সহানুভূতির ছাতা, সরকারি জমির মাথায় কার ঘর?
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
গরিবের মাথায় ছাদ চাই—কথাটি মানবিক। কিন্তু সেই ছাদের খুঁটি যদি সরকারি জমির বুকে গেঁথে যায়, আর প্রশাসনের চোখে ততদিনে যেন কুয়াশা নামে, তবে প্রশ্নও মাথা তোলে। রূপনারায়ণপুরের পিঠাকিয়ারি মৌজায় এনটিপিসি সংলগ্ন ৩.৪৮ একর সরকারি জমি দখলের অভিযোগে পঞ্চায়েত প্রধান অপর্ণা দাস-সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে।
অভিযোগ, জমির বৈধ ডিড বা পাট্টা নেই, অথচ সেখানে উঠেছে একাধিক বাড়ি। আরও চমক—পঞ্চায়েত সেই বাড়িতে কর নিয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ‘নো অবজেকশন’-ও দিয়েছে বলে অভিযোগ। অর্থাৎ জমি ছিল সরকারের, ঘর উঠল মানুষের, প্রশাসন যেন কাগজে-কলমে বলল—“বাড়ি যখন হয়েছে, করটাও দিয়ে যান!”
পঞ্চায়েতের যুক্তি, অভাবী মানুষের কথা ভেবেই সহানুভূতি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু সহানুভূতির কি সরকারি জমিতে দলিল লেখার ক্ষমতা আছে?
গরিবের ঘর ভাঙা সমাধান নয়, আবার গরিবের দারিদ্র্যকে ঢাল করে নিয়ম ভাঙাও মানবিকতা নয়। তদন্তে সত্য প্রকাশ পাক—কারণ সরকারি জমির মালিক জনগণ, পাহারাদারের দায়িত্ব পাহারা দেওয়া, চোখ বুজে থাকা নয়।
Comments
Post a Comment