চিরনিদ্রায় তরুণ জওয়ান, শ্রীনগর থেকে মহিশীলার ধুলোয় ফিরল মোনু সাউয়ের নিথর দেহ
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
পাহাড়ের চূড়ায় বরফশীতল বাতাসে যিনি পাহারা দিতেন দেশের সীমানা, আজ তিনি ফিরলেন হিমশীতল নিথর দেহ হয়ে। শ্রীনগরের ডিউটি সেরে ঘরে ফেরার কথা ছিল যাঁর, সেই কনস্টেবল মোনু সাউ ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে- চিরকালের মতো। শ্রীনগরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো এই তরুণ জওয়ানের পার্থিব দেহ রবিবার আসানসোলের মহিশীলা এলাকার পৈতৃক গ্রামে পৌঁছাতেই আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠল এক অন্তহীন কান্নায়।
গ্রামের চেনা মেঠো পথ, যে পথ একদিন তাঁর শৈশবের দুরন্তপনায় মুখরিত থাকত, আজ সেখানে শুধু দীর্ঘশ্বাসের শব্দ। দেহ গ্রামে আসতেই ভেঙে পড়ে পরিবার। শোকে পাথর হয়ে যাওয়া মা-বাবা আর আত্মীয়-স্বজনের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে মহিশীলার বাতাস। স্থানীয় মানুষরা ভিড় জমান শেষবারের মতো প্রিয় ‘মোনুদা’ বা তাঁদের আদরের ছেলেকে একনজর দেখার জন্য। অশ্রুসিক্ত চোখে ফুল দিয়ে জওয়ানকে শেষ শ্রদ্ধা জানান আপামর গ্রামবাসী। এক তরতাজা প্রাণের এমন আকস্মিক ঝরে যাওয়ায় স্তব্ধ গোটা এলাকা।
এই গভীর সংকটে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর প্রতিনিধিরা পৌঁছে যান জওয়ানের বাড়িতে, সমবেদনা জানান এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। অনুপ চট্টোপাধ্যায়ের কথায় স্পষ্ট হয়েছে সেই সাহায্যের বার্তা।
দেশের সুরক্ষায় বুক পেতে দেওয়া এক সূর্য-সন্তান আজ অস্তমিত। মহিশীলার আকাশে আজ শুধু শূন্যতার সুর, মোনু সাউয়ের স্মৃতিতে ভেজা এক বুক কান্না।
Comments
Post a Comment