চিমনির শূন্যতায় নতুনের আবাহন: রূপনারায়ণপুরের বুকে ফিরুক বাঁচার গান


 রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:

     ​দীর্ঘদিন ধরে নীরব, নিথর হয়ে পড়ে থাকা লোহার কাঠামোগুলো যেন কেবল একেকটি বন্ধ কারখানা নয়- সেগুলো ছিল শত শত শ্রমিকের স্তব্ধ হয়ে যাওয়া স্বপ্নের কঙ্কাল। রূপনারায়ণপুর হিন্দুস্তান কেবেলেসের মতো একের পর এক কারখানায় তালা ঝুলতেই রূপসী বাংলার শিল্পাঞ্চলে নেমে এসেছিল এক অমানিশার অন্ধকার। 

      পেটের তাগিদে, একটু ভাতের আশায় নিজ ভিটে ছেড়ে কেরল কিংবা সুদূর পরিযায়ী জীবনে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছিল এই মাটির তাজা প্রাণগুলো। সেই দীর্ঘ হতাশা আর চোখের জলের ইতি টেনে এবার রাঢ় বাংলার আকাশে-বাতাসে উঁকি দিচ্ছে নতুন এক ভোরের সূর্য।

     ​সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বন্ধ কারখানাগুলোর আইনি জট দ্রুত কাটিয়ে নতুন শিল্পায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে স্বীকার করেন, ঘরের ছেলেমেয়েদের কাজের জন্য ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া এক চরম বেদনার বিষয়। তাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার হলো- অব্যবহৃত জমিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় যুবসমাজের হাতে নিজ ভূখণ্ডেই কাজ তুলে দেওয়া।

       ​যদি বৃহৎ শিল্পের পথ কোনো কারণে কণ্টকাকীর্ণ হয়, তবে সেখানে হাসপাতাল বা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্প গড়ে তুলে প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে সজীব করে তোলার ভাবনা চলছে। 

     যন্ত্রের চাকা আবার ঘুরবে, ঘরের ছেলে ফিরে আসবে মায়ের কোলে-এই অদম্য প্রত্যয়ে আজ রূপনারায়ণপুরের অলিগলিতে নতুন আশার গুঞ্জন। বিষাদের ধূসর ক্যানভাস মুছে গিয়ে আসানসোলের শিল্পাঞ্চল আবারজেগে উঠুক কর্মসংস্থান আর আত্মমর্যাদার এক উজ্জ্বল সূর্যালোকে।

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

জামগ্রাম অঞ্চলে দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে বারাবনি বিধায়ক তথা মেয়র বিধান উপাধ্যায়