সরা ফুরোয়, স্মৃতি ফুরোয়- হারিয়ে যাচ্ছে লক্ষ্মীর সেই মাটির মুখ
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
কোজাগরীর চাঁদ উঠলেই বাংলার ঘরে ঘরে জেগে ওঠেন ধন-ধান্যের দেবী লক্ষ্মী। কোথাও মাটির প্রতিমা, কোথাও পটের ছবি। আবার কোনও কোনও ঘরে আজও যত্নে সাজানো হয় মাটির সরায় আঁকা লক্ষ্মীর মুখ। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই সরার লক্ষ্মীই যেন ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঘর থেকে।
পূর্ববঙ্গের লোকসংস্কৃতিতে সরায় আঁকা লক্ষ্মীপুজোর ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। দেশভাগের পর সেই সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পরিবারে। একসময় মাটির সরায় শিল্পীর তুলির টানে ফুটে উঠত লক্ষ্মীর মুখ, ধানের শিষ, পেঁচা, পদ্ম- গ্রামবাংলার বিশ্বাস ও নান্দনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন। আজও কিছু পরিবার সেই রীতি ধরে রেখেছে নিষ্ঠায়।
আসানসোলের মহিশীলা পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের কথায়, আগের তুলনায় সরার লক্ষ্মীর চাহিদা এখন অনেকটাই কম।
লক্ষ্মীপুজোর মরসুমে একসময় যে সরা ঘরে ঘরে পৌঁছত, আজ তার জায়গা দখল করেছে আধুনিক নানা রকম প্রতিমা ও সাজসজ্জা। ফলে শুধু কমছে বিক্রি নয়, সংকুচিত হচ্ছে একটি প্রাচীন লোকশিল্পের পরিসরও।
তবুও কিছু মানুষের অন্তরের টানে আজও জ্বলছে এই লোকশিল্পের শেষ প্রদীপশিখা। প্রশ্ন জাগে, প্রযুক্তির কৃত্রিম দৌড়ে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে কি টিকবে এই মাটির টান? নাকি একদিন রঙের তুলি গুটিয়ে চিরতরে হারিয়ে যাবে সরার লক্ষ্মীর মায়াবী ক্যানভাস? কোজাগরীর রাতেই চিরতরে নিভে যাবে সরার লক্ষ্মীর প্রদীপ?
Comments
Post a Comment