বহাল তবিয়তে দালাল রাজ, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ স্লোগান কি তবে নেহাতই কাগুজে ঘোষণা? ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুই মোটর ভেহিক্যালস ইন্সপেক্টর বা এমভিআই আধিকারিক সাসপেন্ড হয়ে জেল বা পুলিশি হেফাজতে থাকলেও, রামপুর এমভিআই চেকপোস্টে দিব্যি চলছে পুরনো কায়দায় ‘এন্ট্রি ফি’ আদায়ের রমরমা। সোমবার এক লরি চালকের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে এই তথ্য সামনে আসায় প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়েছে।
অভিযোগ, চেকপোস্ট পার হতে ওই চালককে অনলাইনে ২১০০ টাকা দিতে হয়েছে, যা জমা পড়েছে সুশান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে। এরপর একটি ফোনালাপ সামনে আসতেই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওর সত্যতা যাচাই না হলেও, সেখানে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে যে ‘ডান্ডা ট্যাক্স’ থেকে শুরু করে সমস্ত এন্ট্রি ফি আগের মতোই চালু রয়েছে এবং এমভিআই আধিকারিকদের ‘খরচ’ সামলাতে এই টাকা দিতেই হবে। এমনকি সদ্য ধৃত আধিকারিকদের চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয় ওই অডিওতে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নগদ লেনদেনের দিন শেষ করে এখন একেবারে নির্ভয়ে অনলাইনে চলছে এই চাঁদাবাজি। দূরদূরান্তের চালকদের একাংশের দাবি, হয়রানি ও গাড়ি আটকে রাখার ভয়ে বাধ্য হয়েই তাঁরা মুখ বুজে এই টাকা দিয়ে থাকেন। প্রশাসনিক কড়াকড়ির পরেও যদি রামপুরে এই দালাল রাজ অবাধে চলতে থাকে, তবে কেবল দু’একজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। এখন দেখার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের গভীরে পৌঁছাতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।
Comments
Post a Comment