দূষণের ধোঁয়ায় স্তব্ধ রাণীগঞ্জ: আবর্জনার পাহাড়ে অদেখা বিপদের প্রচ্ছায়া
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
পরিচ্ছন্নতার আলোয় যখন চারপাশ উদ্ভাসিত হওয়ার কথা, তখন খনিশহর রাণীগঞ্জের বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক অজানা আতঙ্কের বিষ বাষ্প। রাজপথের ধারে উপচে পড়া ডাস্টবিন, দুর্গন্ধের ঘন কুয়াশা আর যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপে আচ্ছন্ন এই প্রাচীন শহর। নিয়মনীতির সুকঠিন বার্তা আর প্রশাসনিক হুঁশিয়ারির আড়ালেও বাস্তবে থমকে রয়েছে দৈনিক পরিচ্ছন্নতার স্বাভাবিক গতি। যে শহর হাজারো মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল, সেই রামবাগান সংলগ্ন এলাকা সহ অলিগলিতে জমা হওয়া বর্জ্য আজ নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই নোংরা পরিবেশেই জন্ম নিচ্ছে এক অদ্ভুত, বিরল প্রজাতির মাছি-যা কাটা ফল ও পচা খাবারের ওপর উঁকি দিয়ে নিঃশব্দে ছড়িয়ে দিচ্ছে রোগের জীবাণু। আইএমএ -এর রাণীগঞ্জ শাখার সভাপতি ডাঃ অনির্বাণ ঘোষ অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে সতর্ক করেছেন, এই মাছি ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও কলেরার মতো মারণ ব্যাধির প্রাদুর্ভাব বহু গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। খনি অঞ্চলের বাতাসে এমনিতেই দূষণের ভার, তার ওপর এই জমে থাকা বিষাক্ত আবর্জনা থেকে ভূগর্ভস্থ জল ও মাটির দূষণ ডেকে আনছে এক গভীর স্বাস্থ্য সংকট।
একদা ঐতিহ্যবাহী এই শহরের প্রতিটি নিঃশ্বাসে আজ কেবলই দুর্গন্ধ আর ব্যাধির ভয়। সৌন্দর্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল, সেই আশার আলো কি তবে এই আবর্জনার পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে থাকবে? রোগের করাল গ্রাস থেকে রাণীগঞ্জের আকাশ- বাতাসকে মুক্ত করতে এক দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ব্যাকুল প্রতীক্ষায় দিন গুনছে সমগ্র খনিঞ্চল।
Comments
Post a Comment