কালো হিরের গর্ভে কান্নার সুর: আড়াই শতকের ঐতিহ্য আজ লোকসানের অন্ধকারে


রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:

      ​১৭৭৪ সালের এক ইতিহাসচুম্বিত ক্ষণে যে রানিগঞ্জ কোলফিল্ডের বুক চিরে ভারতের কয়লা খননের প্রথম সূচনা হয়েছিল, আড়াই শতক পেরিয়ে সেই গর্বের আঙিনায় আজ শুধুই হতাশা ও আর্থিক সংকটের কালো ছায়া। ইসিএল -এর সিএমডি সতীশ ঝার বক্তব্যে উঠে এল এক উদ্বেগময় বাস্তবতা- দীর্ঘ ঐতিহ্য ও আবেগে মোড়ানো এই রানীগঞ্জ কয়লাক্ষেত্র আজ দাঁড়িয়ে আছে এক গভীর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে।

     ​প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত সুবিধার্থে একাধিক খনি একত্রিত বা ‘অ্যামালগামেট’ করার পর বর্তমানে রানিগঞ্জের খনির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৭টিতে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, এই ৭৭টি খনির মধ্যে মাত্র ২০টি লাভজনক হলেও বাকি ৫৭টি খনিই মারাত্মক লোকসানে চলছে। 

       ১৭৭৪ সালের ঐতিহাসিক সূচনালগ্ন থেকে যে মাটির তলার কালো হিরে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছিল, আজ সেই কয়লাক্ষেত্রের সিংহভাগ খনি লোকসানের অতলে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষুণ্ণ হচ্ছে ঐতিহ্য এবং ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদনশীলতা।

     ​ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, পুরনো খনিগুলির কার্যক্ষমতা হ্রাস এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের কারণে তৈরি হওয়া এই সংকট এখন কেবল ইসিএল কর্তৃপক্ষের মাথা ব্যথার কারণ নয়, বরং এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমগ্র অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ। 

     মাটির নিচের কয়লা তোলা যেখানে একদা ছিল সমৃদ্ধির বার্তা, আজ তা-ই যেন রূপ নিয়েছে এক চরম আশঙ্কার নাটকে। ভবিষ্যতের আলো জ্বালিয়ে ঐতিহ্যবাহী রানীগঞ্জ কোলফিল্ডকে এই আঁধার থেকে বের করে আনা সম্ভব হবে কি না, আজ সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে শিল্পাঞ্চলের বাতাসে।

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

জামগ্রাম অঞ্চলে দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে বারাবনি বিধায়ক তথা মেয়র বিধান উপাধ্যায়