ঘামের মূল্যে আলোর প্রত্যাশা: দেন্দুয়ার মেঘলা আকাশে নতুন ভোরের গান
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
শ্রাবণের অঝোর ধারায় ভেসে যাচ্ছে দেন্দুয়ার অঞ্জনি রেল কারখানার সীমানা। সেই বর্ষার জলে ধুয়ে যাচ্ছে তিন মাস ধরে বকেয়া থাকা আড়াইশো জোড়া হাতের ঘাম আর রক্ত। যন্ত্রের চাকা সচল রাখতে যারা প্রতিদিন নিজেদের উজার করে দেয়, আজ তাদের পেটে টান, অনাহারের ছায়া। বুধবারের সকালে ক্ষোভের উত্তাপ আর অধিকারের চিৎকারে মুখরিত হলো প্রাঙ্গণ। কিন্তু সেই কান্নার মাঝেই কাল মেঘ ফুঁড়ে উদিত হলো আশার নতুন আলো।
ছাতা সরানোর জেদ কিংবা প্রতিশ্রুতির ভাঙা ক্যাসেট সাময়িক অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু শ্রমিকের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের শক্তি স্তব্ধ হয়নি। ভারতীয় মজদুর সংঘের অভিভাবকতুল্য প্রতিবাদী সুর আজ অধিকারবঞ্চিত মানুষগুলোর বুকে এনে দিয়েছে নতুন সাহস।
মুখের কথার বদলে লিখিত পাওনা, পিএফ, ইএসআই -এর সুনিশ্চিত সামাজিক সুরক্ষা, পে-স্লিপ আর পুজোর বোনাসের দাবিতে সোচ্চার এই কণ্ঠ এখন আর একলা নয়। সালানপুরের বহু সংবেদনশীল কারখানা ইতিমধ্যেই হাত বাড়িয়েছে এই ন্যায়ের পক্ষে; অঞ্জনি রেলের বন্ধ দরজাও তাই খুলতে বাধ্য হবে খুব শীঘ্রই।
বঞ্চনার রাত যত গভীরই হোক না কেন, ভোরের আগমনকে তা আটকে রাখতে পারে না। মালিকপক্ষের উদাসীনতা কিংবা ক্ষণিকের দ্বিধাদ্বন্দ্ব অতিক্রম করে জয়ের আলো ফুটবেই।
Comments
Post a Comment