রেলের স্পন্দন রক্ষায় আন্দোলনের হুংকার: চিত্তরঞ্জনের আকাশে প্রতিরোধের ডাক
সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:
শিল্পশহরের প্রাতঃকালীন শান্ত বাতাসে তখন আন্দোলনের উত্তাপ। ৮ই সেপ্টেম্বর, সকাল ১০টা বাজতেই চিত্তরঞ্জন জি এম অফিসের সীমানা লাল পতাকার ছায়ায় ও সুসংগঠিত স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে। 'চিত্তরঞ্জন বাঁচান, রেল বাঁচান, দেশ বাঁচান'- এই প্রত্যয়ী আওয়াজকে বুকে ধারণ করে সিএলডাবলু লেবার ইউনিয়নের আহ্বানে আছড়ে পড়ে সর্বস্তরের মেহনতি মানুষ ও বাসিন্দাদের ঢল।
লোকোমোটিভের ঐতিহ্যময় চাকা যেখানে ভারতের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে, আজ সেখানেই অনাহূত আউটসোর্সিং ও অফলোডিংয়ের কালো ছায়া। আধুনিকীকরণের নামে কারখানাকে রুগ্ণ করার যে কূটকৌশল, তার বিরুদ্ধে এটি স্পষ্ট প্রতিরোধ। ক্ষোভের অগ্নিতে ঘি ঢেলেছে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ, ইনসেনটিভের বকেয়া এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। পুরোনো পেনশন স্কিমের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে আনা ও ৮ম পে কমিশনের দ্রুত প্রয়োগ আজ প্রতিটি শ্রমিকের অন্তরের আকুতি।
মঞ্চে যখন উপস্থিত সুদীপ দত্ত, আভাস রায় চৌধুরী কিংবা মীনাক্ষী মুখার্জ্জীর কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, তখন স্পষ্ট বোঝা যায়- এ যুদ্ধ কেবল রুটি-রুজির নয়, এ যুদ্ধ শিল্পশহরের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার। হুমকি সংস্কৃতি ও একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শ্রমিকের এই ঐক্যবদ্ধ ধর্না আসলে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্পদকে বেসরকারিকরণের গ্রাস থেকে বাঁচানোর এক ঐতিহাসিক সংকল্প।
Comments
Post a Comment