কারখানা খুলল, খুলল না শ্রমিকের ভাগ্য - কারখানা কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ারি বিজেপি বিধায়কের


রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:

        কারখানার চিমনি ফের ধোঁয়া ছাড়ছে, উৎপাদনের চাকা ঘুরছে- কিন্তু সেই চাকার শব্দে যেন নেই পুরনো শ্রমিকদের জীবনের ছন্দ। দীর্ঘ বন্ধের পর কারখানা খুলেছে, নতুন নিয়োগও হয়েছে বলে অভিযোগ; অথচ কাজ হারানো ১৩০ শ্রমিকের অনেকের ভাগ্যে ফেরেনি সেই পুরনো কর্মসংস্থান। সেই ক্ষোভেই শুক্রবার সকাল থেকে দুর্গাপুরের ইন্দো আমেরিকা মোড়ে বেসরকারি ইস্পাত কারখানার গেটে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

      বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কারখানার ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক কাজ হারিয়েছিলেন। তখন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ইউনিট ফের চালু হলে ধাপে ধাপে তাঁদের কাজে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বন্ধ ইউনিট খুললেও পুরনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। উল্টে বহিরাগতদের নিয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

       বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। কারখানার গেটের সামনে বাইক ও সাইকেল রেখে কার্যত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষকে ঘিরে ধরে চলে স্লোগান ও ক্ষোভপ্রকাশ।

       আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, স্থানীয়দের কাজ না দিয়ে তাঁদের কি পেটে গামছা বেঁধে ঘুরতে হবে? তাঁর হুঁশিয়ারি, “শ্রমিকের পেটে লাথি মেরে জয় শ্রীরাম বলার দরকার নেই।”

      অন্যদিকে কারখানার আধিকারিক মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, নতুন করে কোনও বহিরাগত নিয়োগ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, উৎপাদন বন্ধ রেখে আন্দোলনের ফলে কারখানার ক্ষতি হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেও জানান তিনি।

       কারখানার দরজা খুলেছে, কিন্তু পুরনো শ্রমিকদের জীবনের দরজা কবে খুলবে- সেই প্রশ্নই এখন ঝুলে রইল গেটের সামনে।

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

জামগ্রাম অঞ্চলে দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে বারাবনি বিধায়ক তথা মেয়র বিধান উপাধ্যায়