কল্যাণেশ্বরী PHE বটলিং প্ল্যান্টের সামনে পুরনো শ্রমিকদের বিক্ষোভ,৮ বছর কাজ করাদের বাদ দিয়ে 'বহিরাগত' নিয়োগের অভিযোগ
চিত্তরঞ্জন প্রসাদ, সালানপুর:-
কল্যাণেশ্বরী স্থিত জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের (PHE) 'প্রাণধারা' প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটার বটলিং প্ল্যান্টের মূল গেটের সামনে স্থানীয় পুরনো শ্রমিকরা এক তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র বেতনে পরিষেবা দেওয়ার পরও বকেয়া না মিটিয়ে তাঁদের কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের জায়গায় বহিরাগতদের নিয়োগ করা হয়েছে। স্থানীয় যুবকদের উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে বহিরাগতদের নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
আধিকারিকদের আশ্বাস পূরণ নয়, দেড় বছরের বেতন বকেয়া
বিক্ষোভ কারীদের নেতৃত্বদানকারী শ্রমিক সম্রাট হাঁড়ি জানান, তাঁদের পাঁচজন শ্রমিক—সম্রাট হাঁড়ি, বিশু দাস, মিলন প্রধান, কিষাণ হাঁড়ি ও দীপক বাউরি—গত ৮ বছর ধরে এই প্ল্যান্টে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকার সামান্য বেতনে কাজ করে আসছিলেন। তাঁদের কাজ থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে গত দেড় বছর ধরে বেতনও বন্ধ রাখা হয়।
তিনি জানান, আগে PHE-র আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা চৌরাঙ্গি ফাঁড়ি আধিকারিকের উপস্থিতিতে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, পাঁচজন না হলেও অন্তত ৩ জন পুরনো শ্রমিককে অবশ্যই কাজে রাখা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি অমান্য করে প্ল্যান্ট চালু করে দেওয়া হয় এবং পুরনো শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, এই বটলিং প্ল্যান্টটি ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের (কল্যাণেশ্বরী) অধীনে পড়ে, কিন্তু এখানকার স্থানীয় যুবক বা ডুবুরডিহি অঞ্চলের কাউকে কাজে নেওয়া হয়নি। ৩-৫ জন পুরনো স্থানীয় শ্রমিককে বাদ দিয়ে রামনগর, দেবীপুর, কুলটি ও ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ১১ জন নতুন বহিরাগতকে রাজনৈতিক প্রভাবে মোটা টাকার বিনিময়ে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকাই আজ তাঁদের বেকারত্বের মূল কারণ।
পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
বিক্ষোভের কারণে নবান্নে সরবরাহের সরকারি পানীয় জলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে, কুলটি থানার অন্তর্গত চৌরাঙ্গি ফাঁড়ির পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
Comments
Post a Comment