হরিপুরে ‘গ্রাম বাঁচাও, কোলিয়ারি বাঁচাও’ স্লোগানে গণ কনভেনশন


রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:

       কয়লার নিচে চাপা পড়বে কি ঘর, উঠোন, স্মৃতি? খনির বিস্তারের আশঙ্কায় হরিপুরে এবার শুরু হলো প্রতিবাদের জনস্রোত। ইসিএলের প্রস্তাবিত নতুন খোলামুখ খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে ‘গ্রাম বাঁচাও, কোলিয়ারি বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত হল বৃহৎ গণ কনভেনশন। কনভেনশনে বক্তাদের কথায় বারবার উঠে এল বসতি, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।

     আন্দোলনকারীদের দাবি, পাণ্ডবেশ্বর, অন্ডাল ও জামুড়িয়া এলাকা মিলিয়ে প্রায় ৪২১৮ হেক্টর জমি খোলামুখ খনির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২১০০ হেক্টর জমিতে খনির কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ৩২টি গ্রাম, একাধিক ভূগর্ভস্থ খনি, বাজার, স্কুল ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

    কনভেনশন থেকেই তৈরি হয়েছে আন্দোলনের পরবর্তী পথের নকশা। আইনজীবী সৌমেন মিত্রকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয়েছে সংগ্রাম কমিটি। রয়েছেন সুভাষ বাউড়ি, নীলিমা রুইদাস, সারথি সোরেন, হারাধন গোপ ও মহম্মদ সাবির। প্রথমে গ্রামে গ্রামে সচেতনতা, পরে জেলা প্রশাসন ও ইসিএল কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

       বক্তাদের দাবি, অতীতে খোলামুখ খনির বিস্তারে একাধিক গ্রাম অস্তিত্ব হারিয়েছে। এবারও কয়েকটি ভূগর্ভস্থ খনি খোলামুখ খনিতে পরিণত হলে শ্রমিকদের বদলি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

       তাই কয়লার সঙ্গে যেন মানুষের বসতিও না হারায়- এই আবেদনেই সরব হরিপুর। আধুনিক প্রযুক্তিতে ভূগর্ভস্থ খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের বিকল্পও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। প্রস্তাবিত প্রকল্প ঘিরে জনমত গঠনের এই উদ্যোগ আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

জামগ্রাম অঞ্চলে দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে বারাবনি বিধায়ক তথা মেয়র বিধান উপাধ্যায়