উৎসবের আলোয় আঁধারের দীর্ঘশ্বাস: জামুড়িয়ার বাগডিহায় ঝড়ে উড়ে গেল চার পরিবারের মাথার ছাদ


​
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
       
        পঞ্জিকার পাতায় তখন পুজো আসার ক্ষণগণনা। বাতাসে সবেমাত্র পুজোর গন্ধ ভাসতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই শরতের আকাশ আচমকা যেন নামিয়ে আনল এক নির্মম বার্তা। বুধবার সন্ধ্যায় প্রকৃতির এক অদ্ভুত কোপানলে নিমেষেই ওলটপালট হয়ে গেল জামুড়িয়ার বাগডিহা গ্রামের বাউরিপাড়ার চারটে সাধারণ মানুষের সাজানো সংসার।


      ​বুধবার সন্ধ্যার মুখেই হঠাৎ আকাশ কালো করে নেমে আসে প্রবল বৃষ্টি আর তার সঙ্গে হিংস্র এক ঝোড়ো হাওয়া। কয়েক মুহূর্তের ঝাপটায় তাণ্ডব স্পষ্ট হয়ে ওঠে বাউরিপাড়ায়। কোথাও মুহূর্তের মধ্যে চোখের পলকে উড়ে গেল মাথার ওপরের টিনের ছাউনি, কোথাও আবার ভেঙে পড়ল কাঁচা ঘরের টালির চাল। এর ওপর একটি বাড়ির ঠিক ওপরেই আছড়ে পড়ে বিশাল এক প্রাচীন গাছ। মুহূর্তের মধ্যে মাটির দেওয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়ে সমস্ত আসবাবপত্র আর জীবনের জমানো প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাপা পড়ে যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে।

        ​প্রকৃতির এই আচমকা নিষ্ঠুর আক্রমণে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয়ে পড়ে দিলীপ বাউরি ও রেখা বাউরির মতো দুটি অসহায় পরিবার। চোখের সামনে ঘরের চাল উড়ে যেতে দেখে এবং দেওয়াল ভেঙে পড়ার আতঙ্কে তাঁরা ছোট ছোট শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনোমতে বেরিয়ে আসেন বাইরে। 

       মাথার ওপর এক টুকরো ছাদটুকুও যখন অবশিষ্ট নেই, তখন উৎসবের আবহের মাঝে তাঁদের রাতের ঠিকানা হয় গ্রামের একটি ঠান্ডা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। তবে স্বস্তির একটাই দিক, ঝড়ের তাণ্ডব মারাত্মক হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। 

      ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে জামুড়িয়া ব্লক প্রশাসনের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও আধিকারিকরা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে শুকনো খাবার, কাপড় ও রান্নার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, আইসিডিএস কেন্দ্রে সাময়িক আশ্রয়ের পর দ্রুত তাদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। 

       অন্যদিকে, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যান জেলা বিজেপির কৃষাণ মোর্চার সভাপতি রমেশ ঘোষ। ক্ষতিগ্রস্তদের সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি।

      ​আজ যখন গোটা শহর-গ্রাম নতুন পোশাক, আলোকমালা আর পুজো মণ্ডপের আনন্দে মেতে ওঠার অপেক্ষায়, তখন বাগডিহার বাউরিপাড়ার এই মানুষগুলির মলিন মুখে কেবলই এক যন্ত্রণাকাতর প্রশ্ন- উৎসবের আলো জ্বলার আগে কি আদৌ ফিরবে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ের ঠিকানা?
​

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

হিমালয়ের বুকে সাহসের পদচিহ্ন: আসানসোল থেকে রূপসী শৃঙ্গের আহ্বানে