দিল্লির রাজপথে ধরপাকড়, আটক মমতা
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:
রাজধানীর নিরাপত্তা ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
বিক্ষোভের আগুনে উত্তপ্ত রাজধানী দিল্লি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলন ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি, একাধিক এলাকায় ধরপাকড় এবং রাজনৈতিক নেতাদের আটক করার অভিযোগে চড়ল উত্তেজনার পারদ। এরই মধ্যে ভোটচুরির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সাউথ অ্যাভিনিউতে নিজের বাড়ির সামনে ধরনায় বসে আটক হলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে আটক করা হয়েছে তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতাকেও।
জানা গিয়েছে, মমতার সঙ্গে ধরনায় ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, শামিরুল ইসলাম এবং সাকেত গোখেল। ধরনা প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও তাতে রাজি হননি তাঁরা। এরপরই দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে বলে অভিযোগ। বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
প্রিজন ভ্যান থেকেই ফেসবুক লাইভে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও অনুমতি মেলেনি। আন্দোলনের আহ্বান জানানো হয়েছিল বলে দাবি করে তিনি জানান, সেখানে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট নেতাদের আটক করা হয়। পরে বাড়ির সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান বিক্ষোভে বসেও রেহাই মেলেনি। দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ ঘোরানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। যাত্রাপথে কখনও ‘জাগো দুর্গা’, কখনও ‘আঁখো মে ভর লো পানি’ গান গাইতেও দেখা যায় তাঁকে।
এদিকে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া এবং মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারির প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর।
প্রতিবাদ, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং ধরপাকড়- এই তিনের সংঘাতে দিল্লির পরিস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা যেমন প্রশাসনের দায়িত্ব, তেমনই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারও গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সেই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় থাকছে কি না, তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
Comments
Post a Comment