পশ্চিম বর্ধমানে তৃণমূলে ডামাডোল: সাত দিনের মাথাতেই ইস্তফা জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমান জেলাজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অপ্রত্যাশিত ভরাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে চূড়ান্ত ডামাডোল শুরু হয়েছিল। নির্বাচনী বিপর্যয়ের দায়ভার কার, তা নিয়ে প্রকাশ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। তৎকালীন জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নেতৃত্বকে সরাসরি নিশানা করে সরব হন দলের প্রাক্তন যুব সভাপতি কৌশিক মণ্ডল সহ জেলার একাংশ নেতা-কর্মী।
নির্বাচনী এই জোরালো ধাক্কার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য নেতৃত্ব কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দলের একাধিক শাখা সংগঠন ও জেলা স্তরের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের জোরালো ধারণা ছিল, এই রদবদলে জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বে নতুন কোনও মুখ উঠে আসবে। কিন্তু সমস্ত জল্পনাকে মিথ্যে প্রমাণ করে গত ১৩ জুন ফের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ওপরই আস্থা রাখে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের একাংশের প্রবল ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও তাকে পুনর্বহাল করার এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছিল।
তবে সেই আস্থার মেয়াদ টিকল মাত্র সাত দিন। পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে তিনি তার ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। কিন্তু তার এই আকস্মিক পদত্যাগের নেপথ্যে শুধু শারীরিক অসুস্থতাই রয়েছে, নাকি অন্য কোনও বড় কারণ আছে, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, পদত্যাগের ঠিক আগেই কলকাতায় বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর একটি বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পরেই তার ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ, পুনরায় পদে ফেরা এবং আচমকা ইস্তফা- সব মিলিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্বস্তি ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠেছে। এখন জেলার পরবর্তী কাণ্ডারী হিসেবে দল কাকে বেছে নেয় এবং এই রদবদল নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব কী বার্তা দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।
Comments
Post a Comment