মামলার পাহাড়ে ভোলা সিং: ৬টি কেস, অস্ত্র আইনের খাঁড়া মাথায় নিয়ে চলছে লাগাতার পুলিশি হেফাজত


চিত্তরঞ্জন প্রসাদ, নিউজ হিন্দুস্থান:-

গ্রেফতারির পর থেকে যেন স্বস্তি পাচ্ছেন না তৃণমূল সালানপুর ব্লকের কংগ্রেসের সহ সভাপতি ভোলা সিং। একের পর এক মামলার জেরে গত ১৯ জুন থেকে টানা পুলিশি হেফাজতেই কাটছে তার দিন। গত ১৮ জুন রাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা রুজু হয়েছে। সাধারণ মারধর বা চুরির মতো মামুলি অভিযোগের পাশাপাশি এবার তার বিরুদ্ধে যুক্ত হয়েছে মারাত্মক অস্ত্র আইনও।সীমান্ত পল্লীর গণেশ ধীবরের অভিযোগ
ভোলা সিংয়ের বিরুদ্ধে সর্বশেষ মামলাটি দায়ের হয়েছে গত ৪ জুলাই। রূপনারায়ণপুর সীমান্তপল্লী এলাকার বাসিন্দা গণেশ ধীবর সালানপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই সালানপুর থানায় ১৪১/২৬ নম্বর মামলা রুজু করা হয়েছে।এই মামলায় ভোলা সিং সহ মোট ১২ জনের নাম রয়েছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ২৫/২৭ ধারা ছাড়াও ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) একাধিক গুরুতর ধারা—৪৪৮, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৫, ৩৫৪বি, ৩৭৯, ৩৮৬, ৫০৬ এবং ৩৪বি প্রয়োগ করেছে। এই মামলার জেরে আসানসোল আদালতের বিচারক ভোলা সিংকে ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামীকাল, ৭ জুলাই।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভোলা সিংয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে যে সমস্ত ধারা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বেআইনি অস্ত্র রাখা ও ব্যবহারের অভিযোগ।জোরপূর্বক ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় (তোলাবাজি), চুরি, গুরুতর জখম করা, পথ আটকানো, হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন, বিনা শান্তিতে ঘরে প্রবেশ এবং নারীর বস্ত্রহরণ ও শ্লীলতাহানির মতো মারাত্মক অভিযোগ।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্র আইন ছাড়া বাকি ধারাগুলোতে অপরাধ প্রমাণিত হলে ১ মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত জেল ও অর্থদণ্ড হতে পারে। তবে অস্ত্র আইনের ধারা প্রমাণিত হলে ১০ বছর থেকে শুরু করে আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। যদিও এই সমস্ত কিছুই প্রমাণসাপেক্ষ এবং অস্ত্র আইনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অস্ত্রটি উদ্ধার বা বাজেয়াপ্ত করা পুলিশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।পাথর খাদান সংক্রান্ত প্রথম মামলায় ভোলা সিংকে আদালতে তোলা হলে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর হয়।
 জোড়বাড়ির মকরধ্বজ যাদবের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আরও ২ দিনের পুলিশি হেফাজত মেলে।আদালতে তোলার আগেই অর্জুন সিং ও তার স্ত্রীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন মামলায় আরও ৪ দিনের হেফাজত দেওয়া হয়।
হেফাজত শেষের আগেই প্রান্তপল্লীর বাসিন্দা কার্তিক দাসের অভিযোগে সালানপুর থানায় ১৩৯/২৬ নম্বর মামলা দায়ের হয় (অস্ত্র আইন সহ)। এতে ভোলা সিং সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে এবং আদালত পুনরায় ২ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করে।
 কার্তিক দাসের মামলার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কল্যাণগ্রামের বাসিন্দা দেবাশীষ দাসের অভিযোগে সালানপুর থানায় ১৪০/২৬ নম্বর মামলা রুজু হয় (অস্ত্র আইন সহ ৭টি ধারা)। এই দফায় আদালত মাত্র ১ দিনের পুলিশি হেফাজত দেয়।
এই হেফাজত শেষ হতে না হতেই গণেশ ধীবরের অভিযোগে (১৪১/২৬ নম্বর মামলা) ফের ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের মুখে পড়েন ভোলা সিং।আগামীকাল, ৭ জুলাই ভোলা সিংয়ের বর্তমান পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপর আগামী ৮ জুলাই তাকে পুনরায় আসানসোল আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। এখন দেখার, ৮ জুলাই আদালতে তোলার আগে ভোলা সিংয়ের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলার 'বর্ষণ' হয়, নাকি এই নাটকীয় ঘটনাক্রম অন্য কোনো মোড় নেয়। আপাতত আসানসোল শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

বিশ্ব যোগ দিবসে বৃক্ষরোপণ ও গো-সেবা কর্মসূচি