Posts

গণতান্ত্রিক শূন্যতায় ব্যালটের ডাক: ইন্ডিয়া জোটের উত্তাল প্রহর

Image
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:        ​ভোটার তালিকার নিখুঁত পৃষ্ঠায় আজ সংশয়ের কালো দাগ, আর সেই মেঘে ঢাকা রাজনীতির আকাশে গর্জে উঠল গণতন্ত্রের আর্তনাদ। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ঘনীভূত অন্ধকারের মধ্যেই দিল্লির দরবারে বুধবার এক হলো ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- সকলের সরব উপস্থিতিতে স্পষ্ট হয়ে গেল এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক রূপরেখা। আসন্ন অক্টোবরের প্রারম্ভেই দেশজুড়ে আছড়ে পড়তে চলেছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ আন্দোলনের ঢেউ।      ​বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিতর্কিত ‘SIR’ প্রক্রিয়া। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কন্ঠে এদিন স্পষ্ট হয়ে ওঠে কোটি কোটি ভোটারের না বলা ক্ষোভ। তাঁর জোরালো অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে আজ পুতুলের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইভিএমের আড়ষ্টতা কাটিয়ে ব্যালটের পবিত্রতায় ফিরে যাওয়ার ঐতিহাসিক দাবিও উঠেছে।        কমিশনের অন্দরমহল থেকে চুইয়ে পড়া মতপার্থক্য আর সংবাদমাধ্যমের পাতার রোমহর্ষক তথ্য সেই আগুনে যেন ঘৃতাহুতি দিয়েছে। ভোটা...

রক্তের অক্ষরে লেখা প্রতিবাদ: গণতন্ত্রের কুরুক্ষেত্রে মমতার অগ্নিগর্ভ হুঙ্কার

Image
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান  -:      ​দিল্লির কালবৈশাখী হাওয়া যেন এবার আছড়ে পড়ল দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে। ইন্ডিয়া জোটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর বাংলার অগ্নিগর্ভ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ঝরে পড়ল শুধু ক্ষোভ নয়, এক সুগভীর সাংবিধানিক সংকট ও আর্তনাদ। যাঁর প্রতিটি বাক্যে মিশে রয়েছে কোটি কোটি বঞ্চিত মানুষের ভোটাধিকার হারানোর যন্ত্রণাকাতর কান্না।       ​দিল্লির মঞ্চ থেকে সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে মমতা অত্যন্ত চড়া সুরে বলেন, "ভ্যানিশ কুমার চোর, ভ্যানিশ কুমার ডাকাত! ভোট চুরি করেছেন, ইভিএম পুড়িয়েছেন, হাইজ্যাক করেছেন গণতন্ত্র।" তাঁর এই অভিযোগ নিছক রাজনৈতিক বাদানুবাদ নয়, এ যেন এক অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর মশাল জ্বালানোর মরিয়া প্রয়াতন। কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে ইভিএমের কারচুপি থেকে শুরু করে 'সীমা খান্না' ও সফটওয়্যারের রহস্যময় জালকে। বাংলা থেকে শুরু করে গোটা দেশে ভোটার তালিকা ও ইভিএমের মারপ্যাঁচে কোটি কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে তাঁর এই প্রতিবাদ এক ঐতিহাসিক মোড়।       ​মমতার কণ্ঠে স্পষ্ট শোনা গেল আগামী দিনের র...

ক্ষমতার ঘরে ক্ষোভের কড়া নাড়া! অনুব্রতের সামনেই ভাঙল দলের ‘দুর্গ’

Image
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ভোটের ফল প্রকাশের পর প্রথম বার সিউড়ির দলীয় কার্যালয়ে পা রেখেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। ভাবখানা যেন পুরনো ঘরে পুরনো অধিপতির প্রত্যাবর্তন। কিন্তু সেই ঘরের দরজা পেরিয়েই যে এমন ‘অভ্যর্থনা’ অপেক্ষা করছে, তা বোধহয় কারও কল্পনায় ছিল না।         বুধবার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথাবার্তার মাঝেই আচমকা মোটা গাছের ডাল ও লাঠি হাতে ঢুকে পড়েন তিন যুবক। অভিযোগ, অনুব্রতের সামনেই শুরু হয় তাণ্ডব।      এসি থেকে কাচের জানলা, টেবিল-চেয়ার- বাদ যায়নি কিছুই। এমনকী অনুব্রতের সামনে থাকা কাচের টেবিলও ভাঙচুরের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তাঁকে মারধর করা না হলেও ফের দেখলে ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অর্থাৎ, একসময় যে দলীয় কার্যালয় ছিল রাজনৈতিক শক্তির প্রতীক, এদিন সেখানেই যেন কাচের টুকরোয় প্রতিফলিত হল জমে থাকা ক্ষোভের ছবি।       ঘটনার পর তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছর তৃণমূলের আমলে তাঁরা ‘অত্যাচারিত’ ও ‘শোষিত’ হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকে...

‘দলের ট্রেড ইউনিয়ন নেই’, তবু শ্রমিকের মঞ্চে বিজেপি- অর্ণবের ব্যাখ্যায় উঠল সংগঠনের অন্দরকথা

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:    আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনের মঞ্চ যেন উঠল এক পুরনো প্রশ্নের নতুন উত্তর- দলের ট্রেড ইউনিয়ন নেই, তাহলে শ্রমিক সংগঠনের এই আয়োজন কেন? বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর সেই প্রশ্নই রাজনৈতিক মহলে ঘুরছিল। অনুষ্ঠানে তারই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অনেকটা স্বীকারোক্তির সুরে মুখ খুললেন বিজেপির শ্রমিক নেতা অর্ণব চ্যাটার্জ্জী।      অর্ণবের দাবি, শমীক ভট্টাচার্য ঠিকই বলেছেন- বিজেপির কোনও ট্রেড ইউনিয়ন নেই। তাঁর কথায়, ১৯২৬ সালের ট্রেড ইউনিয়ন আইন রাজনৈতিক দলগুলির জন্মের আগেই তৈরি হয়েছিল। তাই রাজনৈতিক দলের নামে ট্রেড ইউনিয়ন থাকার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু বিজেপির কর্মী হিসেবে শ্রমিকদের এক ছাতার তলায় আনার কাজ তাঁরা করে চলেছেন।      অর্ণব বলেন, ২০০৯ সাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজ চলছে। শ্রমিকদের শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং ভবিষ্যতে সরকার গড়লে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ—এই দুই লক্ষ্যেই ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের কার্যক্রম বলে তাঁর দাবি।...

খুনের অভিযোগের কালো মেঘ কাটল, দু’বছর পর আদালতে স্বস্তির রায়

Image
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:     একটি মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছিল খুনের অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভার কাঁধে নিয়ে দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে আদালতের দরজায় ঘুরেছেন দুই ট্রাকচালক। অবশেষে সাক্ষ্য, শুনানি ও পেশ করা তথ্যপ্রমাণের পর বুধবার সেই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে ইতি টানল আসানসোল আদালত। তথ্যপ্রমাণের অভাবে খুনের মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেলেন রবিরঞ্জন কুমার ও ছটু সাউ।      আসানসোল আদালতের এডিজে (চতুর্থ) বিশাখা মণ্ডল (দাস) সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে দু’জনকেই খালাসের নির্দেশ দেন। তাঁদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী ডি ডি মুখোপাধ্যায় ও অঙ্কিত মুখোপাধ্যায়। সরকারি আইনজীবী বা পিপি হিসেবে ছিলেন প্রবীর চট্টরাজ ও অশোক ঘোষ।     পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের গোড়ায় কুলটি থানার চৌরঙ্গী ফাঁড়ির কাছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ট্রাক পার্কিং জোনে কয়েক জন ট্রাকচালকের মধ্যে বিবাদ হয়। সেই ঘটনার পর সুবোধ কুমার যাদব নামে এক ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে এবং রবিরঞ্জন ও ছটু সাউকে গ্রেফতার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় ...

বন্দুকের ‘বাজি’! আসানসোলে নির্জন রাস্তায় জন্মদিনে শূন্যে গুলির ‘উল্লাস’

Image
 রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:     জন্মদিন মানেই কেক, হাসি আর শুভেচ্ছার মুহূর্ত। কিন্তু সেই কেক কাটার পরেই যদি আকাশের দিকে উঠে যায় পিস্তল, আর নীরব রাত চিরে একের পর এক গুলির শব্দ- তবে উৎসবের আলো মুহূর্তেই বদলে যায় আতঙ্কের অন্ধকারে। আসানসোলের নিউটাউন এলাকায় এমনই এক ‘অদ্ভুত জন্মদিন’-এর ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।      হীরাপুর থানার অন্তর্গত নিউটাউনের নির্জন রাস্তায় কয়েক দিন আগে গাড়ি দাঁড় করিয়ে জন্মদিন পালনের আসর বসেছিল কয়েকজন যুবকের। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যায়, গাড়ির বনেটে রাখা বড় কেক কাটছেন সাদা শার্ট ও কালো ট্রাউজার্স পরা এক যুবক। কেকের মিষ্টি মুহূর্ত ফুরোতেই তাঁর হাতে ওঠে পিস্তল। শূন্যে ছোড়া হয় গুলি। এরপর সেই আগ্নেয়াস্ত্র ঘুরে যায় বন্ধুর হাতে; তিনিও শূন্যে গুলি ছোড়েন।       ভিডিয়ো নজরে আসতেই তদন্তে নামে হীরাপুর থানার পুলিশ। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার।      তবে রহস্য এখনও কাটেনি- পিস্তলটি সত্...

বিশ্ব হার্ট দিবস: হৃদয়কে অবহেলা নয়, সচেতনতাই সুরক্ষার প্রথম ধাপ

Image
রমেশ রায়, কলকাতা:-  বিশ্ব হার্ট দিবস। হৃদ্‌রোগের ভয়াবহতা, এর ঝুঁকির কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই এই দিনের প্রধান উদ্দেশ্য। বিশ্বজুড়ে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকসহ কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ এখনও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লক্ষ মানুষ কার্ডিওভাসকুলার রোগে মারা গিয়েছেন, যা ওই বছরে বিশ্বের মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশ। এই মৃত্যুর প্রায় ৮৫ শতাংশই হৃদ্‌যন্ত্রের রক্তনালীর সমস্যা থেকে হওয়া হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের কারণে। কেন বাড়ছে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ-চিনি ও চর্বি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তশর্করা। বায়ুদূষণও কার্ডিওভাসকুলার রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ঝুঁকি। অর্থাৎ, হৃদ্‌রোগ শুধু বংশগত বা বয়সজনিত সমস্যা নয়। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বেশ কিছু অভ্যাসও ঝুঁকি বাড়াতে পার...