বিজেপির ‘ধূলিকালা’ ও দূষণের বিষবাষ্প: কুলটির বাতাসে নাটকীয়তার রাজনীতি


রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:

      ​পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চলে এখন নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকারটুকুও রাজনীতির ধূলিঝড়ে ম্লান। পুরো অঞ্চল জুড়ে উড়ছে বিষাক্ত ধূলিকণা, আর তার সঙ্গেই উড়ছে শাসকদলের নেতাদের দেওয়া নানাবিধ ভারী প্রতিশ্রুতি। যে বাতাসে অক্সিজেন থাকার কথা ছিল, সেখানে সাঁতার কাটছে ভারী গাড়ির ওড়ানো ধুলো আর নেতাদের বিজ্ঞাপনের মহিমা। এই চরম জনদুর্ভোগের মুখে দাঁড়িয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা ওবিসি কংগ্রেস সভাপতি তথা আইনজীবী রাজেশ্বর শর্মা সোচ্চার হয়েছেন। তাঁর তীক্ষ্ণ সওয়াল- ‘নাটক’ ছেড়ে কাজের কাজটা হবে ঠিক কবে? বিরোধী আসনে থাকতে আন্দোলনের মহড়া দেওয়া সহজ, কিন্তু ক্ষমতার উষ্ণ গদিতে বসে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া যেন আরও সহজ। 

    রাজেশ্বরবাবুর প্রশ্ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক- জেলায় যখন বিজেপির একাধিক বিধায়ক ও পদাধিকারী রয়েছেন, হাতে প্রশাসনের নানা লিভার, তখন সাধারণ মানুষ কেন প্রতিনিয়ত ধুলো খেয়ে বেঁচে থাকবেন? বাইরে থেকে আসা ধুলোবাহী বেপরোয়া যান নিয়ন্ত্রণ কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থায় সদিচ্ছার যে ঘাটতি দৃশ্যমান, তা আসলে প্রশাসনিক ব্যর্থতা নাকি স্রেফ উদাসীনতা?

       ​সবচেয়ে ট্র্যাজিক-কমেডি তো অন্যত্র! অতীতে যে তোলাবাজির অভিযোগ শুনে মানুষ দল বদলেছিল, আজ নাকি সেই একই দুর্নীতির সুর বাজছে খোদ শাসক শিবিরের অন্দরেই।

    তবে সৎ নেতাদের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি প্রশাসনকে তিনি বেঁধে দিয়েছেন ১৫ থেকে ২০ দিনের পরিষ্কার সময়সীমা। হুঁশিয়ারি স্পষ্ট- বাতাসের বিষ না কমলে, সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেসের এই আন্দোলন আর ঘরে বন্দি থাকবে না, নেমে আসবে রাজপথে। কারণ, বাতাস তো আর নেতাদের মতো দল দেখে বিষ ছড়ায় না!

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

বিশ্ব যোগ দিবসে বৃক্ষরোপণ ও গো-সেবা কর্মসূচি