তারাপীঠে প্রার্থনার রাত, আগুনে নিভল একাধিক প্রাণ


সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান -:

     শ্রাবণের শেষ সোমবার। তারাপীঠে তখন ভক্তির ঢল। মন্দিরে পুজো দেওয়ার আশায় দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন অগণিত পুণ্যার্থী। কিন্তু সেই পুণ্যভূমির রাতেই নেমে এল মৃত্যুর কালো ছায়া। ঘুমন্ত মানুষের স্বপ্ন পুড়িয়ে দিয়ে আগুন কেড়ে নিল অন্তত সাতটি প্রাণ।

       সোমবার ভোরে তারাপীঠ থানার অদূরে পুকুরপাড়ের একটি বেসরকারি হোটেলে আচমকাই আগুন লাগে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে গ্রাউন্ড ফ্লোরের রিসেপশন এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে চারতলা হোটেলের বিভিন্ন অংশে। অধিকাংশ আবাসিক তখন গভীর ঘুমে। ঘুম ভাঙতেই চারপাশে শুধু ধোঁয়া, চিৎকার আর প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা।

      খবর পেয়ে দমকল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর হোটেলের ভিতর থেকে একে একে উদ্ধার হয় দগ্ধ মৃতদেহ। গুরুতর আহত কয়েকজনকে দ্রুত রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

      মৃতদের পরিচয় এখনও সম্পূর্ণ জানা যায়নি। কয়েকজন উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও দিনহাটার বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। স্বজনদের খোঁজে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন পরিবারের সদস্যরা। কারও চোখে জল, কারও কণ্ঠে শুধু একটাই প্রশ্ন- প্রিয় মানুষটি কোথায়?

    প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের আশঙ্কা করা হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তারাপীঠে সেদিন হাজার কণ্ঠে প্রার্থনা উঠেছিল। অথচ সেই প্রার্থনার মাঝেই আগুন কেড়ে নিল কয়েকটি পরিবারের ভবিষ্যৎ। মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনির পাশে যেন আজও ভেসে আসে অসহায় কান্না।

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

বিশ্ব যোগ দিবসে বৃক্ষরোপণ ও গো-সেবা কর্মসূচি