রক্তের অক্ষরে লেখা প্রতিবাদ: গণতন্ত্রের কুরুক্ষেত্রে মমতার অগ্নিগর্ভ হুঙ্কার
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:
দিল্লির কালবৈশাখী হাওয়া যেন এবার আছড়ে পড়ল দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে। ইন্ডিয়া জোটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর বাংলার অগ্নিগর্ভ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ঝরে পড়ল শুধু ক্ষোভ নয়, এক সুগভীর সাংবিধানিক সংকট ও আর্তনাদ। যাঁর প্রতিটি বাক্যে মিশে রয়েছে কোটি কোটি বঞ্চিত মানুষের ভোটাধিকার হারানোর যন্ত্রণাকাতর কান্না।
দিল্লির মঞ্চ থেকে সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে মমতা অত্যন্ত চড়া সুরে বলেন, "ভ্যানিশ কুমার চোর, ভ্যানিশ কুমার ডাকাত! ভোট চুরি করেছেন, ইভিএম পুড়িয়েছেন, হাইজ্যাক করেছেন গণতন্ত্র।" তাঁর এই অভিযোগ নিছক রাজনৈতিক বাদানুবাদ নয়, এ যেন এক অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর মশাল জ্বালানোর মরিয়া প্রয়াতন। কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে ইভিএমের কারচুপি থেকে শুরু করে 'সীমা খান্না' ও সফটওয়্যারের রহস্যময় জালকে। বাংলা থেকে শুরু করে গোটা দেশে ভোটার তালিকা ও ইভিএমের মারপ্যাঁচে কোটি কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে তাঁর এই প্রতিবাদ এক ঐতিহাসিক মোড়।
মমতার কণ্ঠে স্পষ্ট শোনা গেল আগামী দিনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি। তিনি ঘোষণা করলেন, "অনুরোধ নয়, আমাদের জোরাল দাবি- এক মিনিটও পদে থাকার অধিকার নেই ওঁর। মাটি থেকে আকাশ, চাঁদ, সূর্যে পৌঁছবে আন্দোলন।" বিরোধী জোটকে এক ছাতার তলায় এনে গণতন্ত্র রক্ষার এই পণ কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেঁচে থাকার লড়াই।
ছাত্রছাত্রী থেকে নারী সমাজ- সকলের কাছে জীবনপণ লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে তিনি এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। যখন সমস্ত বাধা পেরিয়ে রাজপথ কাঁপানোর ডাক আসে, তখন তা হয়ে ওঠে আপামর দেশবাসীর আত্মসম্মান রক্ষার শেষ দুর্গ।
আজ বাংলার নেত্রীর এই হুঙ্কার শুধু একটি চেয়ারের পতন নয়, বরং ধূলিসাৎ হওয়া গণতন্ত্রকে ফের নতুন প্রাণ দেওয়ার এক মহাকাব্যিক অঙ্গীকার।
Comments
Post a Comment