মাটির শিকড় উচ্ছেদের চক্রান্তে ফুঁসছে রানীগঞ্জ, জল-জমি বাঁচাতে লড়াইয়ের ডাক


রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -: 

     ​কয়লার কালো সোনায় ঝলমলে আসানসোল কয়লাঞ্চলের মাটি আজ চাপা পড়ে গেছে একরাশ চাপা কান্না আর প্রতিবাদের হুঙ্কারে। রঞ্জা থেকে তিরাট আর কুলটির বসন ধাওড়া- আজ বাতাসে শুধু আদিবাসী মানুষের বঞ্চনা আর অধিকার হারানোর দীর্ঘশ্বাস। জঙ্গল আর মাটির কোল থেকে তাদের শেকড় উপড়ে ফেলার যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার বিরুদ্ধে রবিবার ফুসফে উঠল গোটা কয়লাঞ্চল।

     ​পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী অধিকার মঞ্চের আহ্বানে অনুষ্ঠিত জোড়া জোনাল সম্মেলনে স্পষ্ট হয়ে গেল এক নির্মম সত্য- দেশের মোট উচ্ছেদ হওয়া মানুষের আশির শতাংশই আজ আদিবাসী। প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনের কর্পোরেট থাবায় ঘরছাড়া করার এই নীতি যেন আধুনিক সভ্যতার কপালে এক জ্বলন্ত কলঙ্কের তিলক। তিরাটের মঞ্চে বিনয় হাঁসদার হাত ধরে গঠিত সঞ্জয় হেমব্রম ও দীনেশ মুর্মুর নতুন কমিটি কিংবা কুলটির লক্ষীরাম হেমব্রম ও দুগাই টুডুর নেতৃত্বে চলা প্রতিরোধ- সবকিছুর একটাই বার্তা: আমরা ভিটেমাটি ছাড়ব না।

     ​আজ কয়লাখনির লোভের মুখে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে, এই আদিবাসীরা কি তবে কেবলই পরিসংখ্যান? এসআইআর -এর নামে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দিয়ে তাদের নাগরিক অস্তিত্ব মুছে ফেলার এই চক্রান্ত কোন অন্ধকারের ইশারা?

     ​সম্মেলন থেকে হুঙ্কার উঠেছে- অবৈধ উচ্ছেদ চলবে না, ভূমিহীনদের অবিলম্বে পাট্টা দিতে হবে। জল, জমি আর জঙ্গলের অধিকার রক্ষায় এই মানুষগুলো আজ আর একা নয়। তিরাট ও কুলটির সম্মেলনে উপচে পড়া ভিড় বুঝিয়ে দিল, অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই খেলা আর বরদাস্ত করা হবে না। মাটির অধিকার রক্ষায় রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের যে আগুন আজ জ্বেলে উঠেছে, তা অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত থামার নয়।
​

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

জামগ্রাম অঞ্চলে দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে বারাবনি বিধায়ক তথা মেয়র বিধান উপাধ্যায়