বুকের ভেতরে নদীর রক্তক্ষরণ, সিঙ্গারন বাঁচানোর আকুল আর্তনাদে গর্জে উঠল কুনুস্তোড়িয়া
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
উন্নয়নের ঝাঁ-চকচকে ছদ্মবেশে আজ নিঃশব্দে এক জনপদের প্রাণস্পন্দন কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র। ইসিএল -এর এমডিও প্রকল্পের অশুভ থাবায় বেলবাদ-পরাসিয়া এলাকায় গতিপথ বদলাতে চলেছে শতাব্দী প্রাচীন সিঙ্গারন নদীর। কিন্তু মাটির টানে, নদীর ভালোবাসায় গর্জে উঠল গৃহহারা মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। সোমবার কুনুস্তোড়িয়া এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার অফিসের সামনে প্রতিবাদের ঝড় তুলে স্মারকলিপি জমা দিল ‘সিঙ্গারন নদী বাঁচাও কমিটি’।
নদী তো কেবল পলি-জলের ধারা নয়, সে যে এ অঞ্চলের অস্তিত্ব, জীবিকার এক অমলিন মহাকাব্য! কৃত্রিমভাবে তার গতি রোধ করলে শুকিয়ে যাবে শস্যশ্যামল জমি, নামবে পাতাল জলের স্তর, নির্বিচারে জঙ্গল কাটার ফলে দেখা দেবে ভয়ঙ্কর ভূমিধস। নেপালের সাম্প্রতিক হড়পা বান আর ধ্বংসলীলার ভয়াবহ ক্ষত আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়- প্রকৃতির শিরা কাটার মাশুল কতটা বিষাক্ত হতে পারে।
"নদী ও জঙ্গল আমাদের জীবন, পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন মানবো না"- বিক্ষোভকারীদের এই ক্ষুব্ধ হুঙ্কারে কেঁপে উঠল আসানসোল-দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চল। সিএসআর তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও অরণ্য রক্ষার দাবিতে সরব আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিল, নদী মরে গেলে যে মরে যাবে ভবিষ্যৎ। সিঙ্গারনকে বাঁচাতে তাই আজ রাজপথে আছড়ে পড়েছে রক্তে লেখা এক সংকল্প।
Comments
Post a Comment