দেশের বিভিন্ন ধরনের আরশোলার প্রথম বৃহৎ ডিএনএ বারকোড লাইব্রেরি তৈরি করল জেডএসআই
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো
ভারত সরকার
**************
কলকাতা, ২৫ মে, ২০২৬
ভারতের জীববৈচিত্র্য গবেষণায় এক যুগান্তকারী সাফল্য হিসাবে বিজ্ঞানীরা উপদ্বীপ ভারতের আরশোলার জন্য প্রথম এবং বৃহত্তম ডিএনএ বারকোড রেফারেন্স লাইব্রেরি তৈরি করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতের আরশোলার গোপন বৈচিত্র্য সম্পর্কে আগে যে ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে। এতে এমন বহু কম পরিচিত, নথিভুক্ত না হওয়া গোষ্ঠী এবং দেশীয় প্রজাতির সন্ধান মিলেছে, যেগুলি পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না।
আরশোলাকে সাধারণত ভুলভাবে শুধুমাত্র গৃহস্থালির ক্ষতিকর কীট হিসাবে দেখা হয়, কিন্তু বন্য পরিবেশে থাকা অধিকাংশ প্রজাতিই ক্ষতিকর নয়। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন এবং বৈচিত্র্যময় কীটপতঙ্গ গোষ্ঠীগুলির মধ্যে একটি হিসাবে তারা জৈব পদার্থ পচিয়ে, পুষ্টি পুনর্ব্যবহার করে এবং বনাঞ্চলের খাদ্য শৃঙ্খলকে সমর্থন করে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বন্য প্রজাতিগুলি পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায়, এরা পরিবেশের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসাবেও কাজ করে।
জিনগত শনাক্তকরণের সাহায্যে যুগান্তকারী সাফল্যপ্রাপ্ত
এই গবেষণা দলটি—যার মধ্যে ছিলেন জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (জেডএসআই)-এর পশ্চিমাঞ্চলীয় কেন্দ্র (পুনে) ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কেন্দ্রের (চেন্নাই) বিজ্ঞানীরা এবং অধ্যাপক রামকৃষ্ণ মোর কলেজের (পুনে) গবেষকরা—১০০টিরও বেশি ডিএনএ বারকোড তাঁরা তৈরি করে ফেলেছেন।
ডিএনএ বারকোডিং একটি সুপারমার্কেট স্ক্যানারের মতো কাজ করে, যেখানে ছোট ও নির্দিষ্ট ডিএনএ সিকোয়েন্স ব্যবহার করে দ্রুত এবং অত্যন্ত নির্ভুলভাবে প্রজাতি শনাক্ত করা যায়। আধুনিক আণবিক প্রযুক্তির সঙ্গে প্রচলিত শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়ে এই গবেষণা বহুদিনের শ্রেণিবিন্যাস সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করতে সক্ষম হয়েছে এবং আগে নজরে না আসা বিবর্তনগত ধারাগুলিকেও চিহ্নিত করতে সমর্থ হয়েছে।
নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি
“এই গবেষণা দেখিয়েছে যে ডিএনএ বারকোডিং এখন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একটি শক্তিশালী পদ্ধতি হিসাবে উঠে এসেছে, যা গোপন প্রজাতির বৈচিত্র্য খুঁজে বের করা, শ্রেণিবিন্যাস সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করা এবং আরশোলার মতো কম পরিচিত গোষ্ঠীগুলিকে নথিভুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে,” বলে জানিয়েছেন কলকাতার জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অধিকর্তা ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়।
“ডিএনএ বারকোডিং প্রজাতি শনাক্তকরণের একটি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসাবে উঠে আসছে, যা প্রচলিত শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতির পরিপূরক হিসাবে কাজ করে—তবে, শর্ত এটি যে, রেফারেন্স বারকোড লাইব্রেরিগুলি যথাযথভাবে যাচাই ও প্রামাণিকীকরণ করা হয়েছে,” বলেন পুনের জেডএসআই পশ্চিমাঞ্চলীয় কেন্দ্রের (WRC) অফিস প্রধান ড. বাসুদেব ত্রিপাঠী।
“নতুনভাবে তৈরি করা এই বারকোড লাইব্রেরি শ্রেণিবিন্যাস ও বিবর্তনমূলক গবেষণা, জীববৈচিত্র্য মূল্যায়ন, পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ, সংরক্ষণ পরিকল্পনা, জৈব নিরাপত্তা, ক্ষতিকর প্রজাতি শনাক্তকরণ এবং ভারতের আরশোলা নিয়ে ভবিষ্যৎ জিনোম গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসাবে কাজ করবে,” বলে মন্তব্য করেন প্রধান লেখক মিস শবনম।
জেডএসআই (ZSI), ডব্লিউআরসি (WRC), পুনের ডিএনএ বারকোডিং স্টাডিজের টিম লিডার ড. কে.পি. দীনেশের মতে, "উপদ্বীপীয় ভারতের আরশোলাদের ওপর ডিএনএ বারকোড গবেষণা এন্ডেমিক বা স্থানীয় বংশধারার বিবর্তনীয় বৈচিত্র্য বোঝার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি সম্ভাব্য গন্ডোয়ানা ভূ-ভৌগোলিক সংযোগকে প্রকাশ করে এবং দীর্ঘমেয়াদী ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও মহাদেশীয় ইতিহাস কিভাবে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাণীজগৎকে রূপ দিয়েছে তা তুলে ধরতে সাহায্য করেছে।"
ভারতের জীববৈচিত্র্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ
বিশ্বের অন্যতম প্রধান মেগাডাইভার্স বা বিপুল জীববৈচিত্র্যময় দেশ হওয়া সত্ত্বেও, ঐতিহাসিকভাবে ভারতের কীট-পতঙ্গ জগতের একটি বড় অংশ বৈজ্ঞানিকভাবে উপেক্ষিত রয়ে গিয়েছিল। সেক্ষেত্রে, এই গবেষণাটি ভারতের সামগ্রিক পতঙ্গ জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি ব্যাপক ডিএনএ বারকোড রেফারেন্স লাইব্রেরি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই ফলাফলগুলি দেশের সমৃদ্ধ জৈবিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করার জন্য ধারাবাহিক অনুসন্ধান এবং আণবিক নথিবদ্ধকরণের জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেয়।
সম্পূর্ণ গবেষণাটির ফলাফল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শ্রেণীবিন্যাস সংক্রান্ত সাময়িকী Zootaxa-তে প্রকাশিত হয়েছে:
লেখক: শবনম, এ., সেনরাজ, এম., মোরে, আর. ও দিনেশ, কে. (২০২৬)
শিরোনাম: DNA barcodes and species delimitation reveal overlooked diversity in Indian cockroaches (Blattodea).
জার্নাল: Zootaxa, ৫৮১৪ (২), ২৭৬–২৯২
URL: https://www.mapress.com/zt/article/view/zootaxa.5814.2.6
******************
SSS/RP/Kol/25.5.26…..
Comments
Post a Comment