লক্ষাধিক ব্যয়ে নির্মিত নলকূপ এখন মাটির নিচে, কোথাও জঙ্গলে বন্দি! তীব্র জলসংকটে সামডি ও পাহাড়গড়া
চিত্তরঞ্জন প্রসাদ, সালানপুর:-
সরকারি উদাসীনতা নাকি চরম রক্ষণাবেক্ষণের অভাব? কারণ যা-ই হোক না কেন,প্রশাসনের নজরদারির অভাবে মাটির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে আস্ত একটা চাপাকল (নলকূপ)! কোথাও আবার বিকল অবস্থায় জঙ্গলের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রয়েছে পানীয় জলের উৎস। আর এর জেরে জলসংকটে ভুগছেন সালানপুর ব্লকের সামডি পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাহাড়গড়া এবং সামডি গ্রামের সাধারণ মানুষ।একসময় গ্রামবাসীদের পানীয় জলের কষ্ট দূর করতে লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে এই নলকূপগুলি বসানো হয়েছিল। কিন্তু আজ তা প্রশাসনের চরম অবহেলায় কার্যত বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধুমধাম করে এই চাপাকলগুলি তৈরি করা হলেও, চালুর পর থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর কোনো দেখভাল বা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে চারপাশের মাটি ও আবর্জনার স্তূপে ঢেকে যেতে যেতে নলকূপটির সিংহভাগ অংশই এখন মাটির নিচে তলিয়ে গেছে। অন্য একটি নলকূপ বিকল হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গলে ঢাকা পড়ে রয়েছে। বর্তমানে সেখান থেকে এক ফোঁটা জল পাওয়ারও কোনো উপায় নেই।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য "লক্ষ লক্ষ সরকারি টাকা খরচ করে কল বসানো হলো, অথচ আজ আমাদের জলের কষ্ট হচ্ছে। পঞ্চায়েতকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। কেউ এটা ঠিক করার ন্যূনতম উদ্যোগটুকুও নিচ্ছে না।"
গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, এই ডুবন্ত ও বিকল নলকূপগুলি সচল করার জন্য তারা বহুবার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে জানিয়েছেন। কিন্তু বারবার দরবার করার পরেও প্রশাসনের কান খোলেনি। কোনো জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মী আজ পর্যন্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এলাকায় আসেননি বলেই অভিযোগ।প্রবীণ গ্রামবাসীদের মতে, নলকূপগুলি এখনো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়নি। যদি অতি দ্রুত ব্লক প্রশাসন বা পঞ্চায়েত উদ্যোগ নিয়ে চারপাশের মাটি সরিয়ে এটিকে সংস্কার করে এবং জঙ্গল পরিষ্কার করে মেরামতের ব্যবস্থা করে, তবে চাপাকলগুলি আবার সচল করা সম্ভব।এতে একদিকে যেমন বিপুল সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ হবে, ঠিক তেমনই দুই গ্রামের কয়েকশো মানুষের দৈনন্দিন পানীয় জলের কষ্ট দূর হবে।
Comments
Post a Comment