সবুজের ছায়া, প্রযুক্তির আলোয় বোনা হোক আগামীর ডানা: আসানসোল গার্লস কলেজের নতুন রূপকথা
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
প্রকৃতির স্নিগ্ধ আঁচল আর আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এক নতুন ইতিহাসের সুচনা হলো আসানসোল গার্লস কলেজে। শুক্রবার, এই বিদ্যাপীঠের নতুন ‘নিবেদিতা ভবন’-এর উদ্বোধনী মঞ্চ যেন হয়ে উঠেছিল আগামী দিনের এক স্বপ্নীল ক্যানভাস। রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তরের মন্ত্রী ড. কল্যাণ চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে এই মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করা হয়েছে এক দূরদর্শী পথচলার- যেখানে নারীশিক্ষার প্রদীপের পাশাপাশি প্রজ্বলিত হবে পরিবেশ রক্ষা ও গবেষণার নতুন শিখা।
এবারের এই রূপান্তরে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি প্রান্তিক পরিবারের ছাত্রীদের জন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটিং ল্যাবের ভাবনা। দূরদূরান্ত থেকে আসা যে সমস্ত মেয়েরা নানা প্রতিকূলতায় নিয়মিত ক্লাসে পৌঁছাতে পারেন না, তাঁদের হাতের মুঠোয় শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ডিজিটাল কনটেন্ট রেকর্ডের এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তির মায়াবী ছোঁয়ায় ঘরবন্দি অবসাদ ভেঙে এবার জ্ঞান পৌঁছে যাবে প্রতিটি কৌতূহলী মনে।
শুধু প্রযুক্তির আলোই নয়, প্রকৃতির সবুজ ছন্দেও সেজে উঠছে কলেজ চত্বর। বোটানির ছাত্রীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণাকে সমৃদ্ধ করতে ফার্ম ডাইভার্সিটি পার্ক, বায়োডাইভার্সিটি পার্ক এবং জল সংরক্ষণের মতো সুদূর প্রসারী উদ্যোগের সূচনা হয়েছে।
পাশাপাশি, নিজস্ব তহবিলে বাটারফ্লাই গার্ডেন তৈরির পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, প্রকৃত শিক্ষা কেবল মানুষের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকে না; কাঠবিড়ালি, পাখি আর রঙিন প্রজাপতিদের সুরক্ষার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে এক পূর্ণাঙ্গ সমাজ। দেশীয় উদ্ভিদের ঘ্রাণে ও বিরল প্রজাতির সংরক্ষণে এই ক্যাম্পাস আজ প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।
রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম স্কুলের অধ্যক্ষ স্বামী ভারুপানন্দজী মহারাজ এবং কলেজের অধ্যক্ষ ড. স্বাতী নন্দী চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান রূপ নিয়েছে এক পবিত্র উৎসবে।
নিবেদিতা ভবনের এই নতুন যাত্রা শুধু ইঁট-পাথরের কোনো নির্মাণ নয়, এটি হলো এক বুক আশা নিয়ে এগিয়ে চলা গ্রামীণ ও শহরের মেয়েদের আত্মবিশ্বাসের নতুন ঠিকানা। প্রযুক্তির সচ্ছলতা আর প্রকৃতির উদার কোল- এই দুইয়ের হাত ধরে আসানসোল গার্লস কলেজ আজ প্রমাণ করল, নারীশিক্ষা মানেই সমাজের শিকড় থেকে শিখরে পৌঁছানোর এক অদম্য জয়যাত্রা।
Comments
Post a Comment