Posts

ঘাগরবুড়ির চরণে হঠাৎ কালবৈশাখী: আসানসোলে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রকম্পিত জনপদ

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:      ​রবিবারের অলস দুপুর। শহরের ব্যস্ততা তখন একটু স্তিমিত। ঠিক সেই সময় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বুকে নেমে এল এক মুহূর্তের তাণ্ডব। আসানসোলের ঘাগরবুড়ি মন্দির সংলগ্ন দুর্গাপুরগামী রাস্তায় যেখানে মায়ের কৃপার আশায় মানুষ মাথা নোয়ায়, সেই চত্বরেই হঠাৎ ঝরে পড়ল অসহায় আর্তনাদ।      ​দ্রুতগামী এক চার চাকা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে আছড়ে পড়ে রাস্তার মাঝের ডিভাইডারে। মুহূর্তের মধ্যে সব ওলটপালট। ডিভাইডারের ধারে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা চার পথচারীকে পিষে ফেলে গাড়িটি। এরপর একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্যুরিস্ট বাসে সজোরে ধাক্কা খেয়ে থামে সে। রক্তে ভেজে পিচ রাস্তা।     ​খবর পেয়ে রুদ্ধশ্বাসে ছুটে আসে আসানসোল দক্ষিণ থানা ও ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ। আহত চার পথচারী ও চালককে দ্রুত পাঠানো হয় জেলা হাসপাতালে।        ঘাগরবুড়ির মন্দিরের ধারের এই মর্মান্তিক মুহূর্ত প্রশ্ন তুলে দিল গতির উন্মাদনা নিয়ে। মুহূর্তের অসাবধানতা কেমন করে কেড়ে নেয় স্বস্তি, রবিবারের দুপুর তা ফের দেখিয়ে গেল ...

রিলস বন্দি জীবনের মৃত্যুর ডাক! মন্দিরা ড্যামের গভীরে তলিয়ে গেল তরুণ ইঞ্জিনিয়ার

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        ​রবিবারের স্নিগ্ধ বিকেলটা এক ফালি আনন্দের মোড়কে সেজে এসেছিল বারাবনি ব্লকের পানুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মন্দিরা ড্যামে। কে জানত, প্রকৃতির সেই মনোরম রূপের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক নির্মম কালফাঁদ! কলকাতার এসএনইউ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের উদীয়মান ছাত্র সুপ্রিয় চক্রবর্তী (২২) বন্ধুদের সাথে আনন্দ ভ্রমণ করতে এসে মুহূর্তেই হারিয়ে গেল জলের অতল অন্ধকারে।        দুর্গাপুরের মুচিপাড়ার এই তরুণের আকস্মিক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।       ​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র দু'দিন আগেই এই তরুণের দল সোশ্যাল মিডিয়ার রিল বানানোর লোভে এখানে ছুটে এসেছিল।  রবিবার ফের বন্ধুদের নিয়ে ড্যামের জলে নামার পরই ঘটে বিপত্তি। জলের অতিরিক্ত গভীরতা আর ঘূর্ণির টানে সুপ্রিয় যখন তলিয়ে যেতে শুরু করে, তখন বন্ধুদের বাঁচার সেই আকুল আর্তনাদ মিলিয়ে যায় প্রকৃতির নিঃস্তব্ধতায়। চোখের পলকে এক তাজা প্রাণ গ্রাস করে নেয় মন্দিরা ড্যামের জমা জল।       খবর পেয়ে পুলিশ ও বিডিও ঘটন...

জাতীয় সড়কের স্পর্ধিত চাকা: এক মর্মান্তিক সমাপ্তি আর একটি পরিবারের চির অন্ধকার

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        ​রবিবার সন্ধ্যার স্নিগ্ধ আলো তখন সবেমাত্র মিলিয়ে আসছে, আর ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে নিজের গন্তব্যের দিকে ছুটে চলেছিল রাম রতন শর্মার (৪৫) ছোট্ট বাইকটি। কে জানত, কুলটির চৌরাঙ্গী ফাঁড়ির মেলাকলা রেল সেতুর সেই পরিচিত বাঁকটিই তাঁর জীবনের শেষ পথ হয়ে দাঁড়াবে?      ​হঠাৎই কালান্তক এক মিনিবাসের বেপরোয়া ধাক্কা সজোরে কেড়ে নিল সবকিছু। মুহূর্তের মধ্যে রাজপথ ভিজে গেল রক্তে, থেমে গেল পাঁচগেছিয়া দুর্গামন্দির এলাকার এই মানুষটির সমস্ত চলাফেরা। পুলিশ এসে দ্রুত আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস এড়ানো গেল না- চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করলেন। ঘাতক বাসটি আটক হলেও, যে শূন্যতা তৈরি হলো তা কোনো দিন ভরাট হওয়ার নয়।       ​যান্ত্রিক এই শহরের দ্রুতগতির চাকার নিচে পিষে গেল এক সাধারণ মানুষের স্বপ্ন। জাতীয় সড়কের এই রক্তস্নাত অধ্যায় ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বেপরোয়া গতি কীভাবে মুহূর্তেই তছনছ করে দিতে পারে একটি ভরা সংসার।

আসানসোলে জাতীয় শুটিং লড়াইয়ে শুটারদের সাফল্যে ভাসল এলাকাবাসী

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        ​লক্ষ্যভেদ শুধু অস্ত্রের নয়, একাগ্রতা আর জেদের মেলবন্ধন। আসানসোল রাইফেল ক্লাবের চত্বর মুখরিত তেমনই এক অদম্য উদ্দীপনায়। শুরু হয়েছে ০৩৪১ ইন্ডিয়া ওপেন কম্পিটিশন- এয়ার ওয়েপন ইভেন্টস। দেশের কোণ থেকে উড়ে আসা নির্ভুল নিশানাওয়ালা তরুণ শুটারদের ভিড়ে আসানসোলের মাটি আজ এক জাতীয় মঞ্চ। প্রতিযোগিতার এই উন্মাদনায় পা মিলিয়েছেন সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাও।        ​ক্লাবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও এখানকার শুটারদের মুকুটে থাকা সাফল্যের একের পর এক পালক মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলা ছাড়িয়ে আসানসোল রাইফেল ক্লাব আজ দেশের অন্যতম সেরা সূতিকাগার। অলিম্পিক থেকে শুরু করে  কমনওয়েলথ - বিশ্বমঞ্চে ভারতের তির যেখানেই তীর বিঁধেছে, তার গভীরে রয়েছে এমন সব স্থানীয় ক্লাবের ঘামঝরানো অনুশীলন।            শুটিংয়ের এই বিশাল ক্যানভাসে আসানসোলের মাটিতে জাতীয় স্তরের এমন আয়োজন আগামীদিনের আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়ন তৈরির পথ প্রশস্ত করবে বলেই মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।      ​প্রতিযোগিতার প্...

আসানসোলের সীমানা পেরিয়ে কাটোয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ, গুরুদায়িত্ব পেলেন কৃষ্ণেন্দু

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:        ​রাজনৈতিক পালাবদলের পাঁজরে শান দিয়ে রাজ্য বিজেপির অন্দরে এল বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ঘোষিত নতুন দায়িত্বের তালিকায় এবার ফোকাসে আসানসোল উত্তরের দাপুটে বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়।  তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী মলয় ঘটককে পরাজিত করে খাস তালুকে চমক সৃষ্টি করা এই নেতাকে এবার সঁপে দেওয়া হলো কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জের গুরুভার।       উত্তর ২৪ পরগণার পুরোনো দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলে কৃষ্ণেন্দু বাবু এখন পা রাখতে চলেছেন কাটোয়ার রাজনৈতিক মাটিতে। দলের অন্দরে গুঞ্জন, একুশের বিধানসভা যুদ্ধের ময়দানে জয় ছিনিয়ে আনা এই নেতার অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক ক্ষিপ্রতাই এবার কাটোয়ায় পদ্মফুল ফোটানোর প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে। অন্যদিকে, আসানসোল সাংগঠনিক জেলার ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে বিধায়ক তথা রাজ্য সম্পাদক সিন্টু সেনাপতির হাতে।        ​নতুন দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসী সুরে জানিয়েছেন, দলীয় নির্দেশ ও কর্মীর আস্থার মর্যাদা রাখতে তিনি প্রস্...

মাটির শিকড় উচ্ছেদের চক্রান্তে ফুঁসছে রানীগঞ্জ, জল-জমি বাঁচাতে লড়াইয়ের ডাক

Image
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:       ​কয়লার কালো সোনায় ঝলমলে আসানসোল কয়লাঞ্চলের মাটি আজ চাপা পড়ে গেছে একরাশ চাপা কান্না আর প্রতিবাদের হুঙ্কারে। রঞ্জা থেকে তিরাট আর কুলটির বসন ধাওড়া- আজ বাতাসে শুধু আদিবাসী মানুষের বঞ্চনা আর অধিকার হারানোর দীর্ঘশ্বাস। জঙ্গল আর মাটির কোল থেকে তাদের শেকড় উপড়ে ফেলার যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার বিরুদ্ধে রবিবার ফুসফে উঠল গোটা কয়লাঞ্চল।      ​পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী অধিকার মঞ্চের আহ্বানে অনুষ্ঠিত জোড়া জোনাল সম্মেলনে স্পষ্ট হয়ে গেল এক নির্মম সত্য- দেশের মোট উচ্ছেদ হওয়া মানুষের আশির শতাংশই আজ আদিবাসী। প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনের কর্পোরেট থাবায় ঘরছাড়া করার এই নীতি যেন আধুনিক সভ্যতার কপালে এক জ্বলন্ত কলঙ্কের তিলক। তিরাটের মঞ্চে বিনয় হাঁসদার হাত ধরে গঠিত সঞ্জয় হেমব্রম ও দীনেশ মুর্মুর নতুন কমিটি কিংবা কুলটির লক্ষীরাম হেমব্রম ও দুগাই টুডুর নেতৃত্বে চলা প্রতিরোধ- সবকিছুর একটাই বার্তা: আমরা ভিটেমাটি ছাড়ব না।      ​আজ কয়লাখনির লোভের মুখে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে, এই আদিবাসীরা কি তবে কেবলই পরিসংখ্যা...

ছাইয়ের চাদরে মুড়ে গেল স্বপ্ন: দিশেহারা অন্ডালের প্রতিবন্ধী পরিবার

Image
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:         ​শনিবারের শান্ত সাঁঝবেলা হঠাৎই এক নিমেষে গ্রাস করে নিল এক অদম্য লড়াইয়ের গল্পকে। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত সাড়ে আটটা। অন্ডালের মুকুন্দপুর গ্রামের মোড়ে আশা নন্দীর ছোট তেলেভাজার দোকানটি থেকে হঠাৎই লেলিহান শিখা আকাশ ছুঁতে চায়। প্রতিদিনের মতো কড়াইয়ে কগড়াতে থাকা ফুটন্ত তেলই যেন হয়ে উঠেছিল কাল। এক মুহূর্তের অসাবধানতা, আর তাতেই চোখের পলকে ছাই হয়ে গেল ফ্রিজ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তিল তিল করে জমানো নগদ ত্রিশ হাজার টাকা এবং বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু।       ​প্রাণভয়ে কোনো রকমে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন আশা দেবী, কিন্তু তাঁর বুকফাটা আর্তনাদ মিশে গেল গ্রাসের অন্ধকারে। স্বামী শারীরিক প্রতিবন্ধী; এই ছোট্ট দোকানটির নুন-জল আর ঘাম ঝরানো আয়েই চলত সংসার, দুই সন্তানের মুখের হাসি ও পড়ালেখার খরচ। স্থানীয়দের সাহসিকতায় আগুন নিভলেও ততক্ষণে সব শেষ। অন্ডাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পোড়া কাঠের গন্ধ আর ছাইয়ের স্তূপের মাঝে শুধু পড়ে রইল এক শূন্যতা।       ​আজ নিঃস্ব এই পরিবারটির একটাই হাহাকার- কীভাবে ঘুরে দাঁড়...