পরীক্ষার খাতার ভিড়ে হারিয়ে গেল এক প্রাণ: রাজবাঁধের হোস্টেলে নিভে গেল অভিষেকের পৃথিবী


চিত্তরঞ্জন প্রসাদ, নিউজ হিন্দুস্থান -:

     ​বইয়ের পাতার ভাঁজে লুকিয়ে থাকা কটি শুকনো ফুল কিংবা কঠিন সিলেবাসের পাহাড়- সবকিছুকে পেছনে ফেলে চিরতরে ঘুমে তলিয়ে গেল একুশ বছরের এক তরতাজা প্রাণ। শুক্রবার দুপুরে রাজবাঁধের এক বেসরকারি হাসপাতালের হোস্টেল ঘরের দরজা ভেঙে উদ্ধার হলো প্রথম বর্ষের ডাক্তারি পড়ুয়া অভিষেক কুমারের ঝুলন্ত দেহ। 

       বিহারের সিতামারীর স্বপ্নালু ছেলেটি দুর্গাপুরে পা রেখেছিল স্টেথোস্কোপ গলায় ঝোলাবে বলে। কিন্তু ভবিষ্যতের সেই সোনালী সিঁড়িতে পা রাখার আগেই থমকে গেল সব লড়াই।

      ​পরীক্ষার খাতার অদৃশ্য চাপ আর অন্তহীন প্রত্যাশার বোঝা এক নিঃসঙ্গ তরুণকে কতটা একা করে দিতে পারে, রাজবাঁধের এই মর্মান্তিক পরিণতি তারই এক নির্মম দলিল। সহপাঠীরা যখন লাঞ্চ সেরে ফিরে এসে দেখল ভেতর থেকে বন্ধ কপাট, তখন হয়তো কেউ ভাবেনি ভেতরের নীরবতা এত দীর্ঘ হবে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ফুঁড়ে ঝরে গেল একটি তাজা প্রাণ।

      ​এই মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের আলো নিভিয়ে দেয়নি, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার অদৃশ্য প্রতিযোগিতা ও তরুণ মনের ভঙ্গুরতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। খাকির খসখসে নোটবুক আর মার্কশিটের নম্বরের চেয়েও অনেক দামি এই জীবন। একটু সহানুভূতি, একটা আলগোছে ছোঁয়া হাত কিংবা কথা বলার সহজ পরিবেশ কি বাঁচাতে পারত অভিষেককে? 

    সিতামারী থেকে অন্ধকারের দিকে রওনা দেওয়া শোকার্ত বাবা-মায়ের আর্তনাদে আজ ভারী হয়ে উঠেছে রাজবাঁধের বাতাস। নম্বর নয়, সবার আগে বাঁচুক কচি প্রাণগুলো- এই বার্তাটাই আজ রেখে গেল অভিষেকের শিউরে ওঠা প্রস্থান।

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

জামগ্রাম অঞ্চলে দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে বারাবনি বিধায়ক তথা মেয়র বিধান উপাধ্যায়