বিশ্ব হার্ট দিবস: হৃদয়কে অবহেলা নয়, সচেতনতাই সুরক্ষার প্রথম ধাপ



রমেশ রায়, কলকাতা:- 

বিশ্ব হার্ট দিবস। হৃদ্‌রোগের ভয়াবহতা, এর ঝুঁকির কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই এই দিনের প্রধান উদ্দেশ্য। বিশ্বজুড়ে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকসহ কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ এখনও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লক্ষ মানুষ কার্ডিওভাসকুলার রোগে মারা গিয়েছেন, যা ওই বছরে বিশ্বের মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশ। এই মৃত্যুর প্রায় ৮৫ শতাংশই হৃদ্‌যন্ত্রের রক্তনালীর সমস্যা থেকে হওয়া হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের কারণে।
কেন বাড়ছে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ-চিনি ও চর্বি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তশর্করা। বায়ুদূষণও কার্ডিওভাসকুলার রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ঝুঁকি।
অর্থাৎ, হৃদ্‌রোগ শুধু বংশগত বা বয়সজনিত সমস্যা নয়। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বেশ কিছু অভ্যাসও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ
হৃদ্‌রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদের জায়গা হল—অনেক সময় রোগটি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছনোর আগে স্পষ্ট কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা রক্তে অতিরিক্ত শর্করা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোন লক্ষণগুলি অবহেলা করা বিপজ্জনক?
বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা ব্যথা হাত, কাঁধ, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া—এসব হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য সতর্ক সংকেত হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব বা পিঠ ও চোয়ালে ব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
হৃদয় ভালো রাখতে কী করবেন?
হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষায় কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ—
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য বর্জন করা।
খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমানো।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও হাঁটার অভ্যাস করা।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া।
পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি-সহ সুষম খাদ্য গ্রহণ করা।
অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা এবং বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা।
বিশ্ব হার্ট দিবসের বার্তা তাই শুধু একটি দিনের সচেতনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হৃদয় সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বুকের ব্যথা বা অন্য কোনও সতর্ক সংকেতকে ‘গ্যাসের সমস্যা’ ভেবে ফেলে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জীবন বাঁচাতে পারে।

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

জামগ্রাম অঞ্চলে দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে বারাবনি বিধায়ক তথা মেয়র বিধান উপাধ্যায়