পশ্চিমবঙ্গে সুষম সার ব্যবহারের ওপর অনন্য নৌকা-ভিত্তিক সচেতনতা অভিযানের সূচনা করল আইসিএআর-সিআইএফআরআই (ICAR-CIFRI)

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো
ভারত সরকার
**************



কলকাতা, ২৭ মে, ২০২৬

সুস্থায়ী মৎস্যচাষ এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে উৎসাহ দিতে এক অভিনব সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিল আইসিএআর–সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইসিএআর–সিআইএফআরআই)। “মেরা গাঁও মেরা গৌরব” কর্মসূচির অধীনে হুগলি জেলার বলাগড় ব্লকের মৎস্যচাষিদের জন্য সারের সুষম ব্যবহারের ওপর একটি অভিনব সচেতনতা অভিযান আয়োজন করে।
মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের কাজের পরিবেশেই সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলতে একটি নৌকায় এই সচেতনতা অভিযান আয়োজন করা হয়। এর মূল বিষয় ছিল “সুস্থায়ী মৎস্যচাষের জন্য মাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং সারের সুষম ব্যবহারকে উৎসাহিত করা।” কর্মসূচিতে মাটির স্বাস্থ্য, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, জলের গুণমান এবং সুস্থায়ী অন্তর্দেশীয় মৎস্যচাষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইসিএআর–সিআইএফআরআই-এর অধিকর্তা ড. প্রদীপ দে কৃষিজমিতে নির্বিচারে ও অসমভাবে সার ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে, মাটির গুণমান নষ্ট হয় এবং অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান জলাশয়ে প্রবাহিত হয়, যা জলজ পরিবেশ ও মাছের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ড. দে মাটি ও জলের পরীক্ষার ভিত্তিতে সার প্রয়োগের ওপর জোর দেন এবং মৎস্যচাষিদের জৈব সার, জৈব উপাদান এবং নির্ভুল পুষ্টি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সারের সুষম ব্যবহার শুধু মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্যই নয়, পরিবেশগত ভারসাম্য, জলের গুণমান এবং মৎস্যসম্পদের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব বজায় রাখার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই কর্মসূচি চলাকালীন একটি প্রযুক্তিগত উপস্থাপনার সময় আরইএফ বিভাগের প্রধান ড. এস. কে. মান্না মাটির স্বাস্থ্য এবং জলজ বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। একই সাথে তিনি সুস্থায়ী মৎস্য উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল মৎস্যচাষের ক্ষেত্রে এগুলির গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন।
বৈজ্ঞানিক অধিবেশনগুলিতে সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করে বলেন, কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে বিষাক্ত উপাদান পুকুর, খাল এবং জলাভূমিতে প্রবাহিত হয়, যা জলজ জীববৈচিত্র্য ও মাছের বেঁচে থাকার জন্য গুরুতর ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনভিত্তিক সার প্রয়োগ, নির্দিষ্ট সময় অন্তর পুকুরের তলদেশের মাটি পরীক্ষা এবং সুষম পুষ্টি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়, যাতে পরিবেশের গুণমান বজায় রেখেই মৎস্যচাষের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা যায়।

এই সচেতনতা অভিযানটি সমন্বয় করেন ড. ডি. ভক্ত, ড. সুমন কুমারী এবং মিস টি. এন. চানু।

এই কর্মসূচিতে ২৫ জন নারী প্রতিযোগীসহ মোট ৩৫ জন মৎস্যচাষি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা শক্তিশালী সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং এই অঞ্চলে মৎস্য-ভিত্তিক জীবিকায় নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে প্রতিফলিত করে।
পশ্চিমবঙ্গে মৎস্যচাষ গ্রামীণ জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হওয়ায়, এই উদ্যোগটি সারের দক্ষ ব্যবহার, পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাস, পুকুরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু-সহনশীল মৎস্যচাষ পদ্ধতির বিষয়ে সচেতনতা জোরালো করবে বলে আশা করা হচ্ছে; যা শেষ পর্যন্ত উন্নত জীবিকা নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বে অবদান রাখবে।
*****************
SSS/RP/Kol/27.5.26…...

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

জামগ্রাম অঞ্চলে দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে বারাবনি বিধায়ক তথা মেয়র বিধান উপাধ্যায়