মহাযজ্ঞের সূচনায় দীপ্ত তেরঙ্গা: নাগোয়ার আঙিনায় ভারতের স্বপ্নযাত্রার প্রারম্ভ
স্পোর্টস ডেস্ক, নিউজ হিন্দুস্থান -:
আলো ঝলমলে স্টেডিয়ামের বুক চিরে ছড়িয়ে পড়ছিল হাজারো আলোর রশ্মি, গ্যালারিতে তখন উচ্ছ্বাসের উত্তাল তরঙ্গ। জাপানের নাগোয়ায় ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় যখন ২০২৬ এশিয়ান গেমসের ঢাক বাজল, তখন কেবল একটি ক্রীড়ানুষ্ঠানের সূচনাই ঘটল না; বরং এশিয়ার মানচিত্রে শুরু হল শতকোটি হৃদস্পন্দনের এক নতুন উপাখ্যান।
বর্ণাঢ্য এই অলৌকিক সন্ধ্যায় সকলের দৃষ্টি স্থির ছিল একটি মুহূর্তের দিকে- যখন ভারতের গর্বিত তেরঙ্গা হাতে সামনে এগিয়ে এলেন জোড়া অলিম্পিক পদকজয়ী তরুণী মনু ভাকের এবং বীরদর্পী কাবাডি তারকা পবন সেহরাওয়াত।
প্যারিসের অলিম্পিক মঞ্চ কাঁপানো মনুর চোখে তখন নতুন ইতিহাস গড়ার দীপ্তি, আর পবনের কাঁধে এশিয়ার বুকে ভারতীয় শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করার অদম্য অঙ্গীকার।
অবশ্য এই মাহেন্দ্রক্ষণের নেপথ্যে রয়ে গেল এক নিঃশব্দ আক্ষেপের ছায়াও। তিন-তিনটি স্বর্ণপদকের স্বপ্ন চোখে নিয়ে নামা শট-পুটার তাজিন্দরপাল সিং তুর প্রথম পছন্দ হলেও, সময়মতো অফিসিয়াল কিট হাতে না পাওয়ায় অলক্ষ্যেই সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
কিন্তু সেই আকস্মিক মুহূর্তকে সামলে নিয়ে পবন যখন পতাকাবাহক হিসেবে মনুর পাশে দাঁড়ালেন, তখন সেখানে কোনো অপূর্ণতা ছিল না- ছিল কেবল অনমনীয় ভারতীয় চেতনার জয়গান।
পতাকার পতপত শব্দে আর তেরঙ্গার মোহনীয় মহিমায় নাগোয়ার আলো আঁধারিতে যেন লেখা হয়ে গেল নতুন ভোরের প্রস্তাবনা। গ্যালারি থেকে ভেসে আসা করতালি আর অভিনন্দনের মধ্য দিয়ে ভারতের ক্রীড়াবিদরা জানান দিলেন- তাঁরা তৈরি। কেবল খেলায় অংশ নিতে নয়, রক্ত ঘাম ঝরানো প্রতিটি বিন্দু দিয়ে বিশ্বমঞ্চে ভারতের সার্বভৌমত্ব আর আধিপত্যের দাগ কেটে দিতে।
উদ্বোধনের দীপশিখা জ্বলে উঠেছে, এবারে লড়াই শুরু পদকের। নাগোয়ার এই রোমাঞ্চকর রাতের পর কোটি কোটি ভারতীয় এখন প্রহর গুনছেন—কখন তাঁদের ঘরের ছেলেমেয়েরা তেরঙ্গাকে আরও উঁচুতে উড়িয়ে এনে দেবেন জয়ের অমর বার্তা।
Comments
Post a Comment