​ফলতায় বিজেপি-র ঐতিহাসিক জয়: ধূলিসাৎ ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’


​সংবাদদাতা, নিউজ হিন্দুস্থান - 

         দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে এক নতুন রাজনৈতিক ইতিহাসের সূচনা করলেন। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি যেমন নিজের আধিপত্য প্রমাণ করলেন, তেমনই এই ফলাফল রাজ্যের রাজনীতির বৃত্তে এক বড়সড় ধাক্কা ও চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

     ​রবিবার ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে কঠোর নিরাপত্তায় ভোট গণনা সম্পন্ন হয়। ২২ রাউন্ডের গণনায় শুরু থেকেই বিজেপি প্রার্থী ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে থেকে মোট ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬ ভোট পান। তবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল তৃণমূলের বিপর্যয়। একসময়ের শক্ত ঘাঁটি ফলতায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান মাত্র ৭ হাজার ৭৮৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছেন এবং তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তৃতীয় স্থানে থেকেছে কংগ্রেস। বিপরীতে, প্রত্যাশা ছাপিয়ে সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি ৪০ হাজার ৬৪৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।

       ​এই ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, তৃণমূলের এই ভরাডুবি প্রমাণ করে যে মানুষ সন্ত্রাস ও ভয়ের রাজনীতির অবসান চেয়েছেন। বিজয়ী প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা এই জয়কে ফলতার মানুষের ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে অভিহিত করেছেন। গণনাকেন্দ্রের বাইরে তৃণমূলের এজেন্ট না থাকাকেও বিজেপির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দেউলিয়া দশা বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।

     ​বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার এই রায় কেবল একটি কেন্দ্রের ফলাফল নয়, বরং দক্ষিণবঙ্গের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী। তৃণমূলের নীরবতা এবং বামেদের ঘুরে দাঁড়ানো—সব মিলিয়ে ফলতার উপনির্বাচন রাজ্যের রাজনীতির পারদ কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিল।

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

জামগ্রাম অঞ্চলে দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে বারাবনি বিধায়ক তথা মেয়র বিধান উপাধ্যায়