সংবিধানের ছবির নিচে বোতলের ঠুং-ঠাং: সরকারি ঘরের আবডালে এক লজ্জাজনক প্রহসন
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:
গণতন্ত্রের পবিত্র মন্দির, যেখানে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা- সেই সরকারি পঞ্চায়েত ঘরের চারদেওয়াল আজ বিষাদ আর লজ্জায় মুখ ঢেকেছে। জামুড়িয়া ব্লকের চিচুড়িয়া পঞ্চায়েতের সভাকক্ষটি আর গণসেবার কেন্দ্র রইল না, পরিণত হলো অবাধ অনাচারের এক প্রকাশ্য সরাইখানায়।
ঘরের দেওয়ালে টাঙানো 'বিকশিত ভারত' কিংবা 'গ্যারান্টি ফর রোজগার'-এর উজ্জ্বল ব্যানারগুলোর ঠিক নিচে যখন চটজলদি মদ্যপানের আসর বসে, তখন তা কেবল সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানো নয়, ক্ষমতার দম্ভে গণতন্ত্রেরই মুখে ছাই ঘষে দেওয়ার মতো এক কুৎসিত উপহাস।
ভিডিওর ঝলকে স্পষ্ট দেখা গেল দশ-বারোজন উল্লাসী মুখ। রাষ্ট্রনেতাদের ছবির ছায়াতলে গ্লাসে গ্লাসে বোতলের ঠুং-ঠাং শব্দ যেন পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক মর্যাদাকে এক নিমেষে ধুলোয় মিশিয়ে দিল।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্বভাবসিদ্ধ কায়দায় শুরু হলো রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়ি। বিরোধীরা শাসকদলের দিকে আঙুল তুলল এবং শাসকদল আঙুল তুলল তৃণমূল আশ্রিত ঠিকাদার ও সুপারভাইজারদের ঘাড়ে।
জামুড়িয়ার বিধায়ক তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বিডিও-র দ্বারস্থ হওয়ার কথা বলছেন বটে, কিন্তু যে পবিত্র মেঝের ওপর এই চরম অসামাজিক কদর্যতা ঘটে গেল, সেই লজ্জার দাগ কি কোনো তদন্ত মুছে দিতে পারবে?
Comments
Post a Comment