'গুন্ডা দমন বিল' নাকি বিরোধী দমনের নতুন অস্ত্র? তুঙ্গে আশঙ্কা


রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:

       বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপটে রাজ্য সরকার 'গুন্ডা দমন বিল' পাস করালেও, সেই বিলের বৈধতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধী শিবির থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজের একাংশ- সবাই এই আইনকে দেখছেন বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার একটি নতুন 'লাইসেন্স' হিসেবে। এই প্রেক্ষিতে বিলটির তীব্র সমালোচনা করে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।

       ​মীনাক্ষীর স্পষ্ট অভিযোগ, নাম 'গুন্ডা দমন' হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের কুটিল ছক। তিনি তীব্র ভাষায় বলেন, "কাকে গুন্ডা বলা হবে, কাকে এই তকমা দেওয়া হবে, তা সম্পূর্ণ সরকারের ইচ্ছাধীন। যার গায়েই এই স্ট্যাম্প লেগে যাবে, তাকেই এই আইনের বলে দমন করা হবে।" তাঁর আশঙ্কা, সরকার নিজের সমালোচক বা অধিকারের লড়াইয়ে শামিল হওয়া মানুষকে নিশ্চিহ্ন করতে আইনি কবচ হিসেবে এই বিলকে ব্যবহার করবে।

       ​বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর নতুন শ্রমকোড আইনের উদাহরণ টেনে সিপিএম নেত্রী দাবি করেন, শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নিতে যেভাবে বিভিন্ন রাজ্যে আইন আনা হয়েছে, এই বিলটিও সেই একই লক্ষ্যপূরণে নামছে। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আতঙ্কই কাজ করছে যে, ন্যায়ের দাবি তুললেই এখন সরকার তাকে গুন্ডার তকমা দিয়ে কারাগারে পাঠাবে।

       ​এই আইন শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের কন্ঠরোধের হাতিয়ার হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মীনাক্ষী বলেন, এই বিল কেবল অগণতান্ত্রিকই নয়, বরং স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে উত্তরণের পথ প্রশস্ত করছে। সরকারের এই পদক্ষেপ আসলে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর এক চূড়ান্ত আঘাত। 

       এখন দেখার বিষয়, এই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকার কতটা স্বচ্ছ থাকে, নাকি মীনাক্ষীর আশঙ্কাই সত্যি হয়।

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

ইন্ডিয়া পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেডের ১০৪ বছর প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন