হৃদস্পন্দন থেমে গেল মন্দির-দুয়ারে: বিষাদের ছায়ায় অসম্পূর্ণ যাত্রাপথ
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
শুভ সকালের মিষ্টি আলো তখন সবে ফুটছে আসানসোলের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া মা ঘাঘর বুড়ি মন্দির চত্বরে। কলকাতা থেকে আসা ট্যুরিস্ট বাসটি এসে থামল পুণ্যভূমির প্রাঙ্গণে। যাত্রীদের চোখে তখন দেবদর্শনের আকুলতা আর হৃদয়ে ভক্তির আনন্দ। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দঘন মুহূর্তের নেপথ্যে ওত পেতে বসে আছে চরম এক মর্মান্তিক নিয়তি!
বাসের চাকা থামতেই সহসা থমকে গেল চালক বিশ্বেশ্বর পন্ডিতের (৫৩) জীবনচক্র। বিহারের সিওয়ানের এই প্রবীণ চালক বাসের আসন ছেড়ে নামার আগেই অনুভব করলেন বুকে অসহ্য যন্ত্রণা। সহকর্মী ও যাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই অচৈতন্য হয়ে ঢলে পড়লেন তিনি।
মুহূর্তের মধ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে নেমে এল নিস্তব্ধতা, যা পরক্ষণেই রূপান্তরিত হলো এক তীব্র আতঙ্ক ও শোকে। আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ তড়িঘড়ি তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ঘোষণা করেন- বিশ্বেশ্বরবাবু আর নেই। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট জানায়, নীরব ঘাতক হৃদরোগ কেড়ে নিয়েছে এই লড়াকু প্রাণটিকে।
বিকালে আসানসোল জেলা হাসপাতাল চত্বরে যখন পুলিশের কাছ থেকে মরদেহ গ্রহণ করতে এলেন বিশ্বেশ্বরবাবুর পরিবারের সদস্যরা, তখন কান্নায় ভেঙে পড়ল চারপাশ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারানোর হাহাকার স্পর্শ করল উপস্থিত সকলকে।
তবে এই বিষাদঘন অন্ধকারের মধ্যেও ফুটে উঠল মানবতার এক অপূর্ব আলো। অসহায় যাত্রীদের পাশে এসে দাঁড়াল মন্দিরের দায়িত্বে থাকা 'কালীপাহাড়ি ধর্মচক্র সেবা সমিতি'। তাঁরা শোকাহত ও দিশাহারা যাত্রীদের নিজেদের ধর্মশালায় থাকার জায়গা করে দিলেন, তুলে দিলেন অন্ন। সেই উষ্ণ আপ্যায়ন ও আন্তরিকতা শোকের মাঝেও যাত্রীদের বুকে পৌঁছে দিল আশ্বাসের ছোঁয়া।
Comments
Post a Comment