চার দেওয়ালের জীবন পেরিয়ে একদিনের মুক্ত আকাশে ‘মামনিদের’ দুর্গাদর্শন
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
বছরভর চার দেওয়ালের গণ্ডিতে বন্দি জীবন। বাইরের পৃথিবী তাদের কাছে যেন জানালার ফাঁক দিয়ে দেখা একফালি আকাশ। কিন্তু মহাষষ্ঠীর দিনটা ছিল অন্যরকম- একদিনের জন্য খুলে গেল সেই দরজা, মিলল উৎসবের মুক্ত হাওয়া।
শুক্রবার আসানসোলের ইসমাইলের স্ব-শক্তি সদন হোমের ২৫ আবাসিক পা রাখলেন দুর্গাপুজোর রাস্তায়। সমাজের চোখে তাঁরা অনাথ, অসহায়, দুঃস্থ। কিন্তু এদিন তাঁদের পরিচয় একটাই- তাঁরা উৎসবের মানুষ। মীনা কুমারী, তাপসী, আয়েশা, মামনি, রাইমনি, মধু, বর্ণালী, মেহেরুন্না, লক্ষ্মী, আশারা সাজলেন নতুন করে। ধর্মের পরিচয় মুছে গিয়ে একাকার হল তাঁদের হাসি।
বিকেল চারটেয় হোম থেকে বাস ছুটল বার্ণপুর ও আসানসোলের একের পর এক পুজোমণ্ডপে। প্রতিমার চোখে চোখ রেখে, আলোর রোশনাইয়ে, মানুষের ভিড়ে মিশে কয়েক ঘণ্টার জন্য ভুলে গেলেন চার দেওয়ালের জীবন। তাঁদের হাসিই যেন বলে দিল- উৎসবের কোনও ধর্ম হয় না, আনন্দেরও কোনও সীমানা নেই।
টানা দশ বছর ধরে এই আনন্দের কারিগর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিশ্বনাথ মিত্র। পাশে ছিলেন প্রাক্তন মেয়র পারিষদ গুরুদাস চট্টোপাধ্যায়, প্রবাসী বাঙালি পল উপাধ্যায় এবং হোমের সুপার সেরিনা মণ্ডল ও রঞ্জনা মুন্সী।
শেষ গন্তব্য ট্রাফিক কলোনি। সেখানে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও রাতের খাবারের পর ফের চার দেওয়ালের পথে মামনি-রাইমনিরা।
আজকের কয়েক ঘণ্টার আনন্দই এবার তাদের সঙ্গী। আর চার দেওয়ালের ওপারে শুরু হল পরের মহাষষ্ঠীর অপেক্ষা।
Comments
Post a Comment