উৎসবের আলো বনাম শ্রমিকের আঁধার: আসানসোল-সালানপুরে বিষাদের ঘাম ও বঞ্চনার সুর


রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:

       ​শরতের পেঁজা তুলো মেঘ আর শিউলির গন্ধে যখন চরাচরজুড়ে আনন্দের দোলা, তখন শিল্পাঞ্চলের চিমনিগুলোর ধোঁয়াটে আকাশে জমে ওঠে বঞ্চনার বিষাদ। উৎসবের আলো কি শুধু স্থায়ী কর্মীদের প্রাসাদেই জ্বলবে? আসানসোল ও সালানপুরের কারখানা প্রাঙ্গণে ঘাম ঝরানো শত শত ঠিকা শ্রমিকের চোখে আজ অনিশ্চয়তার জলছাপ।

     ​মাটির বুক চিরে যারা চাকা ঘোরান, পুজোর মুখে তাঁদের প্রাপ্য বোনাস নিয়ে টালবাহানা যেন এক দীর্ঘদিনের নির্মম পরিহাস। স্থায়ী কর্মীদের ঘরে যখন খুশির জোয়ার, তখন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকের ঘরে শুধুই একরাশ হা-হুতাশ। এই নীরব হাহাকারকে সুর দিতেই আসানসোলের পথে সোচ্চার হয়েছে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ। ডেপুটি চিফ লেবার কমিশনার ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের দ্বারে পৌঁছেছে শ্রমিকের ন্যায়বিচারের দাবি- অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই মেটাতে হবে বকেয়া পাওনা।

     ​যে হাতগুলো দিনরাত যন্ত্রের সাথে যুদ্ধ করে সমৃদ্ধি আনে, উৎসবের ক্ষণে তাদের মলিন মুখ এক বিরাট সামাজিক অপরাধ।  মালিকপক্ষের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের টেবিলে এই শ্রমিকের অধিকারের ফয়সালা হবে কি? 

      শরতের বাতাসে আজ তাই প্রার্থনার মতোই ভাসছে একটাই প্রশ্ন- উৎসবের সমবণ্টন কি সত্যিই কোনোদিন হবে, নাকি দিনমজুরের ঘরে শুধুই জমে থাকবে বোনাস না-পাওয়ার কান্না?

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

জামগ্রাম অঞ্চলে দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে বারাবনি বিধায়ক তথা মেয়র বিধান উপাধ্যায়