বার্ণপুরের 'বানপুর জগন্নাথ মন্দির'-এ ভক্তিঘন স্নান পূর্ণিমা
অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
সোমবার ভক্তিমুখর পরিবেশে ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বার্ণপুরের 'বানপুর জগন্নাথ মন্দির'এ সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের স্নান পূর্ণিমা। সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের ঢল নামে। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার বিগ্রহ মূল মন্দির থেকে বিশেষ বেদিতে নিয়ে আসা হয়। এরপর ১০৮টি কলসের জল এবং প্রায় ৪৫ ধরনের ভেষজ, মধু ও ঘি-সহ পবিত্র উপাদানে চলে মহাস্নান।
মন্দিরের সেবায়ত প্রতাপ কুমার বারিক জানান, স্নান পূর্ণিমা জগন্নাথ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মহাস্নানের পর ভগবান জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং আগামী ১৫ দিন তিনি 'অনবসর ঘরে' নিভৃতে থাকেন। এই সময়ে আয়ুর্বেদিক উপায়ে তাঁর প্রতীকী সেবা ও চিকিৎসা চলে এবং ভক্তদের দর্শন বন্ধ থাকে। এরপর রথযাত্রার দিন ভগবান পুনরায় ভক্তদের মাঝে ফিরে আসেন। ১৯৭৮ সাল থেকে বার্ণপুরের এই মন্দিরটি শুধু ওড়িয়া সম্প্রদায়ের নয়, বরং বাঙালি ও পাঞ্জাবি সহ সব ধর্মের মানুষের মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
সেবায়ত মানস কুমার নায়কের মতে, কলিযুগের অবতার জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা গ্রীষ্মের দাবদাহে শীতলতার প্রতীক। পুরীর মন্দিরে 'সোনা কুয়ো'-র জল ব্যবহৃত হলেও, এখানে মন্দিরের নিজস্ব পবিত্র কুয়োর জল দিয়েই সম্পন্ন হয় এই আচার। তিনি আরও জানান, অনবসর শেষে ‘নবযৌবন দর্শন’-এর পর ভগবান রথে চড়ে ভক্তদের দর্শনে বের হন, যা পরম করুণাময়ের লীলা ও স্নেহের বহিঃপ্রকাশ।
দিনভর পূজা, আরতি ও ভজন-সংকীর্তনে মুখরিত ছিল মন্দির প্রাঙ্গণ। স্নান পূর্ণিমার এই উৎসবের পরেই বার্ণপুরের 'বানপুর জগন্নাথ মন্দির' সহ সমগ্র এলাকায় শুরু হয়েছে রথযাত্রার প্রস্তুতি। আগামী উৎসবকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে এখন থেকেই সাজ সাজ রব পড়ে গেছে।
Comments
Post a Comment