বালির আকাল: থমকে নির্মাণ শিল্প, রুজি-রুটির সংকটে শ্রমিকরা
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
পশ্চিম বর্ধমানের নিয়ামতপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বালির তীব্র সংকট নির্মাণ শিল্পে গভীর প্রভাব ফেলেছে। বৈধভাবে বালি না পাওয়া, বাজারে সরবরাহ হ্রাস এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে ছোট-বড় নির্মাণ প্রকল্প কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর ফলে শুধু নির্মাণ কাজই নয়, বিপন্ন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার নির্মাণ শ্রমিকের রুজি-রুটি।
পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে, বহু ঠিকাদার ও নির্মাণকারী বাধ্য হয়ে বালির বিকল্প হিসেবে স্টোন ডাস্ট ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। তবে নির্মাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ক্ষেত্রে স্টোন ডাস্ট বালির বিকল্প হতে পারে না, যা নির্মাণের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিচ্ছে। নিয়ামতপুর সর্বজনীন ছটপুজো সমিতির সভাপতি শিব প্রসাদ রাউত জানান, বালির আকাশছোঁয়া দাম ও দুষ্প্রাপ্যতার কারণে ছটঘাট নির্মাণের মতো কাজও নির্ধারিত সময়ে শেষ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবীদের ওপর। নিয়মিত কাজ না মেলায় রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকরা কার্যত বেকার হয়ে পড়েছেন। সংসার চালাতে বহু শ্রমিক বাধ্য হয়ে ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা এমনকি দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কাজের সন্ধানে পাড়ি দিচ্ছেন। স্থানীয় ঠিকাদার ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন বাড়ি নির্মাণ থেকে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ—সবই এখন থমকে। এর জেরে সিমেন্ট-রড বিক্রেতা ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে।
সাধারণ মানুষ ও নির্মাণ ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বৈধ বালিঘাটগুলি চালু করে সরবরাহ স্বাভাবিক না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে এবং শ্রমজীবীদের কর্মসংস্থান বাঁচাতে দ্রুত প্রশাসনিক সমাধানের অপেক্ষায় দিশেহারা নিয়ামতপুর।
Comments
Post a Comment