‘লাভার্থী’ না কি ‘মাফিয়া’? পদ্মশিবিরের অন্দরে ব্যাজ-ছিনতাইয়ের রাজনীতি
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনে বিজেপির ‘লাভার্থী সম্পর্ক অভিযান’ চলাকালীন যা ঘটল, তা স্রেফ রাজনৈতিক নাটক নয়, এক অনবদ্য রাজনৈতিক প্রহসন! সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারের নানা সুফল ভোগ করা সাধারণ মানুষদের জড়িয়ে ধরা। তবে সেখানে ঘটল এক আশ্চর্য ঘটনা- দলের ব্যাজ বুকে সেঁটে বসা ‘অনাহূত’ অতিথি এমডি আনোয়ারকে একপ্রকার ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ব্যাজ কেড়ে নিয়ে বার করে দেওয়া হলো। সৌজন্যে: বিজেপির জেলা সংখ্যালঘু মোর্চার নেত্রী নাজরিন সাবিয়া।
নেত্রীর সাফ যুক্তি- “দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হবে। সিন্ডিকেট বা কয়লা মাফিয়ার কোনো স্থান নেই এই শুদ্ধ আঙিনায়!” অথচ অভিযুক্ত আনোয়ার বাবুর দাবিটি ভারী করুণ। তিনি নাকি বন্ধুর হাত ধরে নিতান্ত সহজ-সরল মনে খাতায় নাম লিখিয়ে ব্যাজটি পেয়েছিলেন। একসময়ের কয়লা ব্যবসায়ী, আর বর্তমানে পাথর-ইটের কারবারি আনোয়ার নিজেকে নিষ্ঠাবান ‘বিজেপি সমর্থক’ হিসেবেই দাবি করছেন। এমনকি নতুন সরকারের আমলে সব বৈধ কাগজ নিয়ে ব্যবসা করার দিনবদলের আশাতেও তিনি বুক বাঁধছেন।
রাজনৈতিক মহলে রসিকতা এখন চরমে। বিজেপির খাতায় নাম লিখিয়ে যিনি ব্যাজ ঝুলিয়ে বসলেন, তিনি স্রেফ আমন্ত্রণের তালিকায় ছিলেন না বলেই কি ‘মাফিয়া’ হয়ে গেলেন, নাকি দলের অন্দরের কড়াকড়ির মহড়া দেখাতে গিয়েই বলির পাঁঠা হলেন? একদিকে মাফিয়াতন্ত্রমুক্ত ভাবমূর্তি গড়তে মরিয়া বিজেপি, অন্যদিকে ‘দলে ঠাঁই পাওয়ার’ আশায় বুক বাঁধা এক অদম্য সমর্থকের চরম পরিণতি- দুইয়ের টানা পোড়েনে রবীন্দ্র ভবনের সভাটি ‘লাভার্থী’দের চেঁচামেচির চেয়ে ‘ব্যাজ কাড়াকাড়ি’র হাস্যাস্পদ নাটক হিসেবেই রাজনৈতিক ইতিহাসে স্থান করে নিল।
Comments
Post a Comment