নতুন সূর্যোদয়ের গান: বাংলার শিল্প-আকাশে আশার ঝিলিক
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
একদিন যে বাংলার শিল্প-আকাশে বিনিয়োগের মেঘ জমত, আজ সেই আকাশেই যেন নতুন আলোর রেখা। নিউটাউনের মাটিতে বৃহস্পতিবার সেই সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠল ২,০০০ শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর শিলান্যাস। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে প্রকল্পের সূচনা করলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। ৫১.৭৫ একর জমির উপর গড়ে উঠতে চলা এই চিকিৎসা-পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ হবে ৪,০০০ কোটির বেশি।
তবে নিউটাউনের এই হাসপাতাল যেন বৃহত্তর এক স্বপ্নের প্রথম পৃষ্ঠা। অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকেই ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা করেছেন আদানি। বন্দর, লজিস্টিক, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, রাস্তা-সেতু, রোপওয়ে, গ্রিন সিমেন্ট থেকে হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার- বিনিয়োগের মানচিত্র ছড়িয়ে পড়বে একাধিক ক্ষেত্রে।
আদানির বক্তব্যে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থানও উঠে এসেছে। তাঁর মতে, দেশের শিল্পাঞ্চল, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বঙ্গোপসাগরীয় বাণিজ্যপথের সংযোগস্থল হিসেবে বাংলার বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। বন্দর শক্তিশালী হলে লজিস্টিক বাড়বে, লজিস্টিক টানবে শিল্প, শিল্প চাইবে শক্তি, আর ডিজিটাল পরিকাঠামো খুলবে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের দরজা- এই সমন্বিত শিল্পায়ন মডেলের কথাই বলেছেন তিনি।
আরোগ্য মন্দিরে থাকবে ২,০০০ শয্যা। তার মধ্যে ১,০০০ শয্যা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় রাখার কথা জানানো হয়েছে। প্রকল্পে মেডিক্যাল কলেজ, গবেষণা ও উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামোরও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী।
বিনিয়োগের অঙ্ক যতই বিশাল হোক, তার আসল অর্থ মাপা হবে মাটিতে- কত কর্মসংস্থান তৈরি হল, কত শিল্প এল, কত মানুষের জীবনে বদল নামল। নিউটাউনের এই শিলান্যাস তাই শুধু ইট-পাথরের সূচনা নয়; বাংলার অর্থনীতির দরজায় নতুন সম্ভাবনার কড়া নাড়ার মুহূর্ত।
Comments
Post a Comment