দেন্দুয়ার মাটিতে শ্রমিকের জয়গান, বোনাসে জাগল উৎসবের আলো
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান ":
পুজোর প্রাক্কালে দেন্দুয়ার ‘বালাজি গ্লাস’ কারখানায় শ্রমিকদের অটল ঐক্য লিখল জয়ের নতুন কাব্য। সাফ কথা- মাঝখানে কোনো ঝান্ডাধারী রাজনীতি নয়, কথা হবে সরাসরি শ্রমিক আর মালিকের। দীর্ঘ ধর্ণা, গর্জন আর অধিকার আদায়ের দৃঢ় সংকল্পের সামনে শেষমেশ নতিস্বীকার করল কর্তৃপক্ষ। ৮.৩৩ শতাংশ বোনাস দিতে বাধ্য হল মালিকপক্ষ।
কারখানার সিরামিক্স বিভাগে প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিকের মধ্যে স্থায়ী মাত্র ৫০ জন। বাকিরা বছরের পর বছর ঠিকাদারের অধীনে কাজ করেও পান না পিএফ, ইএসআই কিংবা ন্যূনতম আইনি সুরক্ষা। পুজোর মুখে স্থায়ী কর্মীরা যখন প্রায় ৬ হাজার টাকা বোনাস পাচ্ছিলেন, অস্থায়ী শ্রমিকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল মাত্র ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এ বছর সেই অবমাননা মেনে নেননি তাঁরা।
অধিকার আদায়ে একজোট হয়ে আসানসোল লেবার কমিশনারের দপ্তরে অভিযোগ জানান শ্রমিকরা। চাপ আসতেই আলোচনায় বসতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনড় থেকে বিকেল তিনটে থেকে কারখানা চত্বরে ধর্ণায় বসেন তাঁরা। টানা তিন ঘণ্টার উত্তেজনার পর সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ ৮.৩৩ শতাংশ বোনাসের প্রতিশ্রুতি মেলে।
আন্দোলনের মাঝপথে বিএমএস নেতারা হাজির হলে শ্রমিকদের ক্ষোভে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সালানপুর থানার পুলিশ নামলেও শ্রমিকদের স্পষ্ট বার্তা- রুটি-রুজির লড়াইয়ে রাজনৈতিক দালালি নয়।
বোনাস মিলেছে, কিন্তু স্থায়ীকরণ, পিএফ ও ইএসআইয়ের দাবি এখনও বাকি। আগামী ২৭ অক্টোবর লেবার কমিশনারের দপ্তরে বালাজি গ্লাস কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়েছে। সেখানেই নির্ধারিত হবে শ্রমিকদের পরবর্তী লড়াইয়ের পথ।
Comments
Post a Comment