"আমাদের পাঠশালা", আউসগ্রামের যুবকদের মানবিক লড়াই


সৌভিক সিকদার, নিউজ হিন্দুস্থান -:

       একটি সুন্দর, আত্মনির্ভরশীল ও সচেতন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আউসগ্রামের দ্বারিয়াপুর গ্রামের সুব্রত, গোবিন্দ, টুবাই, শুভ, মুন্না, মিঠুন প্রমুখ একঝাঁক যুবক গড়ে তুলেছেন এক অনন্য উদ্যোগ—"আমাদের পাঠশালা"। কোনো সরকারি সাহায্য বা এনজিও-র পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচি পিছিয়ে পড়া শ্রেণির শিশুদের প্রকৃত শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত করার ব্রত নিয়েছে।

        অন্যতম ​উদ্যোক্তা দেবাঙ্কুর চ্যাটার্জ্জীর  মতে, বর্তমানে অনেক শিশুই কাঁধে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তাদের কাছে স্কুল মানে শুধু মিড-ডে মিলের উৎস। শিক্ষার প্রকৃত অর্থ থেকে তারা বঞ্চিত। এই পরিস্থিতি বদলাতেই "আমাদের পাঠশালা" প্রতিটি শিশুর নিয়মিত স্কুল উপস্থিতি, পড়াশোনার অগ্রগতি এবং সামগ্রিক মানসিক বিকাশের ওপর নিরবচ্ছিন্ন নজর রাখছে। পাশাপাশি, শিশুদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা জাগিয়ে তোলার কাজটিও সমান গুরুত্বের সাথে করা হচ্ছে। আর্থিক অভাবের কারণে যারা গৃহশিক্ষকের সহায়তা থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্য এই কর্মসূচির অধীনে বিনামূল্যে টিউশনের ব্যবস্থাও থাকছে।

       ​উদ্যোক্তাদের এই বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, শিশুদের এমন শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে যাতে তারা আগামী দিনে দায়িত্ববান ও সচেতন নাগরিক হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, সমাজকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারলে পরবর্তী সময়ে ফর্ম ফিল-আপ বা দরখাস্ত লিখে দেওয়ার মতো পরনির্ভরশীলতা আর থাকবে না। 

      আউসগ্রামের এই যুবকরা মনে করেন, এই নিঃস্বার্থ কাজে মানুষ হয়তো বেতন দেবে না, কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের যে তৃপ্তি, তা-ই হবে জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। সারা জীবনে যদি মাত্র পাঁচজন শিশুকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবেই এই প্রচেষ্টার সার্থকতা। তাদের এই মানবিক দৃষ্টান্ত স্থানীয় স্তরে নিরক্ষরতা দূরীকরণের এক উজ্জ্বল পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছে।

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

জামগ্রাম অঞ্চলে দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে বারাবনি বিধায়ক তথা মেয়র বিধান উপাধ্যায়