ছট ও কালীপুজোয় নিরাপত্তার চাদরে মুড়ল আসানসোল
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
আসন্ন আলোর উৎসব আর ভোরের অর্ঘ্য- দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই উৎসবের আমেজে সেজে উঠেছে পশ্চিম বর্ধমানের মাটি। উৎসব মানেই বাঁধভাঙা আনন্দ, আর সেই আনন্দের রঙে যাতে কোনও বেদনার ছায়া না পড়ে, তার জন্য চরম সতর্কতা ও ভালোবাসার চাদরে মুড়ে ফেলল রাজ্য প্রশাসন। শনিবার আসানসোল সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই উৎসবকে ঘিরে দেওয়া হলো নিরাপত্তার কড়া বার্তা। মন্ত্রী অর্জুন সিং, অগ্নিমিত্রা পাল ও অজয় পোদ্দারের উপস্থিতিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হলো- মানুষের আনন্দ ও বিশ্বাসের সুরক্ষায় বিন্দুমাত্র খামতি রাখবে না সরকার।
প্রতিবারের মতো এবারও পশ্চিম বর্ধমানে ছটপুজো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এক বিশাল মহোৎসবে। নদী ও জলাশয়ের ঘাটে উপচে পড়া ভিড়কে নিরাপদ রাখতে এবার প্রতিটি ঘাটের জন্য নিযুক্ত হচ্ছেন একজন করে নির্দিষ্ট নোডাল অফিসার। গভীর জলের দিকে বিপদ এড়াতে ব্যারিকেডিং, জলে সিভিল ডিফেন্সের অতন্দ্র পাহারা, অ্যাম্বুলেন্সের বন্দোবস্ত এবং যাতায়াতের রাস্তা সংস্কার- সব মিলিয়ে ভক্তদের সুরক্ষায় এক সুনিবিড় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘাটে থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আলোর রোশনাই, যাতে মায়ের উপাসনা ও সূর্যদেবের আরাধনা হয় সম্পূর্ণ শান্তিতে ও নির্ভয়ে।
অন্যদিকে, কালীপুজোর অনুমতি সংক্রান্ত যাবতীয় সংশয় ও মেঘ কেটে গেছে এক ঝটকায়। নতুন হোক কিংবা পুরনো, কোনও পুজোর অনুমতি আটকে থাকবে না- এই আশ্বাসের বাণীতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পুজো কমিটিগুলি। বিদ্যুৎ কিংবা ফায়ার ব্রিগেডের অনুমতির ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক বোঝা বা জটিলতা যাতে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। অতীতের একতরফা নীতির দেয়াল ভেঙে আজ হাত মিলিয়ে কাজ করছে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আমজনতা।
উৎসব কেবল আচার নয়, উৎসব হলো ঐক্যের নামান্তর। ভয় বা সংশয়কে দূরে সরিয়ে, নিরাপত্তা আর ভালোবাসার হাতছানিতে আসানসোল এখন প্রস্তুত এক অপরূপ উৎসবের সাক্ষী থাকতে। সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাঙালির এই মহামিলন হোক আলোকময় ও নিরাপদ।
Comments
Post a Comment