ভক্তির স্রোতে প্রচ্ছায়ার আবাহন: দাসকিয়ারিতে জগন্নাথ ধামের পুণ্য পথচলা
শুক্লা ব্যানার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
শ্রীশ্রী রাধাষ্টমীর পুণ্যপ্রভাতে ভক্তি আর আধ্যাত্মিকতার এক অনাবিল স্বর্গীয় সুবাসে স্নাত হলো আসানসোলের দাসকিয়ারির ধূলিকণা। অজয় নদের তীর থেকে উঠে আসা বাসপাহাড়ির পুণ্যতোয়া ধারা আজ যেন বয়ে নিয়ে এল নিখিল ভক্তহৃদয়ের আকুল ব্যাকুলতা। জগন্নাথদেবের এক ভব্য মন্দির নির্মাণের শুভ সূচনা উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহাসিক ১০০৮ কলশযাত্রা- যে যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরল শঙ্খধ্বনি, হরিণাম সংকীর্তন আর ঈশ্বরের প্রতি মানবের চিরন্তন আকুতি।
পবিত্র জলভরা মঙ্গলঘট মাথায় তুলে হাজারো নারীদের সারি যখন গ্রামের ধূলিধূসরিত পথ বেয়ে এগিয়ে চলল, তখন দাসকিয়ারির অলিগলি যেন মর্ত্যের কোনো এক মায়াপুরীতে রূপান্তরিত হয়েছিল। পথের দু’পাশে করজোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রবীণ-নবীনদের চোখে অশ্ৰু আর মুখে শুধুই জয়ধ্বনি।
এক হাজার আটটি কলশের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই পদযাত্রা শত সহস্র ভক্তের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুহূর্তেই রূপ নিল এক বিশাল মানব-সমুদ্রে, যেখানে ধনী-দরিদ্রের সমস্ত ভেদাভেদ মুছে দিল কেবল একটাই সুর- ঈশ্বরানুরাগ।
কলশযাত্রার শেষে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও ভক্তিগম্ভীর আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্থাপিত হলো নীলমাধবের হবু মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর।
মন্দিরের কর্ণধার নিমাই প্রভু ও উপস্থিত সাধু-সন্তদের উপস্থিতিতে আজ যে পথচলা শুরু হলো, তা কেবল ইটের ওপর ইট সাজানোর উৎসব নয়; এ হলো হাজারো বিশ্বাসী মানুষের আত্মার আশ্রয় গড়ে তোলার শুভ অঙ্গীকার।
দাসকিয়ারির বাতাসে আজ কেবলই প্রণামের গুঞ্জন- এই ভব্য ধাম হয়ে উঠুক সকল তাপিত প্রাণের শান্তি ও মুক্তির চিরন্তন সোপান।
Comments
Post a Comment