৩:৩৫। চন্দ্র উদয়: সকাল ০৬:১৪:৩৭ এবং চন্দ্র অস্ত: বিকাল ০৬:২১:৪০। শুক্ল পক্ষ  তিথি: দ্বিতীয়া (ভদ্রা) সকাল ঘ ০৭:০৩:৪০ দং ৪/৫/৫৭.৫ পর্যন্ত। নক্ষত্র: উত্তরফাল্গুনী  কালরাত্রি: ০৫:৩৯:৪১ থেকে - ০৭:০৭:৫১ পর্যন্ত। জন্মের সময়ে কন্যা রাশি, বৈশ্য বর্ন, নর গন, অষ্টোত্তরী মঙ্গলের দশা এবং বিংশোত্তরী রবির দশা। শুভ দিন: বিক্রি শুভ, ক্রয় অশুভ। কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম দিবস (১২ সেপ্টেম্বর,১৮৯৪ খৃষ্টাব্দে)। দিনটি সফল ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক।

জাফরানি আবিরে রাঙা নুনি: অবসান হলো দীর্ঘ রোদনের, সূচনা নতুন ভোরের

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        ​পনেরো বছরের পুঞ্জীভূত অন্ধকার আর উপেক্ষার প্রাচীর ভেঙে অবশেষে বারাবনির বুকে ফুটল নতুন আশার আলো। নুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের পলিমাটিতে লেগে থাকা দীর্ঘদিনের স্বজনপোষণ আর বঞ্চনার ক্ষতে মলম দিয়ে শাসককে সরিয়ে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়ের।         শুক্রবারের বিশেষ বৈঠকে সমস্ত সদস্যের উপস্থিতিতে যখন নতুন প্রধান পদে ঋতু বাউরি এবং উপপ্রধান হিসেবে সীমা মণ্ডলের নাম ঘোষিত হলো, তখন তা কেবল এক রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ছিল না- তা ছিল অবহেলিত সাধারণ মানুষের বহু প্রতীক্ষিত নিঃশ্বাসের জয়গান।       ​সংবাদের বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই নুনি পঞ্চায়েত প্রাঙ্গণ পরিণত হলো এক বসন্ত উৎসবে। দলীয় কর্মীদের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়া জাফরানি আবির যেন ধুয়ে মুছে দিতে চাইল এতদিন ধরে চলা কাঁচা মাটির জমাট বাঁধা যন্ত্রণা।        স্থানীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিগত দেড় দশকে যে কাটমানি আর দুর্নীতির বিষবাষ্পে রুষ্ট হয়েছিল জনজীবন, এবার তা থেকে মুক্তি পাবে নুনি। গৃহহীন যোগ্য পরিবার পাবে মাথা গোঁজার নিজস্ব পা...

দেড় শতকের নীরব স্মৃতির বিদায়: কালের আবর্তে ভেঙে পড়ল ঐতিহ্যবাহী মহীরুহ

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        জামুরিয়ার​ নাগেশ্বর কোলিয়ারির ৮ নম্বর এলাকায় বাতাস যেন আজ এক গভীর বিষাদে ভারাক্রান্ত। দেড়শো বছরের স্মৃতি, অসংখ্য ঋতু বদলের নীরব সাক্ষী সেই সুপ্রাচীন বিশাল অশ্বত্থ গাছটি আর নেই। এক চিরচেনা ইতিহাস যেন বিকট শব্দে ধূলিসাৎ হয়ে গেল মুহূর্তের প্রলয়ংকরী আঘাতে।       ​হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়া মহীরুহের বিপুল ভারে গুঁড়িয়ে গিয়েছে একটি আস্ত বসতবাড়ি, চুরমার হয়ে গিয়েছে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ি। সৌভাগ্যক্রমে ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় এক ভয়াবহ অলৌকিক রেহাই মিলেছে প্রাণহানির হাত থেকে, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রয়ে গিয়েছে গভীর ক্ষত হয়ে।      দীর্ঘদিন ধরে যে বৃক্ষ কোলিয়ারিবাসী ও পথশ্রান্ত মানুষকে স্নিগ্ধ ছায়া জোগাত, লাগাতার বৃষ্টিতে তার আলগা হওয়া গোড়া আর ফাঁপা কাণ্ড আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। শিকড় ছিঁড়ে তার এই করুণ পতন কেবল এক প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা নয়, বরং কালের অমোঘ নিয়মে একটি যুগের নিঃশব্দ অবসানের বেদনাময় রূপক। ইতিহাস হারানো কোলিয়ারিতে আজ তাই ছড়িয়ে কেবলই স্বজন হ...

লাল পতাকায় আছড়ে পড়ল গেরুয়া ঢেউ: স্লোগানের সংঘাত দুর্গাপুরের হৃদয়ে

Image
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:         ​একদিকে রক্তিম পতাকার হাওয়ায় প্রতিধ্বনিত 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ', অন্যদিকে ঢাকের চড়া কাঠিতে আকাশ কাঁপানো 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি। শুক্রবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার যেন পরিণত হলো এক রাজনীতির রণক্ষেত্রে। আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের সামনে সিপিএমের সমাবেশকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় মুখোমুখি সংঘাতের উত্তপ্ত বলয়।      ​মঞ্চে শতরূপ ঘোষ ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতি যখন বাম কর্মীদের চাঙ্গা করছিল, ঠিক তখনই বিপরীত প্রান্ত থেকে বিশ্ব হিন্দু রক্ষা বাহিনীর ঢাকের বোলে চড়তে থাকে উত্তেজনার পারদ। শতরূপ ঘোষের শাণিত বাণে বিন্ধ হয় রাজ্য ও কেন্দ্র- অভিযোগ ওঠে ভোট-পরবর্তী রাজনীতির মেরুকরণের। জবাবে শুভ্রা প্রসাদ সাহা বাবুর কণ্ঠে ধ্বনিত হয় হিন্দু সংস্কৃতি রক্ষার প্রতিবাদের সুর।      ​দুই ভাবধারার এই প্রচণ্ড সংঘর্ষে বাতাস যখন বারুদ ঠেকছিল, তখন প্রশাসনের দড়ির ব্যারিকেড আর পুলিশ বাহিনীর তড়িঘড়ি উপস্থিতি কেবল দুটো পক্ষকে আলাদা করেনি, বরং এক অদৃশ্য ফাটলকে সাময়িকভাবে ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। সিটি সেন্টারের ব্...

আশীর্বাদের নতুন আলো: অন্নপূর্ণার আহ্বানে মেতে উঠল আসানসোল

Image
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:         ​তপ্ত পিচঝরা রাস্তায় আজ লেগেছিল এক অন্যরকম উৎসবের ছোঁয়া। গির্জা মোড়ের চেনা মোড়টি শুক্রবারে মুখরিত হয়ে উঠল একরাশ প্রাপ্তি ও আনন্দাশ্রুর গুঞ্জনে। উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত 'অন্নপূর্ণা অভিনন্দন যাত্রা' কেবল এক মিছিল রইল না, তা হয়ে উঠল সহস্র নারীর আত্মসম্মান ও কৃতজ্ঞতার এক জীবন্ত উদ্যাপন।        ​হাতে উজ্জ্বল প্ল্যাকার্ড আর চোখে এক বুক স্বস্তির দীপ্তি নিয়ে শত শত মহিলা যখন পা মেলালেন, তখন যেন ধন্য হলো গৃহকোণের নীরব ত্যাগের গল্পগুলো। অন্নপূর্ণা যোজনার এই প্রাপ্তি তাঁদের জীবনের অনিশ্চয়তায় নিয়ে এসেছে এক টুকরো অন্ন ও আশার আশ্বাস।       ​মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি তাঁদের এই আন্তরিক ধন্যবাদ জানানোর রবে মিশে ছিল এক গভীর আবেগ যা কেবল রাজনীতির সমীকরণ নয়, বরং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এক পরম তৃপ্তি। এই অন্নপূর্ণা অভিনন্দন যাত্রা প্রমাণ করে দিল, করুণা নয়, ভালোবাসার এক অঞ্জলি পেলেই সাধারণের জীবন কীভাবে আনন্দের জোয়ারে ভেসে যেতে পারে। ...