রক্তিম নেশার কালো ছায়া মুছে, আলোর পথে কাঁকসার দুরন্ত তারুণ্য
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
স্নিগ্ধ রোদ গায়ে মেখে কাঁকসা বিডিও অফিস সংলগ্ন উৎসব ভবন যেন এক টুকরো আগামীর স্বপ্নভূমি হয়ে উঠেছিল। বাতাসে তখন বিষণ্ণ ধোঁয়া নয়, বরং তারুণ্যের দৃপ্ত শপথ- "নেশামুক্ত সমাজ চাই, বাল্যবিবাহ রুখতে হবে।" একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ সচেতনতা শিবির প্রমাণ করল, সমাজের পচন ধরা ক্ষতগুলো নিরাময়ে বয়স নয়, প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছার।
এদিনের অনুষ্ঠানে ব্লকের চারটি বিদ্যালয়ের কচিকাঁচা থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। গতানুগতিক ভাষণে সীমাবদ্ধ ছিল না এই আয়োজন- তরুণ মনদের শাণিত যুক্তিতে মুখরিত এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তারা তুলে ধরে নেশার করাল গ্রাস থেকে সমাজকে মুক্ত করার 'পজিটিভ' রূপরেখা। প্রতিযোগীদের হাতে যখন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, তখন খুদে চোখগুলোতে ছিল এক আত্মবিশ্বাসের আলো।
দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের আইনজীবী পূজা কুর্মির একটি মর্মস্পর্শী মন্তব্য আজও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বাতাসে। তিনি গভীর আক্ষেপের সুরে বলেন, প্যাকেটের গায়ে মৃত্যুর স্পষ্ট সতর্কবাণী দেখেও মানুষ নিজের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে বিষ কিনে শরীরে মরণব্যাধি ডেকে আনছে, যার শেষ পরিণতি কেবলই অন্ধকার ও মৃত্যু। নেশার পাশাপাশি সমাজদেহের আরও এক ক্যানসার- বাল্যবিবাহ রোধের বার্তা ও আইনি কড়াকড়ির পাঠও এদিন সমান গুরুত্ব পায়।
তবু সমস্ত শঙ্কার ভিড়ে আশার আলো জ্বেলেছে এই নতুন প্রজন্ম। যেভাবে ছাত্র-ছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছে, তাতে বলাই যায়- এই তরুণরাই আগামী দিনে কাঁকসার মাটি থেকে মুছে ফেলবে নেশার অন্ধকূপ। সেদিন হয়তো সত্যি সত্যিই এক সুস্থ, সুন্দর ও মুক্ত সমাজের জন্ম হবে, যেখানে প্রতিটি শৈশব বাঁচবে তার আপন মহিমায়।
Comments
Post a Comment