ব্যস্ত মন্ত্রীত্বের মাঝেও চিরন্তন চিকিৎসক সত্তা: ডক্টরস ডে-তে মানবসেবার নজির ডা. অজয় পোদ্দারের
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
প্রশাসনিক ক্ষমতার অলিন্দে থেকেও নিজের শিকড়কে ভোলেননি তিনি। মন্ত্রীত্বের ব্যস্ততা কিংবা রাজনৈতিক জীবনের দায়িত্ব—কোনো কিছুই তাঁর ‘চিকিৎসক’ সত্তাকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি। জাতীয় চিকিৎসক দিবসের মাহেন্দ্রক্ষণে সেই মানবিকতার অনন্য প্রতিফলন ঘটালেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পিডব্লিউডি ও পিএইচই মন্ত্রী তথা কুলটির বিধায়ক ডা. অজয় পোদ্দার। এদিন তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত এক বৃহৎ বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরে শত শত মানুষের ভিড় যেন প্রমাণ করল, তিনি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি নন, এলাকাবাসীর পরম ভরসাস্থলও।
এদিন শতাধিক অসহায় মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি তাঁদের হাতে বিনামূল্যে ওষুধ তুলে দেন তিনি। ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত ডা. পোদ্দার আবেগমথিত কণ্ঠে বলেন, “চিকিৎসা কেবল একটি পেশা নয়, এটি মানবসেবার মহান ব্রত।” তাঁর কাছে রোগী কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত নন, বরং অসুস্থ মানুষ হিসেবেই তাঁরা পরম আদরণীয়। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে উন্নয়ন যেমন তাঁর কর্তব্য, তেমনই একজন চিকিৎসক হিসেবে রোগীর পাশে দাঁড়ানো তাঁর সর্বোচ্চ ধর্ম।
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যক্লিষ্টতার করুণ বাস্তবতাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আজও প্রশাসনিক কাজের ফাঁকে স্টেথোস্কোপ হাতে রোগীর পাশে দাঁড়ান। তিনি মনে করেন, ঠাকুর বা ভগবানের পর মানুষ সবচেয়ে বেশি ভরসা করেন একজন চিকিৎসকের ওপর। সেই পবিত্র বিশ্বাসকে সম্মান জানানোই একজন চিকিৎসকের নৈতিক দায়িত্ব।
এদিন তিনি করোনা যোদ্ধা সমস্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মন্ত্রীত্বের চাকচিক্য নয়, বরং মানুষের সেবার মাধ্যমেই যে পরম শান্তি পাওয়া যায়, ডা. অজয় পোদ্দারের এই উদ্যোগ ও দর্শন তা আরও একবার নতুন করে প্রমাণ করল। সত্যিই, তিনি যেন ক্ষমতার আঙিনায় এক মানবিকতার নক্ষত্র।
Comments
Post a Comment