নতুন আদালত ভবনে বিচারপ্রার্থী বিষধর সাপ! দুর্নীতির বিষবাষ্প ও আতঙ্কে থমকে রইল দুর্গাপুর
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
ন্যায়ের মন্দির নাকি সরীসৃপের অভয়াশ্রয়? সোমবার নতুন দুর্গাপুর মহকুমা আদালত ভবন পরিদর্শনে গিয়ে এমনই এক রোমহর্ষক ও অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন তিন বিধায়ক। ভবনের অন্দরে প্রশাসনিক ত্রুটি খুঁজতে গিয়ে তাঁরা দেখলেন, ঘরের মেঝেতে হেলেদুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি বিষধর সাপ! মুহূর্তের মধ্যে চিৎকার ও ছোটাছুটিতে হুলস্থুল কাণ্ড বেধে যায় গোটা চত্বরে।
দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি নতুন এই আদালত ভবনটি প্রায় প্রস্তুত থাকলেও রহস্যজনকভাবে তা তালাবন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। এদিন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে পৌঁছান দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘরুই এবং রানীগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ। পরিদর্শনের মাঝেই সাপ দেখার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শুধু সাপই নয়, অভিজাত এই ভবনের প্রতিটি কোণে পড়ে রয়েছে মদের বোতল, প্লাস্টিক ও নাম না জানা আবর্জনা। দীর্ঘদিন ধরে তালাবন্ধ থাকার সুযোগে চত্বরটি যে সমাজবিরোধীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে, তা পরিষ্কার।
বিধায়কদের ক্ষোভ, তৎকালীন আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের আমলে চলা চরম দুর্নীতি ও উদাসীনতার ফলেই আজ এই দশা। অন্যদিকে, পুরোনো আদালতের জীর্ণ ও বেহাল পরিকাঠামোয় জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।
সাপের ছোবল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়ে বিধায়করা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, জঙ্গল আর আবর্জনার গ্রাস থেকে মুক্ত করে এই নতুন ভবন দ্রুত চালু করতে হবে। ন্যায়ের এই প্রাসাদে সাপ নয়, অবিলম্বে ফিরুক মানুষের অধিকার ও বিচারকাজের আলো!
Comments
Post a Comment