অন্ধকার গলিতে আশার আলো: নিয়ামতপুরে অবহেলিত জীবনের মূলস্রোতে ফেরার মেলবন্ধন
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
নিয়ামতপুরের রেড লাইট অঞ্চলের অন্ধকার আচ্ছন্ন গলিগুলিতে মঙ্গলবার নামল এক নতুন ভোরের রোদ। লালবাতির নিষিদ্ধ আলোয় ঢাকা যে শৈশব ও জীবন এতদিন শুধুই অবহেলা আর বঞ্চনার অন্ধকারে বন্দি ছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে মানবতার এক উজ্জ্বল স্পর্শ আঁকলেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ড. প্রবীণ কুমার এবং জেলা লিগ্যাল সেলের সচিব তথা বিচারক আম্রপালি চক্রবর্তী। সঙ্গে ছিলেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক সানা আখতার, জাভেদ হোসেন ও স্থানীয় থানার পুলিশ প্রতিনিধিরা।
দিশা জনকল্যাণ কেন্দ্রের আঙিনায় পৌঁছাতেই যেন থমকে থাকা বাতাস নতুন করে শ্বাস নিল। শিশুদের হাতে নতুন স্কুলব্যাগ ও চকলেট তুলে দিয়ে, তাদের চোখের কোণে লুকিয়ে থাকা কুঁড়িগুলিকে বিকশিত করার আশ্বাস দিলেন ড. প্রবীণ কুমার। পরম স্নেহে তাদের পড়াশোনার খোঁজ নিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, জীবনের মূলধারা থেকে তারা বিচ্ছিন্ন নয়। শিশুদের হাসিমুখ আর লাজুক চোখের সেই আনন্দঘন মুহূর্ত সেখানে উপস্থিত সবার হৃদয়ে এনে দিল এক পবিত্রময় স্বস্তি।
পরবর্তীতে দিশা কেন্দ্র ও দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে যৌথ আলোচনায় উঠে এলো গভীর মানবিক উদ্বেগের কথা। যৌনপল্লির চার দেয়ালের ভেতরের বাসিন্দা এবং ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া বসতবাড়ির হিসাব থেকে শুরু করে অপরাধ প্রতিরোধ-প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে যে নারীরা বিষণ্ণতার মায়াজাল ছিন্ন করে সমাজের মূলস্রোতে ফিরতে চান, তাঁদের জন্য কাউন্সেলিং, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খোলার বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাবালকদের প্রবেশ রোধ এবং আবর্জনার স্তূপ দূর করে এলাকাকে পরিচ্ছন্ন করার প্রদীপ্ত অঙ্গীকার করলেন কমিশনার।
বিচারক আম্রপালি চক্রবর্তীর আশার কণ্ঠে ধ্বনিত হলো, সচেতনতার এই আলোকবর্তিকা কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দেওয়া হবে। ভয় আর আশঙ্কার অদৃশ্য প্রাচীর ভেঙে, অন্যায়কে নতি স্বীকার না করে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার জন্য সংস্থাগুলিকে পূর্ণ প্রশাসনিক সহায়তার বার্তা দেওয়া হলো।
Comments
Post a Comment