বন্দিদশা কাটিয়ে মুক্তির আনন্দ: মেমারি পুলিশের 'অবলম্বন' ফিরিয়ে দিল শারদোৎসবের আলো
আনোয়ার আলি আনসারী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
বার্ধক্যের জীর্ণতা কিংবা শরীরের অনমনীয়তা উৎসবের আনন্দ থেকে যাঁদের দূরে সরিয়ে রেখেছিল, এ বছর তাঁদের জীবনে নেমে এল এক আলোর পরশ। চার দেওয়ালের একঘেয়ে খাঁচা ভেঙে শারদীয়ার মহামিলনে সামিল হলেন ২৪ জন প্রবীণা ও শারীরিকভাবে অসমর্থ নারী। পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও মেমারি থানার পুলিশের এক মননশীল ও মানবিক উদ্যোগ 'অবলম্বন' সোমবার রূপ নিল এক জীবন্ত কাব্যে।
তোপধ্বনি বা ঢাকের আওয়াজের অপেক্ষা নয়, এদিন মেমারির বুকে রচিত হলো অন্য এক ইতিহাস। বিশেষ বাসযোগে যখন এই মায়েদের পুজো পরিক্রমা শুরু হলো, তখন তাঁদের ঝাপসা চোখে উপচে পড়েছিল বিস্ময় আর আনন্দের জল। দীর্ঘদিন ঘরের কোণে বন্দি থাকা জীবন যেন হঠাৎ ডানা মেলল পূজার আকাশে। মণ্ডপের রঙিন আলো, ধুনুচির গন্ধ আর প্রতিমার স্নিগ্ধ রূপ তাঁদের হৃদয়ে জাগাল নবীন প্রাণের ছোঁয়া।
উৎসবের এই আনন্দ যাত্রায় যাতে শারীরিক কোনো বিপত্তি না ঘটে, সেজন্য পাশে ছিল মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ টিম।
সন্ধ্যার আলোয় এই মানবিক পরিক্রমায় সামিল হয়ে উৎসাহ দেন স্থানীয় বিধায়ক মানব গুহ। ডিএসপি মেমারি মিজানুর রহমান, সার্কেল ইন্সপেক্টর স্নেহময় চক্রবর্তী, ওসি ব্রজগোপাল হালদার ও সেকেন্ড অফিসার ত্রিদিব রাজের সক্রিয় উপস্থিতি প্রমাণ করল- খাকি পোশাকের আড়ালেও হৃদয়ে লুকিয়ে থাকে এক কোমল মাতৃস্নেহ।
প্রশাসন মানেই কেবল আইনশৃঙ্খলার কড়া পাহারা নয়, মানুষের চোখের জল মোছানোর এক নিঃশব্দ অঙ্গীকার- মেমারি থানার এই ধারাবাহিক মহৎ প্রয়াস আজও সমাজের বুকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
Comments
Post a Comment